ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে খেলা দেখতে গিয়ে এক নারীসহ সাবেক ছয় শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে হল সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক ও ছাত্রশিবির-সংশ্লিষ্ট এক নেতার বিরুদ্ধে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের মাঠে একযোগে খেলা দেখেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল নারী শিক্ষার্থী।
রোববার (২৮ জুন) সকাল ৮টায় সুফিয়া কামাল হলের ভিপি ও জিএসের উদ্যোগে আর্জেন্টিনা ও জর্ডানের মধ্যকার ম্যাচটি উপভোগ করেন নারী শিক্ষার্থীরা। পরে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে একটি স্মারকলিপি জমা দেন।
এদিকে ঘটনার বিষয়ে হেনস্তার শিকার শিক্ষার্থীরা প্রক্টর অফিসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। একই সঙ্গে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ছাত্রদল।
ঘটনার পর গত দুই দিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপে এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি আলোচনা ও বিতর্ক চলছে। একপক্ষ ঘটনাটিকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ বলে দাবি করলেও, অন্যপক্ষ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
এরই মধ্যে শনিবার মধ্যরাতে নিজের কক্ষের সামনে ছাত্রদলের কর্মীরা সংঘবদ্ধভাবে অবস্থান নিয়ে নিরাপত্তা বিঘ্নিত করেছেন বলে অভিযোগ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন অভিযুক্ত সমাজসেবা সম্পাদক মো. সাজু মিয়া।
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৪০ মিনিটে ছাত্রদলের সদস্যসচিব মো. জুনায়েদ আবরারের নেতৃত্বে প্রায় নয়জনের একটি দল আমার কক্ষের সামনে আসে। তারা আমার নাম ধরে ডাকাডাকি ও খোঁজাখুঁজি করে। আমার কক্ষে প্রবেশ করে সেখানে থাকা শিক্ষার্থীদের কাছে আমি কোথায় আছি, কখন বের হয়েছি এবং আমার অবস্থান সম্পর্কে জানতে চায়।
এ ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যও তিনি প্রক্টরের কাছে দাবি জানিয়েছেন।
ছয়জনকে হেনস্তার অভিযোগ
হেনস্তার শিকার এক সাবেক শিক্ষার্থী জানান, গত শুক্রবার রাতে নরওয়ে ও ফ্রান্সের মধ্যকার খেলা দেখতে তিনি আরও পাঁচজন সাবেক শিক্ষার্থীকে নিয়ে হলের রেজিস্টার খাতায় নাম লিখে মাঠে যান। এরপরও হলের একদল শিক্ষার্থী তাদের ঘিরে ধরে মাঠ ছেড়ে যেতে চাপ দেয়। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা এক নারীকে হেনস্তা করা হয়।
তার দাবি, হেনস্তাকারীদের মধ্যে হল সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক মো. সাজু মিয়াও ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, তিনি ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
তবে মো. সাজু মিয়া তার বিরুদ্ধে আনা হেনস্তার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।