ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজারের একটি মন্তব্য নিয়ে বাংলাদেশে তুমুল রাজনৈতিক তোলপাড় চলছে। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানেও ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের কার্যক্রম থাকতে পারে।
এরই মাঝে বাংলাদেশের ভেতরে শুরু হয়েছে আরবি লিপিতে ইসলামি লেখা খচিত কালো-সাদা রঙের পতাকা ওড়ানো নিয়ে বিতর্ক। আর এই পতাকা নিয়ে রাজনীতিবিদ, নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও পুলিশের একেক রকম ব্যাখ্যায় ঘি ঢেলেছে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য।
ফলে বিষয়টি আর সাধারণ পতাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি এখন দেশের নিরাপত্তা, বিদেশি প্রভাব ও রাজনীতির এক বড় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
রাষ্ট্রদূত আজার সম্প্রতি ভারতের একটি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ঘটনার পর থেকেই বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে হামাসের সম্ভাব্য কর্মকাণ্ডের ওপর কড়া নজর রাখছে ইসরায়েল। তার এই দাবি দেশের ভেতরের এই স্পর্শকাতর আলোচনাকে আন্তর্জাতিক রূপ দিয়েছে।
ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজারের একটি মন্তব্য নিয়ে বাংলাদেশে তুমুল রাজনৈতিক তোলপাড় চলছে। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানেও ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের কার্যক্রম থাকতে পারে।
এরই মাঝে বাংলাদেশের ভেতরে শুরু হয়েছে আরবি লিপিতে ইসলামি লেখা খচিত কালো-সাদা রঙের পতাকা ওড়ানো নিয়ে বিতর্ক। আর এই পতাকা নিয়ে রাজনীতিবিদ, নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও পুলিশের একেক রকম ব্যাখ্যায় ঘি ঢেলেছে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য।
ফলে বিষয়টি আর সাধারণ পতাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি এখন দেশের নিরাপত্তা, বিদেশি প্রভাব ও রাজনীতির এক বড় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
রাষ্ট্রদূত আজার সম্প্রতি ভারতের একটি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ঘটনার পর থেকেই বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে হামাসের সম্ভাব্য কর্মকাণ্ডের ওপর কড়া নজর রাখছে ইসরায়েল। তার এই দাবি দেশের ভেতরের এই স্পর্শকাতর আলোচনাকে আন্তর্জাতিক রূপ দিয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে এই পতাকা বিতর্কের শুরু হয় মূলত কয়েকজন ধর্মীয় নেতার হাত ধরে। তারা বিশ্বকাপ ফুটবলের সময় বিভিন্ন দেশের জাতীয় পতাকার বদলে ইসলামি লিপি খচিত পতাকা ওড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন।
এই আহ্বান জানানোর পেছনে ছিলেন হেফাজতে ইসলামের নেতা মুফতি হারুন ইজহার। তিনি তার সমর্থকদের ইসলামি পরিচয়ের অংশ হিসেবে এই পতাকা ওড়াতে বলেন। এরপর দেশের কিছু জায়গায় জনসভায় এই ধরনের কালো-সাদা পতাকা দেখা যেতে থাকে।
একই সময়ে ঢাকার যাত্রাবাড়ীর জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলুম মাদ্রাসার শিক্ষক মো. আমিনুল হক ‘সদাকাহ প্রজেক্ট’ নামের একটি কর্মসূচির মাধ্যমে দেশজুড়ে ১০ হাজার ‘তৌহিদি পতাকা’ বিতরণের ঘোষণা দেন। জানা গেছে, তিনি ‘জুলাই রেভল্যুশনারি ক্যারাভান’ নামের একটি ফেসবুক পেজও চালান।
তবে দেশের নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও কূটনীতিকরা সতর্ক করে বলছেন, উগ্রপন্থীদের পতাকার সঙ্গে মিল থাকা এই কালো-সাদা পতাকা ওড়ালে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভুল বার্তা যেতে পারে এবং দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হতে পারে।
ছবি: সংগৃহীত
কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এই ঘটনাকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। তাদের ভয়, এই বিষয়টিকে যদি বড় করে দেখানো হয়, তবে আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশকে নিরাপত্তাহীন প্রমাণ করার একটি বড় অজুহাত তৈরি হতে পারে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ এফ জগলুল আহমেদ মনে করেন, রাজনৈতিক চাপ তৈরি করার জন্য এই ঘটনাকে ইচ্ছাকৃতভাবে বড় করে দেখানো হচ্ছে। টাইমস অব বাংলাদেশ’কে তিনি বলেন, একটি গোষ্ঠী এই ইস্যুর ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে সরকারের মধ্যে একটা বানোয়াট আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা করছে।
তার মতে, সরকারের উচিত হবে এতে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে, যারা রাজনৈতিক পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে তাদের দিকে কড়া নজর রাখা।
তবে অন্যান্য বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক শক্তি এখানে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করতে পারে। উগ্রবাদের এই গল্পকে অনেকেই নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারে।
সাবেক রাষ্ট্রদূত মো. আব্দুল হাই বলেন, এ ধরনের কাজের ফলে বিশ্বে বাংলাদেশের একটি খারাপ চিত্র তৈরি হতে পারে। যেকোনো দেশের জন্যই মৌলবাদী শক্তির উত্থান ক্ষতিকর।
ছবি: সংগৃহীত
তিনি মনে করেন, এতে বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি হবে, যা শেষ পর্যন্ত অর্থনীতিতে আঘাত হানবে।
তিনি আরও বলেন, দিনশেষে বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোই এর সুবিধা নেবে। তিনি সরকারকে পরামর্শ দেন, দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিকভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। দরকার হলে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
অবশ্য ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) বিষয়টি নিয়ে বেশ নরম সুরেই কথা বলেছে। ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম টাইমস’কে জানান, যারা এই পতাকা ওড়ানোর সঙ্গে জড়িত ছিল, পুলিশ তাদের সঙ্গে কথা বলেছে।
পুলিশকে তারা জানিয়েছে, আর্জেন্টিনা বা ব্রাজিলের মতো বিদেশি পতাকার অতিরিক্ত ওড়ানোর প্রতিবাদেই তারা প্রতীকী হিসেবে এই পতাকা তৈরি করেছিল।
ছবি: সংগৃহীত
এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া এতটা বড় হবে তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বুঝতে পারেননি। তারা এখন তাদের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। সবচেয়ে বড় কথা, পুলিশের তদন্তে এখন পর্যন্ত এ ঘটনার পেছনে কোনো উগ্রপন্থী বা বিদেশি অর্থায়নের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এদিকে, এ বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো একে অপরের দিকে কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু করেছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতা শফিকুল ইসলাম মাসুদ অভিযোগ করেছেন, সাবেক শাসক দল আওয়ামী লীগ আন্তর্জাতিক মহলে ফায়দা লোটার জন্য সব সময় দেশে উগ্রবাদের ভয় দেখাত। এখন ক্ষমতা হারানোর পরও তারা একই নাটক সাজানোর চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, দেশের সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ কখনোই উগ্রবাদ পছন্দ করে না।
জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা আতিকুর রহমান মুজাহিদ এই পতাকার ঘটনাকে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র বলে মনে করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ এবং প্রতিবেশী ভারত মিলে বাংলাদেশে উগ্রবাদ বাড়ছে—এমন একটি মিথ্যা গল্প তৈরি করার চেষ্টা করছে। তিনি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
ছবি: সংগৃহীত
এ ঘটনার জন্য ইসলামপন্থী দলগুলোকে দায়ী করছে ক্ষমতাসীন। দলটির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ফজলুর রহমান অভিযোগ করেন, যারা এই পতাকা ওড়াচ্ছে তারা নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। একটি মৌলবাদী গোষ্ঠী বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল দেখানোর চেষ্টা করছে।
তিনি আরও দাবি করেন, বাংলাদেশকে জঙ্গি রাষ্ট্র বানানোর জন্য হিজবুত তাহরীরকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুও একই আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এই বিশৃঙ্খলার পেছনে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ছাত্র সংগঠন রয়েছে। ৫ আগস্টের পর দেশে যেভাবে যেকোনো ইস্যুতে মানুষ দল বেঁধে নেমে পড়ছে, তা দেশের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে।
অন্যদিকে, পতাকা ওড়ানোর ডাক দেওয়া মুফতি হারুন ইজহার উগ্রপন্থীদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগের কথা পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন।