Image description

৬ নবজাতক শিশুর মৃত্যু ঘটনায় আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ ঘটনায় হাসপাতালে আসা রোগীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ বলছেন লাইসেন্স বাতিল করার সিদ্ধান্ত সঠিক। কেউ বলছেন, লাইসেন্স বাতিল করে অনেক মানুষকে বিপদে ফেলা হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে হাসপাতালে ঘুরে দেখা গেছে, চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সেবা দিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। আগে থেকে ভর্তি রোগীদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারেও ভাবা হচ্ছে। ফলে হাসপাতালে ভর্তি ও নতুন আসা রোগীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।

ঢাকার সাভার থেকে চিকিৎসা নিতে আসা মো. ওয়ালিদ মিয়া স্ট্রিমকে বলেন, হাসপাতালে এসে চিকিৎসা পাচ্ছি না। লাইসেন্স বাতলি হওয়াতে তাঁরা আর চিকিৎসা দিচ্ছেন না। কিন্তু এই লাইসেন্স বাতিল করা কোনো সমাধান নয়।

তিনি আরো বলেন, ‘ছয়জন শিশুর মারা যাওয়া অবশ্যই মর্মান্তিক। কিন্তু এতে হাসাতালের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বিপাকে পড়বেন। তাঁদের সবাইকে বিপদে ফেলার কোনো মানে হয় না। বরং ঘটনার দিন সেখানে যারা ডিউটিতে ছিলেন, তাদের বিচারের আওতায় আনা উচিত ছিল।’

দুদিন আগে অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে কুমিল্লা থেকে হাসপাতালে এসেছেন কামাল হোসেন। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমার স্ত্রীর একটা অপারেশন হয়েছে। তাঁকে সরকারি হাসপাতালে নিতে পারতাম। কিন্তু সরকারি হাসপাতালের পরিবেশ তো সবারই জানা। এই হাসপাতালের পরিবেশ ভালো। এখন এই হাসপাতাল নাকি বন্ধ হয়ে যাবে। তাহলে আর কোথায় যাব!’

মহাখালী থেকে মেয়েকে নিয়ে আসা মো আনোয়ার বলেন, আদ-দ্বীন আমাদের ভরসার জয়গা। এখানে কম টাকায় ভালো চিকিৎসা পাওয়া যায়। যদি হাসপাতাল বন্ধ হয়ে যায়, কর্মচারীদের পাশাপাশি আমরা যারা মধ্যবিত্ত বা যাদের টাকা পয়সা, আমরাও ভোগান্তির শিকার হব।

হাসপাতালের পরিচালক তারিকুল ইসলাম মুকুল বলেন, ‘সরকার যে সিদ্ধন্ত নিয়েছে, সেটাক আমরা স্বাগত জানাই। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আমরা আপিল করব। আমরা আশা করব, সরকার জনস্বার্থে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু রাখার অনুমতি দেবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘দ্রুত সময়ের মধ্যে রোগীদের যে স্থানান্তরিত করতে বলা হয়েছে, এ ক্ষেত্রে তাঁদের যেন কোনো ক্ষতি না হয় সে ব্যপারে আমরা খেয়াল রাখছি। আমরা রোগীদের পাশে আছি।’

এর আগে ২৭ মে হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে ছয় নবজাতক মারা যায়। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ‘অবহেলার’ প্রমাণ পেয়েছে।

কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতি; দীর্ঘক্ষণ এসি বন্ধ থাকা এবং বিকল্প কোনো ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা না থাকা; বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়াই শিশুগুলোর মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ।

এরপর গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে লাইসেন্স বাতিলের ঘোষণা দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, শোকজ নোটিসের জবাব ও ব্যাখ্যা কর্তৃপক্ষের নিকট সন্তোষজনক না হওয়ায় মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ রেগুলেশন অর্ডিনেন্স ১৯৮২ এর ১১ (২) খ ধারা অনুযায়ী অত্র হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হলো।

তিনি আরও বলেন, এই অধ্যাদেশের ১২ ধারা অনুযায়ী লাইসেন্স বাতিলের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে আপিল বা পুনর্বিবেচনা করার আইনি সুযোগ রয়েছে।