১৯৮৭ সাল, হঠাৎ তিস্তা-পদ্মা-যমুনার ভাঙ্গন তীব্র হয়ে উঠেছে। পদ্মার চাঁদপুর সদর, যমুনার বগুড়ার সারিয়াকান্দি পয়েন্ট ও রংপুরের তিস্তার কাউনিয়া পয়েন্ট প্রবল ভাঙ্গনের কবলে। তিস্তার রেলব্রিজ এলাকায় প্রতিদিন শতশত ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে যাচ্ছে নদীতে। অর্থসংকটে নদী ভাঙ্গন রোধে বরাদ্দ দেয়া যাচ্ছে না।
প্রধানমন্ত্রী মিজানুর রহমান চৌধুরী রংপুরের কাউনিয়ার রেলব্রিজ রক্ষায় কিছু অর্থ বরাদ্দ দেন। এ নিয়ে জাতীয় সংসদে তুমুল হৈচৈ। চাঁদপুর সদরের এমপি হয়েও প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুরের পদ্মার ভাঙ্গন রোধে বরাদ্দ না দিয়ে রংপুরে বরাদ্দ দিয়েছেন। চাঁদপুরের দু’জন এমপি প্রেসিডেন্ট এরশাদের কানভারি করেছেন। যথারীতি এরশাদের দপ্তরে ডাক পড়ে প্রেসিডেন্সিয়াল পদ্ধতির সরকারের ক্ষমতাহীন প্রধানমন্ত্রীর। চাঁদপুরের দুই এমপি মহাখুশি। প্রেসিডেন্ট এরশাদ কৈফিয়ত চাইতেই মিজান চৌধুরী বললেন, ‘মহামান্য প্রেসিডেন্ট, আমি সারাদেশের প্রধানমন্ত্রী। আমার নির্বাচনী এলাকা চাঁদপুর সদর পদ্মায় ভাঙ্গছে; এমপি হিসেবে ভাঙ্গনরোধে বরাদ্দ দিলে ভাল হতো। কিন্তু তিস্তার ভাঙ্গন এতো প্রবল যে যেকোনো সময় যোগাযোগের একমাত্র পথ রেলব্রিজ নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে। সীমিত অর্থের সবটুকু সেখানে বরাদ্দ দিতে হয়েছে। দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার মনে হয়েছে সঠিক কাজ করেছি’।
১০৮৬ সাল, এক মাসে তিস্তা নদী ভেঙ্গে ৪ কিলোমিটার পশ্চিমে এসে পীরগাছার ছাওলা ইউনিয়নের বাঁধের অর্ধেক ভেঙ্গে নিয়ে গেছে। হাজার হাজার গৃহহীন মানুষ বাঁধের অবশিষ্টাংশে আশ্রয় নিয়েছে। সরেজমিন দেখতে ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী শফিকুল গণি স্বপন (মশিউর রহমান যাদু মিয়ার পুত্র) ভাঙ্গন স্পটে গেছেন। তখন রংপুর-৪ আসনের এমপি ছিলেন আওয়ামী লীগের শাহ আবদুর রাজ্জাক। মন্ত্রী স্বপন বিশাল লটবহর নিয়ে ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় গিয়ে নৌকায় চড়ে পানিবন্দী মানুষ ও বাঁধে আশ্রয় নেয়া মানুষের কথা শোনেন। দুর্গত মানুষের আর্তি ‘স্যার আমাদের বাঁচান’। বিপন্ন মানুষের মুখে এমন আর্তি শুনে মন্ত্রী সাফ জবাব, ‘নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে এমপি করেছেন; এখন জাতীয় পার্টির সরকারের কাছে সাহায্য চাচ্ছেন কেন?’ দুর্গত এলাকা পরিদর্শনের পর উপজেলা সদরে খানাপিনা-বিশ্রাম করে রংপুর শহরে যান।
মন্ত্রী সার্কিট হাউজে পৌঁছাতেই বিটিভিতে রাত ৮টার খবর শুরু হয়েছে। খবরের হেড লাইনে ‘মন্ত্রী পরিষদ থেকে একজনকে বাদ দেয়া হয়েছে’। উৎসুক মন্ত্রী ঢাকায় ফোন দেন কোন মন্ত্রীর কপাল পুড়লো জানতে। ততক্ষণে টিভির পর্দায় ‘মন্ত্রীর তিস্তার ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শনের’ দৃশ্য দেখানো শুরু হয়েছে। পাঠিকা খবরে জানালেন, ‘শফিকুল গনি স্বপনকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে’। হতোদ্যম শফিকুল গনি স্বপন মন্ত্রিত্ব হারিয়ে মনের দুঃখে রাতেই রংপুর সার্কিট হাউজের অনতিদূরে পৈতৃক বাড়িতে চলে যান। এই হলো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ জনপ্রতিনিধিদের কাহিনী এবং গণনেতাদের দৃঢ়তা। মন্ত্রীরা জনগণের সেবক। সরকারের মন্ত্রীর দায়িত্বে থাকলে সারাদেশের জনগণের দেখভালের দায়িত্ব তাদের। নির্বাচনে মানুষ কাকে ভোট দিয়েছে, কার এলাকা কোনটা জনসেবায় সেটা বিবেচ্য বিষয় নয়। কিন্তু জুলাই অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে শুরু করে বর্তমান নির্বাচিত সরকারের মন্ত্রীরা পর্যন্ত ব্যক্তিস্বার্থ ও আত্মকেন্দ্রিকতা থেকে বের হয়ে আসতে পারছেন না।
