Image description

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ময়মনসিংহের শ্রম ও পেশাজীবী মানুষ। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বাজেট বিষয়ে ময়মনসিংহ নগরীর চরপাড়া মোড়ের রিকশাচালক জয়নাল বলেন, ‘বাজেট এলে আমরা দেখতে পাই সব জিনিসপত্রের দাম আগের চেয়ে আরেক বেড়ে যায়। তবে বর্তমান সরকারের কাছে আমাদের দাবি, জিনিসপত্রের দাম যেন কমে আসে। আমরা গরিব মানুষ যেন পোলাপান নিয়ে খেয়েপড়ে বেঁচে থাকতে পারি।’

ময়মনসিংহের নান্দাইলের বারই গ্রাম থেকে আসা রিকশাচালক মাহবুবুল ইসলাম (৪৫) বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই দেইখি আইতাছি বাজেট আইলেই জিনিসপত্রের দাম বাইড়া যায়। এবার বিএনপির সরকার বাজেট দিছে। শুনতাছি চাল, ডাল আলুর দাম কমবো। দাম কমলে আমগোর সবার জন্যই বালা। আমরা গরিব মানুষ রিকশাচালক বাল বাচ্চা নিয়ে চলবার পারমু।’

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের সীমান্ত এলাকার কৃষক সুলাইমান মিয়া বলেন, ‘বাজেট তো প্রতিবছরই হয়। বাজেট কী আমরা তেমন একটা বুঝি না। তবে একটাই বুঝি বাজেট এলেই জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায়। কিন্তু কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের দাম কখনও বাড়ে না। কৃষকরা চাই, এবারের বাজেটে যেন কৃষকের কল্যাণে কিছু করা হয়।’

ময়মনসিংহ নগরীর মেসোয়া বাজারের শ্রমিক রফিক বলেন, ‘বাজেট কী, এটা কেন হয় আমরা কিছুই বুঝি না। আমরা দিন আনি দিন খাই। আমরা চাই জিনিসপত্রের দাম কমুক। এলাকার উন্নয়ন হোক, মানুষের কল্যাণে বাজেট হোক।’

 

ময়মনসিংহ সদরে গোপালনগর গ্রামের দিনমজুর সামাদ বলেন, ‘বাজেট আসে বাজেট যায়, আমাদের কোনও কাজে আসে না। আমরা যেরকম দিনমজুর সে রকমই জীবন যাপন করতে হয়। কাজ করলে বউ-বাচ্চা নিয়ে পেটে খাবার জুটে, কাজ না পেলে ধার কর্জ করে খেতে হয়। বাজেট নিয়ে আমাদের কোনও ভাবনা নাই।’

চেম্বার অফ কমার্স ইন্ডাস্ট্রিজ ময়মনসিংহের পরিচালক মনসুর আলম চন্দন বলেন, ‘বর্তমান বিএনপি সরকারের এটিই প্রথম বাজেট। আমরা ব্যবসায়ীরা চাই, বাজেট যেন হয় জনবান্ধব। বাজেট হবে জনগণের, ব্যবসায়ীদেরসহ সব শ্রেণিপেশার মানুষের কল্যাণের জন্য। দ্রব্যমূল্যের যে ঊর্ধ্বগতি তা নিম্নমুখী করাটাই হবে সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ। তবে বাজেটের মাধ্যমে সরকারের কাছে ব্যবসায়ীদের এই প্রত্যাশা।’