ভোটার স্থানান্তরের আবেদন অনলাইনে নেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে ফি নেওয়ারও চিন্তা করা হচ্ছে। গতকাল সোমবার ইসির মাসিক সমন্বয় সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।
ভোটার এলাকা স্থানান্তর অনলাইনে করতে চাওয়া ও ফি নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ কালবেলাকে বলেন, ভোটার এলাকা স্থানান্তরের একটা বিষয় আলোচনায় ছিল। কিন্তু এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত হয়নি।
সূত্র জানায়, ভোটার স্থানান্তর আবেদন অনলাইনে করা এবং ফি নেওয়ার বিষয়ে প্রস্তাব তৈরি করে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সিনিয়র সচিবের কাছে উপস্থান করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের ফি পুনর্নির্ধারণ-সংক্রান্ত প্রস্তাব দ্রুত নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে।
এনআইডি সংশোধনের ফি বাড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে ইসির সিনিয়র সচিব বলেন, ফি বাড়ানোর একটি প্রস্তাবনা তো আছে। নতুন করে নয়, ওটাই আছে। এটা অর্থ বিভাগে পেন্ডিং আছে। ফি বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়ে তিনি আরও বলেন, একই বিষয়ে একবার উপজেলা লেভেলে রিজেক্ট হচ্ছে। আবার জেলা লেভেলে রিজেক্ট হয়ে অঞ্চলে যাচ্ছে, অঞ্চল থেকে রিজেক্ট হচ্ছে মহাপরিচালকের কাছে যাচ্ছে। একই জিনিসের ওপরে বারবার করে রিজেক্ট হচ্ছে—এটা নিয়ন্ত্রণ করা যায় কি না, সেটি দেখতে হচ্ছে। আর একই সংশোধনের জন্য কতবার আবেদন করা যাবে, সেটিও দেখা হচ্ছে।
বৈঠক সূত্র জানায়, এনআইডি সংশোধন কার্যক্রম উপজেলা পর্যায়ের তদন্তনির্ভরতা কমিয়ে অতিরিক্ত আঞ্চলিক ও অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে নিষ্পত্তি কার্যক্রম জোরদার করতে বলা হয়েছে।
সূত্র আরও জানায়, বৈঠকে মাঠপর্যায়ে সারা বছর ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম প্রতিদিন চালু রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভোটার নিবন্ধনের জন্য কী কী ডকুমেন্ট প্রয়োজন, তা সুনির্দিষ্ট করে মাঠপর্যায়ে নির্দেশনা জারি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নতুন ভোটার আপলোডের তথ্য অঞ্চল ও জেলা পর্যায়ে হতে দেখা এবং তদারকির অপশন চালু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি ১৫ জুলাইয়ের মৃত ভোটার কর্তন সারা বছর চালু রাখার বিষয়ে গঠিত কমিটির সুপারিশ চূড়ান্ত করতে বলা হয়েছে।
বৈঠকে জানানো হয় যে, গত ৮ জুন পর্যন্ত ২০১২ সালের আগের মোট ৩ কোটি ১০ লাখ ৩৯ হাজার ৩০৫টি ভোটার নিবন্ধন ফরম (ফরম-২) আপলোড সম্পন্ন হয়েছে। ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ভোটার তথ্য ফরম-২ মাঠ কার্যালয়ে স্ক্যান ও আপলোড কার্যক্রম ৩১ আগস্টের মধ্যে সম্পন্ন করতে বলা হয়। জেলাভিত্তিক আপলোডের তথ্য সংগ্রহ করে আগামী সমন্বয় সভায় উপস্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় সিস্টেম ম্যানেজার (কারিগরি) জানান যে, মাঠপর্যায়ের আঞ্চলিক নির্বাচন ও উপজেলা নির্বাচন অফিসে এফিস ম্যাচিংয়েল এক্সেস দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার প্রস্তুত ও টেস্টিং সম্পন্ন হয়েছে। ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে মাঠপর্যায়ের অন্যান্য কার্যালয়ে এফিস ম্যাচিংয়ের এক্সেস দেওয়া সম্পন্ন হবে। এ ছাড়া যে সব নাগরিকের ফিঙ্গারপ্রিন্ট গ্রহণ করা যায় না। তাদের আইরিশের মাধ্যমে এনআইডি যাচাইয়ের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। আইরিশের মাধ্যমে এনআইডি যাচাই সেবা চালু না হওয়া পর্যন্ত জেলা পর্যায়ে এনওসি দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া যায়। জেলা অফিস থেকে এনওসি দেওয়ার প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ডেভেলপ করা প্রয়োজন।
প্রবাসী ভোটারদের তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রক্রিয়াটি সহজীকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্যও সভায় সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়া স্মার্টকার্ড প্রিন্ট-সংক্রান্ত প্রতিবেদন সাত কর্মদিবসের মধ্যে সিনিয়র সচিবের কাছে উপস্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়।