গত কয়েকদিন থেকে টক অব দ্য কান্ট্রি স্থানীয় সরকার পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মীর শাহে আলমের নাম। বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসি) ‘বাপের দেয়া’ এ্যাডহক কমিটি পরবর্তীতে ‘শেখ হাসিনা মার্কা’ নির্বাচনের মাধ্যমে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের পুত্র-ভাই-চাচাদের বিসিসির পদপদবি ভাগ বাটোয়ারা বিতর্কের পর সামনে চলে আসে শাহে আলম কা-। সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করা পরিবারের পদবি, নিজের দুই পুত্র ও এক কন্যার নামে চারটি ইউনিয়ন পরিষদের নামকরণ নিয়ে। বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় ‘মীরবাড়ি ইউনিয়ন’ এবং মোকামতলা উপজেলায় ‘সীমান্ত’, ‘দিগন্ত’ ও ‘স্বর্ণগ্রাম’ নামে চারটি নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয় প্রতিমন্ত্রীর বংশ, দুই পুত্র ও এক কন্যার নামে। এরই মধ্যে প্রতিমন্ত্রী ঘোষণা দেন একটি উপজেলার নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া চলছে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রচার করায় বগুড়ার স্থানীয় ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদককে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়। এডিটরর্স কাউন্সিল ভারপ্রাপ্ত সম্পাদককে গ্রেফতারে উদ্বেগ প্রকাশ করে। এ ঘটনায় তোলপাড় শুরু হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিতর্কের মুখে বেলাশেষে প্রধানমন্ত্রী সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিলেও বিতর্ক এখনো থামেনি।
বর্তমান সরকারের আরো দুজন মন্ত্রী বিতর্কিত মন্তব্য করে সরকারকে বিব্রতকর অবস্থার মুখে ফেলেন। সড়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ‘পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি অন্যায় কিছু নয়’ মন্তব্য করেছিলেন। অতঃপর তিনি বলেছেন, ‘পদ্মা ব্রিজের নিচ থেকে বালু উত্তোলন করলে পদ্মা সেতুর ক্ষতি হবে না’। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান দাবি করে বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে বাংলাদেশ লাভবান হবে’। মন্ত্রী-এমপিদের পুত্র-ভাই-চাচা-ভাজিতাদের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্রিকেট বোর্ডের পদ দখল এবং প্রতিমন্ত্রীর পুত্র-ভাতিজির নামে ইউনিয়ন পরিষদের নামকরণ নির্বাচিত সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলছে।
নির্বাচিত সরকারের এই চার মাসের শাসনামলে যে কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন এবং ক্ষমতাধর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন তাদের মধ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম অন্যতম। প্রতিমন্ত্রী হওয়ার আগ পর্যন্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির নেতারাও তার নাম না শুনলেও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর আলোকিত হয়ে উঠে তার নাম। সরকারের ভিতরে তিনি এতোই প্রভাবশালী যে সরকারের সবচেয়ে ক্ষমতাধর মন্ত্রী হিসেবে পরিচিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ কক্সবাজারের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এক সমাবেশে তাকে (শাহে আলম) বর্তমান সরকারে অন্যান্য মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা তার উপর নির্ভরশীল বলে উল্লেখ করেছিলেন।