আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বিভিন্ন পণ্য ও সেবায় শুল্ককর ছাড়ের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা দাম কমানোর সুযোগ তৈরি করবে। আবার কিছু পণ্যে শুল্ককর বাড়ানোর প্রস্তাব করায় সেগুলোর দাম বাড়তে পারে। বাজেটের এই নিয়ম ঘোষণার সঙ্গেই কার্যকর হয়ে যায়। তবে সার্বিকভাবে শুল্ককর কমানো পণ্যের সংখ্যাই বেশি।
দাম কমতে পারে যেসব পণ্যের : ধান, চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, ভোজ্য তেলসহ ৬০টি নিত্যপণ্যের উৎসে কর কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা জনজীবনে স্বস্তি আনবে। শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে শিশুখাদ্য তৈরির সামগ্রীর আমদানি শুল্ক ১৫ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। জিরার মতো বিভিন্ন মসলা ও খেজুর আমদানির ওপর থেকে ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক সম্পূর্ণ তুলে নেওয়া হয়েছে।
সোনা সরবরাহে উৎসে কর ও ভ্যাট কমানোর ফলে ভরিপ্রতি ভ্যাট আড়াই হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সোনার গয়নার দাম কমাতে পারে। প্রস্তাবিত বাজেটে বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) ও নতুন প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির করভার অনেক কমানো হয়েছে। পাশাপাশি ইভি চার্জিং স্টেশনের সরঞ্জাম এবং বিআরটিএতে গাড়ির নিবন্ধন ও নবায়নের অগ্রিম আয়করও কমানো হয়েছে। ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার, সার্ভার, প্রিন্টার ও মনিটর আমদানির সব ধরনের শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহার করায় এসব প্রযুক্তি পণ্যের দাম কমতে পারে। কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানির ভ্যাট ও কর তুলে নেওয়া হয়েছে, এতে প্রতিবার ডায়ালাইসিসে খরচ প্রায় ৮০০ টাকা কমবে। এ ছাড়া ওষুধের কাঁচামাল এবং ক্যানসারের নতুন ৯টি কাঁচামাল আমদানিতেও বিশেষ শুল্কছাড় দেওয়া হয়েছে। নতুন বছরে গিটার, পিয়ানো, ভায়োলিনের মতো বাদ্যযন্ত্রের নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ছাড়া সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরা ও প্রজেক্টরের যন্ত্রাংশ আমদানির শুল্ক ১৫ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। শুল্ক কমানোর কারণে বিদেশি মাংস, প্রাণিখাদ্য, পিওস যন্ত্র, সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম এবং লিপস্টিক ও ফেসওয়াশের মতো প্রসাধনীর দামও কমতে পারে।
দাম বাড়তে পারে যেসব পণ্যের : ধূমপান কমাতে সব স্তরের সিগারেটের ন্যূনতম খুচরামূল্য বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নিকোটিন গ্র্যানুলস ও পাউচের ওপর ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। পরিবেশদূষণ কমাতে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ সিসির ডিজেল, অকটেন বা পেট্রোলচালিত গাড়ির আমদানি করভার ১৩২.৩৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১৫৬ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। দেশীয় চাষ ও উৎপাদন বাড়াতে বিদেশি অপ্রক্রিয়াজাত ও প্রক্রিয়াজাত কাজুবাদামের আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে। দেশীয় মৎস্যশিল্পকে রক্ষা করতে আমদানি করা পাঙাশ মাছের ফিলের ওপর ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বসানো হয়েছে। এ ছাড়া আমদানিকৃত কম্পোজিট এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে।
আগামী অর্থবছরে বিদেশি প্রাকৃতিক মধু ও সুপারি আমদানির ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে শুল্ককর বেশি দিতে হবে এবং দাম বাড়বে। সুগার কনফেকশনারি, কফি ও তৈরি খাবারের শুল্কায়ন মূল্য বাড়ায় বিদেশি খাবারের দামও বাড়তে পারে। বিদেশি লিপলাইনার ও লিপজেলের শুল্কায়নমূল্য এবং রড তৈরির উপকরণের ওপর ভ্যাট বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া শুল্ক বাড়ার কারণে বিদেশি টাইলস, স্যানিটারিওয়্যার, বেসিন, ফোম, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, সাইকেল ও খেলনার দাম বাড়তে পারে।