Image description

কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের বড় গলা হতে (মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে) আমাদের সবার স্মৃতিশক্তি (মেমোরি) শেষ হয়ে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

আওয়ামী লীগের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘লুটপাটকারী, মাফিয়া, চোর-বাটপারের খুব বেশি নৈতিক সাহস থাকে না।’

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা বলেন।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল রাস্তায় নেমেছে। দলটির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ঘিরে ছয়টি জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনকে সরকার কতটুকু যুক্তিযুক্ত মনে করছে? এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘আচ্ছা, প্রথম কথা হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো আমি মনে করি তারা একটা সিম্বলিক কারণে আছে। কারণ হচ্ছে, একটা নিষিদ্ধ ঘোষিত দল, নিষিদ্ধ ঘোষিত আসলে কথাটা ঠিক না, আমরা টেকনিক্যালি যদি বলি, নাম যদি এভাবে বলি আওয়ামী লীগ, দলটা নিষিদ্ধ হবে কি হবে না এই জিনিসটা একটু ক্লিয়ার করে রাখা দরকার, সেটার নির্ধারিত হবে আদালতে, আইসিটি-তে (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল)। তারা মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত ছিল কি ছিল না সেই বিচারের পর নির্ধারিত হবে।’

 

তিনি বলেন, ‘যেটা হয়েছে, ওই পর্যন্ত যেহেতু তারা বিচারাধীন থাকবে, সেই পর্যন্ত তাদের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকবে সন্ত্রাস দমন আইন-২০০৯ এর অধীনে। সো তাদের কর্মসূচি নিষিদ্ধ। এই দলটা এখন যে কোনো কর্মসূচি নিয়ে যদি মাঠে নামতে চায়, সেটা তারা একটা আইন ভঙ্গকারী কাজ করছে। সো সরকার সেখানে ব্যবস্থা নেবে এটাই স্বাভাবিক; এবং রাজনৈতিক দলগুলোর আসলে ওখানে করার কিছু নেই, এটা তারা সিম্বলিক্যালি হয়তো মাঠে আছেন, যেহেতু তারা বলছেন তারা অনেক কিছু করে ফেলবেন।’

‘আর সেনাবাহিনী মোতায়েন নিয়ে আমি যেটা বলবো, এর মানে এই না যে অনেক কিছু তারা করে ফেলতে পারে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি না আওয়ামী লীগের সেই রকম নৈতিক সাহসও আছে। অ্যাটলিস্ট একটা নৈতিক সাহস লাগে। আমরা একটা কথা বলি না, চোরের মায়ের বড় গলা। মানে আওয়ামী লীগের বড় গলা হতে আমাদের সবার মেমোরি শেষ হয়ে যেতে হবে। আমাদের সবার ডিমেনশিয়া (স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া রোগ) হবে, তারপর কোনোদিন আওয়ামী লীগ আমাদের সামনে বড় গলা করে কথা বলতে পারবে, এর আগে আমার মনে হয় না।’

জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, ‘সো তাদের ওই নৈতিক সাহসও নেই। নৈতিক সাহস যদি না থাকে...কিছু লুটপাটকারী, মাফিয়া, চোর-বাটপারের আসলে খুব বেশি নৈতিক সাহস থাকে না।’

 

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি একটু পেছনে যাই, একটু অপ্রাসঙ্গিক হলেও বলি— জুলাইয়ে এরকম বন্দুকের সামনে মানুষ দাঁড়াতে পেরেছিল, কারণ তার নৈতিক সাহসটা ছিল। ও ধান্দাবাজ লোক ছিল না, ও দেশকে ভালোবেসেছে, এ দেশের ভালো করতে চেয়েছে। এত গুলি, এত মৃত্যু, এরপরও মানুষ পরদিন আবার গিয়ে দাঁড়িয়েছে। তো তাদের (আওয়ামী লীগ) দিয়ে আসলে তেমন কিছু হওয়ার কোনো কারণ নাই।’

তিনি বলেন, ‘তারপরও সরকারের থেকে যেটা করা উচিত, যে কয়টা জেলায় তার মনে হয়েছে যে ঝুঁকি কিছুটা হলেও বেশি—কারণ কিছু ছোটখাটো নাশকতার সক্ষমতা হয়তো আছে, আর তাদের প্রচুর টাকা আছে, সেটা খরচ করে হঠাৎ করে কোনো নাশকতা করে কি না—সেজন্য যে জায়গায় ঝুঁকি বেশি মনে হয়েছে সেখানে সেনাবাহিনী রাখা হয়েছে জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে। এর মানে এই না যে সরকার মনে করে আওয়ামী লীগ অনেক কিছু করতে পারবে। আমি সেটা মনে করি না।’