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি থেকে বগুড়া-২ আসনের প্রার্থী করা হয়েছিল নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাকে। ঢাকা-১৮ উত্তরা আসনে তার প্রার্থিতা বৈধ হলেও ঋণ খেলাপি হিসেবে বগুড়া-২ আসনের প্রার্থিতা বাতিল হয়। অতঃপর সেখানে নির্বাচন করে এমপি হন মীর শাহে আলম। তারই নির্দেশনায় গত ১১ জুন বগুড়া জেলা প্রশাসকের সই করা প্রজ্ঞাপনে শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি এবং মোকামতলা উপজেলার আটটি ইউনিয়নের প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠন করা হয়। এতে শিবগঞ্জ উপজেলায় ‘মীরবাড়ি ইউনিয়ন’ এবং মোকামতলা উপজেলায় ‘সীমান্ত’, ‘দিগন্ত’ ও ‘স্বর্ণগ্রাম’ নামে চারটি নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়। মীর শাহে আলমের পৈতৃক বাড়ির নাম অনুসারে ‘মীরবাড়ি ইউনিয়ন’ এবং তার দুই ছেলে মীর সীমান্ত ও মীর দিগন্তের নাম অনুসারে ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভাইয়ের মেয়ের নাম অনুসারে ‘স্বর্ণগ্রাম’ নামকরণ করা হয়।
প্রতিমন্ত্রীর পুত্রের নামে নামকরণ প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, ‘এ ধরনের নামকরণ অত্যন্ত হতাশাব্যঞ্জক ও দৃষ্টিকটু। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর উপধারা অনুযায়ী, ইউনিয়নের নামকরণ কোনো ব্যক্তির নামে করা যাবে না’। সংসদে এ নিয়ে বিতর্ক উঠলে জামায়াতের এক নেতার প্রশ্নের জবাবে মীর শাহে আলম ব্যক্তিগত কৈফিয়ত দিয়ে বলেন, ‘অলৌকিকভাবে এই নামগুলো তার সন্তানদের নামের সঙ্গে মিলে গেছে। আমার যদি খারাপ উদ্দেশ্য থাকত, তাহলে তিনি নামের আগে ‘মীর’ যুক্ত করতে বলতেন। কিন্তু নামের আগে তো মীর নেই’। প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন গণশুনানির মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদের নামরকণ হয়েছে। কিন্তু স্থানীয়রা জানান, কোনো গণশুনানির কথা তারা শোনেননি এবং জানেনও না। উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানিয়েছেন, প্রতিমন্ত্রী ডিও লেটার অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদের নতুন নামকরণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, উপজেলা থেকে যে ভাবে প্রস্তাব এসেছে সেভাবেই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর পারিবারিক পদবি, দুই পুত্র ও এক ভাতিজির নামে ইউনিয়ন পরিষদের নামকরণ নিয়ে যখন তোলপাড় তখন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ করা হয় এবং সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে নেটিজেনরা নানান মন্তব্য, বক্তব্য দিচ্ছেন। এ নিয়ে খবর প্রকাশ করায় বগুড়া থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রেজানুর ইসলামকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়। প্রতিমন্ত্রী চালাকি করে নিজেই মামলা দায়ের না করে স্থানীয় আরেক পত্রিকার সম্পাদককে দিয়ে মামলা দায়ের করেন।
‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. রেজানুর ইসলামকে গ্রেফতার ও কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ। গতকাল সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নুরুল কবীর এবং সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, এই ঘটনা বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার এবং রাষ্ট্র সংস্কারবিষয়ক ৩১ দফা কর্মসূচিতে ঘোষিত গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের অঙ্গীকারের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। অতীতেও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার ও হয়রানির এমন প্রবণতা দেখা গেছে এবং বর্তমান ঘটনার মধ্য দিয়ে সেই উদ্বেগজনক ধারার পুনরাবৃত্তি ঘটল। সম্পাদক পরিষদ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুততম সময়ে রেজানুর ইসলামের মুক্তি প্রত্যাশা করে।
