Image description

আজাদ কাশ্মীরে অচলাবস্থা নিরসনে দেশের নেতৃত্ব ও নিরাপত্তা বাহিনীকে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন পিস অ্যান্ড কালচার অর্গানাইজেশনের চেয়ারম্যান মোশাল হোসেন মালিক। রোববার (২১ জুন) এক বিবৃতিতে তিনি রাজনৈতিক উত্তেজনায় সৃষ্ট নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

মোশাল মালিক বলেন, মহররম মাসের প্রাক্কালে কাশ্মীরের বিভিন্ন অংশে রাস্তাঘাট বন্ধ থাকায় খাদ্য, রেশন ও জীবনরক্ষাকারী ওষুধের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এই মানবিক বিপর্যয় এড়াতে এবং কাশ্মীরের বাসিন্দাদের কষ্ট লাঘব করতে দেশের নীতিনির্ধারক ও নিরাপত্তা বাহিনীকে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করার অনুরোধ জানিয়েছেন মোশাল।

তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক চালবাজি ও বিশৃঙ্খলা এড়ানোর উপায় হলো প্রজ্ঞা, সংযম এবং সংলাপের পথ।’

আন্দোলনকারী এবং ‘জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি’র (জেএএসি) সদস্যদের ধর্মঘট প্রত্যাহার করে সংলাপে বসার আহ্বান জানান মোশাল।

 

আজাদ কাশ্মীরে অর্থনৈতিক অসন্তোষের জেরে দীর্ঘদিন ধরে বিক্ষোভ চলে আসলেও বর্তমান অচলাবস্থা শুরু হয় গত ৫ জুন। ওই দিন আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের (এজেকে) সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় জেএএসিকে একটি নিষিদ্ধ সংগঠন ঘোষণা করে।

পাকিস্তান সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদন মতে, এই নিষেধাজ্ঞার পরপরই শুরু হয় ধরপাকড়। বহু কর্মীকে গ্রেপ্তার, ইন্টারনেট ও মোবাইল ডাটা বন্ধ এবং প্রধান সড়কগুলো সিল করা হয়।

প্রতিবাদে গত ৯ জুন থেকে অঞ্চলজুড়ে সর্বাত্মক ধর্মঘট ও ‘হুইল-জ্যাম’ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় জেএএসি। এই সংঘাতে এ পর্যন্ত অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন।

বর্তমান সংকটের মূল কারণ আগামী ২৭ জুলাই অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচন। আন্দোলনকারীদের দাবি, মূল পাকিস্তানে বসবাসরত জম্মু ও কাশ্মীরের উদ্বাস্তুদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি সংসদীয় আসন বিলুপ্ত করতে হবে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভায় সংরক্ষিত ১২ আসনের প্রার্থীরা কাশ্মীরে থাকেন না, বরং পাকিস্তানের অন্যান্য অঞ্চলে বসবাস করেন। সংরক্ষিত এই ১২ আসন বিলুপ্ত করতে হবে।

তথ্যসূত্র: ডন এবং অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস অফ পাকিস্তান