২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনকালে দেশের অনেক সংবাদমাধ্যমে বিরোধী দল ও মতের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রায়ই তথ্য-প্রমাণহীন প্রোপাগান্ডা প্রতিবেদন প্রকাশিত হতো। দেশের সবচেয়ে বেশি মিডিয়া হাউজের মালিক হিসেবে পরিচিত বসুন্ধরা গ্রুপের সংবাদমাধ্যমগুলোতেও নিয়মিত বিরোধী দল ও নেতাদের নিয়ে নামপরিচয়হীন সূত্রের বরাতে এবং কোন ধরনের প্রমাণ ছাড়া বহু আজগুবি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। অভ্যুত্থানের পর সেরকম বেশ কিছু প্রতিবেদন কোন ধরনের ব্যাখ্যা দেয়া ছাড়াই সরিয়ে নেয়া হয়েছে গ্রুপটির মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যমগুলোর ওয়েবসাইট থেকে। তবে বেশ কিছু প্রতিবেদন এখনও ওয়েবসাইটে বহাল তবিয়তে রয়েছে।
এর মধ্যে 'বাংলাদেশ প্রতিদিন' নামক দৈনিক পত্রিকার ওয়েবসাইটে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে (নির্বাচনের আগে) ‘দেশের রাজনীতিতে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতা’ নামে ৫টি প্রতিবেদনের সিরিজ প্রকাশ করে। এসব রিপোর্টে অজ্ঞাত সূত্রের বরাতে ন্যুনতম কোন প্রমাণ উপস্থাপন ছাড়াই দাবি করা হয় যে, তখন লন্ডনে অবস্থান করা তারেক রহমানের সাথে পাকিস্তানি গোয়ন্দা সংস্থা আইএসএই এর বৈঠক হয়েছে। এর বাইরে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং তখনকার কোটা আন্দোলনকে নিয়ে আরও নানান ধরনের অপ্রমাণিত বা ভিত্তিহীন দাবি ওই প্রতিবেদনগুলোতে প্রকাশ করা হয়েছিল।

বাংলাদেশ প্রতিদিন ২০১৮ সালের ১৯ থেকে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ‘দেশের রাজনীতিতে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতা’ শিরোনামে একটি বিশেষ ধারাবাহিক প্রকাশ করে।
কয়েকটি প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ‘তারেক-আইএসআই নিবিড় যোগাযোগ’, ‘বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থী তালিকা আইএসআইয়ের বানানো’, ‘সড়ক আন্দোলনেও ইন্ধন ছিল পাকিস্তানি আইএসআইর’।
এর মধ্যে ২০১৮ সালের ২১ ডিসেম্বর প্রকাশিত ‘তারেক-আইএসআই নিবিড় যোগাযোগ’ শিরোনামের প্রতিবেদনে দাবি বলা হয়, ‘অনুসন্ধানে জানা গেছে, লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গেও আইএসআইর রয়েছে নিবিড় যোগাযোগ। জানা গেছে, সৌদি আরবের জেদ্দায় গত ৪ জুলাই তারেক রহমানের সঙ্গে আইএসআইর শীর্ষস্থানীয় দুই কর্মকর্তার একটি বৈঠক হয়েছে।’

পরদিন ডিসেম্বরের ২২ তারিখ “বিএনপি জামায়াতের প্রার্থী তালিকা আইএসআইয়ের বানানো” শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয় হয়, “আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনীতিতে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্সের (আইএসআই) বিশেষ তৎপরতা দেখা গেছে। নির্বাচনে তারা তাদের পছন্দের লোকদের বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থী মনোনীত করার জন্য প্রভাব খাটিয়েছে। সংসদের ৩০০ আসনে আইএসআইয়ের তৈরি করা একটি প্রার্থী তালিকা বিএনপির কাছে পাঠানো হয় ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে। লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতে এ তালিকা পৌঁছানো হয়।”
২৩ ডিসেম্বর প্রকাশিত ধারাবাহিকের শেষ পর্ব ‘সড়ক আন্দোলনেও ইন্ধন ছিল পাকিস্তানি আইএসআইর’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ প্রতিদিন দাবি করে, ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনেও পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই মদদ দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিএনপি নেতাদের সঙ্গে আইএসআইয়ের কথোপকথনে এই অপচেষ্টার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদনটিতে আরও দাবি করা হয়, আইএসআইয়ের সহায়তায় বিএনপি চীনের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছিল।