প্রস্তাবিত ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট ফ্যাসিস্ট সরকারের লোকদের দিয়ে তৈরি করা হয়েছেে এবং এতে জুলাইয়ের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম-১৫ আসনের বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য শাজাহান চৌধুরী।
শনিবার সকালে জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, বিশাল আশা নিয়ে এই পার্লামেন্ট গঠিত হয়েছে। নির্বাচনের আগে যে শ্লোগান ছিল-চলো একসাথে গড়ি বাংলাদেশ, প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে আজ সংসদে দেয়া বক্তব্যে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সেই কথার প্রমাণ দিয়েছেন।
শাজাহান চৌধুরী বলেন, জনপ্রশাসনে ১৮ বছরে যারা সুবিধা নিয়েছেন, তাদেরকে সরালেন না অথচ যারা নির্যাতিন, বঞ্চিতদের আস্তে আস্তে বিদায় করে দিচ্ছেন। তাই এই বাজেট ৩৬ জুলাইয়ের চেতনার লোকদের দিয়ে করালে আশা-আকাঙ্খার বাজেট হতো, তা হয়নি।
তিনি বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বক্তব্য দেয়ার সময় জামায়াত আমির অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তিনি তখন দেশেই চিকিৎসা নিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, নির্বাচিত হলে আমরা কোন ট্যাক্সবিহীন গাড়ি, সরকারি প্লট সুবিধা নেব না।
বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী বলেছেন-ব্যবসাকে সহজ করেছে এই বাজেট। তিনি ব্যবসায়ী হওয়ায় ব্যবসার জন্য বাজেট দিয়েছেন, বাংলার মানুষের জন্য নয়।
তিনি বলেন, মরহুম সাইফুর রহমানের সময় বাজেট তৈরি করার আগে বিরোধীদলের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। কিন্তু বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের বাজেট যারা তৈরি করেছে, এবারের বাজেটও তারা তৈরি করেছেন। এটা জুলাইয়ের বাজেট নয়।
জামায়াতের এমপি শাজাহান চৌধুরী বলেন, মাওলানা নিজামী চারদলীয় জোট সরকারের সময় কৃষিমন্ত্রী হিসেবে কৃষকদের জন্য যে পরিবর্তন করেছিলেন, ৫৪ বছরে অন্য কোন সরকারের বাজেটে সেটা দেখাতে পারেননি। গাছ রোপনের চিন্তাধারা সফল করেছিলেন মাওলানা নিজামী। এবার কৃষকদের অবহেলা করা হয়েছে। আগের চেয়ে বাজেট কমিয়ে দেয়া হয়েছে। কৃষক ছাড়া দেশ বাঁচবে না। অবশ্যই বাজেটে বরাদ্দ বাড়াতে হবে।
তিনি বলেন, এবার ১৫টি মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত বাজেটে দেয়া হয়েছে, কিন্তু ৯টি মন্ত্রণালয় ধুকে ধুকে মরছে। গ্যাসের চাহিদা বাড়ছে, আমদানি করতে হয়। আমরা একটা গ্যাস কূপও আবিস্কার করতে পারিনি। চট্টগ্রামের গ্যাস ফিল্ড পরীক্ষা-নীরিক্ষার ব্যবস্থা করা হোক। গ্যাস অনুসন্ধানে বাজেট বাড়ানো হোক।
তিনি প্রসঙ্গক্রমে বলেন, এখন ফতোয়া সংসদে দেয়া হয়। বলা হয়-জামায়াতে ইসলামী ইসলামী দল নয়, ফখরুল ইসলামও ইসলাম নয়। এ ধরণের কথার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, জামায়াতকে জানতে হলে ১০০ বছরের ইতিহাস জানতে হবে। জামায়াত নিয়ে ফতোয়া দেয়া যাবে না। ইসলামী দল নয় যিনি বলেন, তার কাছ থেকেই আমরা ফতোয়া নেব।
তিনি বলেন, জামায়াত অন্যান্য ইসলামী দলের মত নয়, নিয়মতান্ত্রিক গণতান্ত্রিকভাবে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে জামায়াত। এজন্য নির্বাচনের আগে আমাদের বক্তব্য ছিল-আমরা ন্যায়-ইনসাফের একটি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই।
শাজাহান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশকে ধ্বংস করেছে এসআলমের মাসুদ। তার বিচার করতে পারেনি সরকার। ইসলামী ব্যাংক ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি সরকারের প্রতি আহবান জানিয় বলেন, আসুন, দেশ-জাতির স্বার্থে দয়াকরে ৯টি মন্ত্রণালয়ে বাজেট বাড়ানোর চিন্তা করুন।
তিনি বলেন, পুলিশে এখনো ১৪০০ শূন্য পদে নিয়োগের কথা বলেছেন, কিন্তু ফ্যাসিস্টের আমলে নিয়োগপ্রাপ্তদের কথা বলছেন না। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরকে আধুনিকায়ন করতে হবে। খালেদা জিয়া চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণা করেছিলেন, সেটা বাস্তবায়ন করার জন্য যা যা করার করা হোক।