Image description

আজ বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে ২০২৬-২৭ অর্থবছর। বাস্তবায়নে শুরু হচ্ছে ৩ লাখ কোটি টাকার নতুন বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)। কিন্তু সামনে থাকছে ১৬২টি বাধা। এগুলোর মধ্যে জাতীয়ভাবে ৩৮টি, সরকারি অর্থ খরচে ৭০ এবং বৈদেশিক ঋণ বা অনুদানের ক্ষেত্রে আরও ৫৪টি বাধা রয়েছে। বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) এসব চিহ্নিত করে সংশোধিত এডিপি অনুমোদনের সময় এনইসি বৈঠকে উপস্থাপন করেছিল। বছর বছর প্রায় একই বাধা থাকলেও নানা উদ্যোগ নেওয়ার পরও কার্যকর সমাধান মেলেনি।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে টাইমবাউন্ড ম্যাকানিজম তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। আগামীর সময়কে তিনি বলেছেন, প্রকল্প তৈরি, বাস্তবায়ন এবং ক্রয় কার্যক্রম— সবকিছুই একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আনা হচ্ছে। এর মধ্যে যারা ব্যর্থ হবেন, তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।

এদিকে আইএমইডির সচিব সিরাজুন নূর চৌধুরী বলেছেন, ‘আগে প্রকল্পে ভুল বা অনিয়মের সাজা হতো না। কিন্তু এখন প্রধানমন্ত্রী সিরিয়াস। সঙ্গে আমরাও সিরিয়াস। তাই প্রকল্পের গতি বাড়াতে অনেক নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এগুলো কার্যকর হলে এডিপির গতি বাড়বে। প্রকল্প মনিটরিংয়ে ড্যাশবোর্ড তৈরি হচ্ছে।’

সূত্র জানায়, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এডিপি বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে এসব চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করেছে আইএমইডি। জাতীয়ভাবে চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো— প্রকল্প নেওয়ার সময় সম্ভাব্য সমীক্ষা না করা, জমি অধিগ্রহণের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু না করা, মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামোর সিলিং না মানা, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে দেরি এবং প্রকল্পের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সঠিক ও কার্যকর ব্যবস্থা না থাকা। এ ছাড়া প্রকল্পের কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না করা, কর্মপরিকল্পনা না মানা, নিয়মিত পিআইসি ও পিএসসি বৈঠক না করা, ইউটিলিটি স্থানান্তরে সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের অভাব, ক্রয় কার্যক্রমে দীর্ঘ সূত্রতা, প্রকল্প শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে পিসিআর না দেওয়া এবং প্রকল্প শেষে ফলাফল স্থায়িত্বকরণের পরিকল্পনা না থাকা।

সরকারি তহবিলের অর্থ খরচের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি চ্যালেঞ্জ হলো— ভূমি অধিগ্রহণ ও জমির জটিলতা, অর্থ ছাড়ে দেরি ও অপ্রতুলতা, ইউটিলিটি সিফটিং কাজে অনেক ক্ষেত্রে কোড না থাকা, নকশায় ত্রুটি, ক্রয় প্রস্তাব সিসিজিপিতে অনুমোদন না হওয়া, বর্ষার কারণে অর্থবছরের শুরুতেই কাজ শুরু করতে না পারা এবং পরামর্শক নিয়োগে দেরি হওয়া। আরও আছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা, মাঝপথে নতুন অঙ্গ যুক্ত করা এবং চাহিদার তুলনায় কম অর্থ ছাড় পাওয়া।

বৈদেশিক ঋণে বা অনুদানের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য চ্যাঞ্জেগুলো হলো— প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে উন্নয়ন সহযোগীদের অনুমতি নেওয়া, ক্রয়সংক্রান্ত জটিলতা, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যথাসময়ে বিল দাখিল না করা, প্রকল্প অনুমোদনের প্রশাসনিক আদেশ জারিতে দেরি এবং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান নির্বাচনে জটিলতা। আরও আছে, আমদানি করা নির্মাণসামগ্রী দেশে পৌঁছাতে দেরি, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান নির্বাচনে জটিলতা, ঠিকাদারদের আর্থিক সক্ষমতার ঘাটতি এবং চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ থেকে মালামাল আনলোডিংয়ে জট। এ ছাড়া ক্রয় কার্যক্রমের প্রতিটি ধাপে উন্নয়ন সহযোগীদের সম্মতি নিতে বাধ্য হওয়া এবং প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের দক্ষতায় ঘাটতি।

আইএমইডির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, কোনো অর্থবছরই এডিপি বাস্তবায়নের লক্ষ্য পূরণ হয়নি। মূল এডিপিতে যে বরাদ্দ ধরা হয়, মাঝপথে এসে সেটি কাটছাঁট করে সংশোধিত এডিপিতে কমানো হয়। অর্থবছর শেষে সেটিও কাঙ্ক্ষিত বাস্তবায়ন হয় না। সেই সঙ্গে সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষ না হওয়ায় হাজার হাজার কোটি টাকা অপচয় হচ্ছে।