ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কালেমা খচিত তাওহিদী পতাকা হাতে মিছিল ও শোডাউনের ঘটনায় নানা প্রশ্ন জন্ম নিয়েছে। অনেক স্থানে রাস্তার পাশে লাগানো হচ্ছে বিশাল আকৃতির এই পতাকা। দিন দিন এর সংখ্যা বাড়ছে।
হঠাৎ কেন এমন পতাকা হাতে মিছিল-শোডাউন; এর কারণ খুঁজতে মাঠে নেমেছে পুলিশ। আল কায়েদা, আইএস, তালেবানের পতাকার আদলে পতাকা ওড়ানোর পেছনে কোন ষড়যন্ত্র বা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হিযবুত তাহরীরের সম্পৃক্ততা আছে কিনা খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দারা।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ শুক্রবার সকালে টাইমসকে বলেছেন, ‘কালেমা খচিত পতাকা উড়ানোর বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।’
হেফাজত ইসলামের এক নেতা ও ঢাকার একটি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বিশ্বকাপ ফুটবল উন্মাদনায় লাগানো বিভিন্ন দেশের পতাকা বিপরীতে এই পতাকা ওড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। এর পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে এমন পতাকা হাতে মিছিল ও টাঙানো হচ্ছে।
ঢাকার যাত্রাবাড়ি মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের ওপর, মতিঝিল শাপলা চত্বর, সন্দ্বীপ, পাবনার আলিয়া মাদ্রাসা, চট্রগ্রাম হাটহাজারীতে ছাত্র জনতার মঞ্চ, যশোরে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সহসভাপতি মুহাম্মদ আজিজুর রহমানের নেতৃত্বে খুলনা বাসস্ট্যান্ড মনিহার চত্বর, মাদারীপুর, বাগেরহাট, সিলেটের কানাইঘাট, গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়া, জামালপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ কয়েকটি জেলায় কালেমা খচিত তাওহিদী পতাকা হাতে মিছিল ও মোটরসাইকেলে শোভাযাত্রা করা হয়েছে।
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারের হেমায়েতপুর থেকে সিংগাইরের সড়ক এবং শহীদ রফিক সেতুর উপরে এমন কয়েকশ পতাকা টাঙানো হয়েছে। সাদা রঙের কাপড়ে কালো রঙে লেখা আবার কোথাও কালো রঙের কাপড়ে সাদা রঙে লেখা পতাকা ব্যবহার করা হচ্ছে।
ঢাকার যাত্রাবাড়ি ফরিদাবাদের জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলুম আরবি ইউনিভার্সিটির শিক্ষক মো. আমিনুল হক ঘোষণা দিয়ে ‘সাদক্বাহ প্রজেক্ট’-এর নামে ১০ হাজার কালেমা খচিত তাওহিদী পতাকা সারাদেশে ছড়িয়ে দিয়েছেন। আমিনুল ‘জুলাই বিপ্লবী কাফেলা’ ফেসবুক পেজের এডমিন।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, ২০২৪ সালের অক্টোবরে ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় কালেমা খচিত কালো পতাকা নিয়ে মিছিল হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। মিছিল থেকে ফিলিস্তিনে গণহত্যা বন্ধ, ইসলামের নবীকে কটূক্তির প্রতিবাদ কিংবা ইসলামি খেলাফত কায়েমেরও দাবি তুলতে দেখা যায়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, তখন যারা কালো পতাকা নিয়ে মিছিল করছে তারা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হিযবুত তাহরীরের সদস্য। এর পর অভিযান শুরু হলে বেশ কয়েকজনকে আটক হয়। এবারও পতাকার আড়ালে কোন নিষিদ্ধ সংগঠন রয়েছে কিনা তার তথ্যানুসন্ধান চলছে।
পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাংলাদেশি দেওবন্দি আলেম ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সাবেক শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পাদক মুফতি হারুন ইজহার সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আহ্বান করে বলেন, ‘দেশে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা উপলক্ষে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দেশের পতাকা ওড়ানো হয়েছে। তোমরা সারাদেশে কালেমা খচিত তাওহিদী পতাকা উড়িয়ে দাও।’
চট্টগ্রামের আল জামিয়া ইসলামিয়া লালখানবাজার মাদ্রাসার সাবেক এই সহকারী পরিচালক টাইমসকে বলেছেন, ‘ভিনদেশী পতাকা ওড়ানো দৃষ্টিকটু। এর কাউন্টার হিসাবে ইসলামী সংস্কৃতির জায়গা থেকে কালেমার পতাকা উড়াতে বলা হয়েছে। তবে একটি শ্রেণি এর ভিন্ন ব্যাখ্যা তৈরি করে অপপ্রচার করছে, এটা ঠিক না।’

তিনি বলেন, কালেমার পতাকা নিয়ে যেভাবে শোডাউন করা হচ্ছে এটাও ঠিক না। ইসলাম এটি বলেনি। ইসলাম কালেমার দাওয়াত দিতে বলেছে। এই পতাকার আড়ালে হিযবুত তাহরীর বা কোনো সংগঠন নেই বলেও মনে করছেন তিনি।
পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র এআইজি (মিডিয়া) এ.এইচ.এম. শাহাদাত হোসাইন টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেছেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা খোঁজ খবর রাখছি।’