Image description

ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাস জুড়ে। টিএসসি, ভিসি চত্বরসহ বিভিন্ন আবাসিক হলে বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন ঘিরে শিক্ষার্থীদের মাঝে তৈরি হয়েছে দারুণ উৎসবমুখর পরিবেশ। গভীর রাত কিংবা ভোরেও প্রিয় দলের খেলা দেখতে ক্যাম্পাস মুখরিত হয়ে উঠছে। তবে এই ভিড়ের মধ্যেই সামনে এসেছে নিরাপত্তা নিয়ে কিছু বাস্তব উদ্বেগ। এমন পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি ও ফটোকার্ড ঘিরে তীব্র বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে; যেখানে দাবি করা হচ্ছে, টিএসসিতে বড় পর্দায় বিশ্বকাপ খেলা দেখা বন্ধের আবেদন জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।

তবে তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রচারিত এই দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ডাকসুর পক্ষ থেকে বড় পর্দায় খেলা বন্ধের কোনো দাবি জানানো হয়নি; বরং ক্যাম্পাসে বাড়তে থাকা উপচে পড়া ভিড়ের প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যই প্রক্টরের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।

ছবির আসল উৎস ও ডাকসু নেতাদের অবস্থান

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২৩ জুন ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেনের অফিশিয়াল ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি পোস্টে এই ঘটনার প্রকৃত প্রমাণ মেলে। সেখানে ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ এবং কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ইসরাফিল রতনের হাতে একটি স্মারকলিপি তুলে দিতে দেখা যায়। এই আসল ছবিটিকে ব্যবহার করেই পরবর্তীতে ভিন্ন অসত্য দাবি জুড়ে ভুয়া ফটোকার্ড বানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়।

ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন তাঁর পোস্টে স্পষ্ট করে লিখেছেন, বিশ্বকাপের উন্মাদনা শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সমান জরুরি। বিশেষ করে গভীর রাতে ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশকে তিনি চরম উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন এবং আগের দিন তাঁরা বিষয়টি সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছেন বলেও জানান। এই নিরাপত্তা সংকটের বিষয়টি নিয়েই প্রক্টরের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করে নিরাপত্তা জোরদারের আশ্বাসও মিলেছে।

স্মারকলিপির মূল বিষয়বস্তু

প্রক্টর বরাবর জমা দেওয়া স্মারকলিপির বিষয়বস্তু বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সেখানে নিরাপত্তা বাড়ানোর নানা বাস্তবসম্মত প্রস্তাব ও সুপারিশ করা হয়েছে। খেলা শুরুর আগে থেকে শেষ হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশদ্বারগুলো কঠোর নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং শুধুমাত্র বৈধ পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) চেক করে ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। অন্য আরেকটি স্মারকলিপিতে বহিরাগতদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশে সাধারণ শিক্ষার্থীরা যে ধরনের সমস্যার মুখে পড়ছেন, তার বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। পুরো স্মারকলিপির কোথাও বড় পর্দায় খেলা দেখা বন্ধ করার কোনো কথা উল্লেখ নেই।

সামগ্রিক তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ শেষে এটি স্পষ্ট যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের নিয়ন্ত্রণ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা জোরদার করার একটি প্রশাসনিক উদ্যোগকে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বাস্তবতার সাথে কোনো মিল না রেখে, একটি দায়িত্বশীল স্মারকলিপি প্রদানের ছবিকে বিকৃত করে "টিএসসিতে খেলা বন্ধের দাবি" হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।