নতুন স্বপ্নের সন্ধান দিতে বিপুল অর্থের বাজেট ঘোষণা করা হলেও চার মাসেও অর্থনীতিতে তেমন গতি আনতে পারেনি সরকার। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীকে আনা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেল চালু, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন, পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে অতিরিক্ত বিপুল অর্থ ব্যয় হবে। এমন অবস্থায় নতুন ইউনিয়ন পরিষদ, নতুন সিটি কর্পোরেশন, নতুন উপজেলা পরিষদ ইত্যাদি প্রশাসনিক শাখা বৃদ্ধি খরচ বাড়াবে। প্রতিমন্ত্রীর পরিবারের পদবি, দুই পুত্র ও ভাতিজির নামে ইউনিয়ন পরিষদের নামকরণ শুধু প্রতিমন্ত্রীর ক্ষমতার অপব্যবহারের বার্তাই নয়; পাশাপাশি সরকারেরও খরচ বাড়াবে। এ নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও টিভি ব্যক্তিত্ব আবদুন নূর তুষার বলেছেন, ‘ভারত ‘রাম রাজ্য’ কায়েম করছে আর এখানে প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম ‘নাম রাজ্য’ কায়েম করছে। উনি ছেলের নামে, ভাইয়ের নামে, মেয়ের নামে, ভাতিজির নামে, বংশের নামে ইউনিয়নগুলোর নাম দিচ্ছেন এবং সেখানে বরাদ্দ নিয়ে এসেছে সবচেয়ে বেশি। তারেক রহমানের বন্ধু ভাগ্য খুব খারাপ। এর আগে একজন ছিল গিয়াসউদ্দিন আল মামুন। আর এখন হচ্ছেন মীর শাহে আলম।
এই বন্ধুর কারণে নাকি বড় বড় মন্ত্রী তার সামনে কথা বলে না। এই সরকারের সব থেকে পাওয়ারফুল মন্ত্রী কক্সবাজারে বলেছেন উনি সবচেয়ে পাওয়ারফুল প্রতিমন্ত্রী। বুঝতে পারছেন উনার জোরটা কত বড়। আর তার হাতেই আপনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় দিয়েছেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের যিনি সিনিয়র মন্ত্রী, তিনি কাজ ছাড়া বসে থাকেন, তার সিদ্ধান্তগুলো উনি উল্টে নেন প্রতিমন্ত্রী। এই মীর শাহে আলমরা মীর তন্ত্র কায়েম করছে বগুড়ায়। যেখানে ৯ লক্ষ ৩৮ হাজার কোটি টাকা বাজেটের মধ্যে ৬ লক্ষ ৩৮ হাজার কোটি টাকা পরিচালন ব্যয়। মানে সিম্পলি আমলাদের জন্য এই টাকা খরচ হবে। আর তিন লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন ব্যয়ের মধ্যে ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দ। এর আগের বাজেটে থোক বরাদ্দ ছিল ১১ হাজার কোটি টাকা এবং তার আগের বাজেটে ছিল ১০ হাজার কোটি টাকা, এবার তার ১৭ গুণ বৃদ্ধি করে আপনি দিয়েছেন ১ লক্ষ ৭০ হাজার কোটি টাকা। হোক বরাদ্দ মানে এগুলো কোথায় ব্যয় হবে আমরা জানিনা। এই মীর শাহ আলম দেখবেন যে নিজের বাড়ির সামনে বড় বড় রাস্তা করছেন অলরেডি তিনি সেটাই করছেন। বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন গোপালগঞ্জের নাম বদলে দেব উনি পারলে শিবগঞ্জের নাম বদলে দিবে।
এদিকে বগুড়ার মোকামতলা উপজেলার আলোচিত ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন করা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান। ১৯ জুন বিএনপির মিডিয়া সেল জেলা প্রশাসকের বরাত দিয়ে জানায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ইউনিয়ন দুটির নাম পরিবর্তনের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নতুন নাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের মতামত, এলাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য ও ভৌগোলিক পরিচিতিকে গুরুত্ব দিয়ে আবার গণশুনানি করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সময়োপযোগী সিদ্ধান্তে প্রতিমন্ত্রীর পুত্রদের নামে করা ইউনিয়ন পরিষদের নামকরণ পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হলেও এ নিয়ে বিতর্ক এখনো থামেনি। বরং বিতর্কের ডালপালা চতুর্দিকে ছাড়াচ্ছে।