Image description

একের পর এক মানুষের বাড়িতে ঢুকে ঘুমন্ত নারীদের মাথায় আঘাত করতেন গোলাম মোর্শেদ ওরফে মোর্শেদ আলম। নওগাঁ ও আশপাশের কয়েকটি জেলায় সাম্প্রতিক এমন কয়েকটি ঘটনায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। ঘটনা তদন্তের নেমে বুধবার (১০ জুন) মোর্শেদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলন করে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

 

তিনি জানান, মোর্শেদকে গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানাধীন শরিফপুর কোনাবাড়ী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার পাটকাট গ্রামের বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও চুরিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

পুলিশ সুপার আরও জানান, একের পর এক ঘটে যাওয়া এসব নৃশংস ঘটনার পর জেলাজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছিল। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ তৎপরতা শুরু করা হয়।

 

তিনি উল্লেখ করেন, ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার সমন্বয়ে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। এই টিম আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে অপরাধের ধরন বিশ্লেষণ করে। একপর্যায়ে প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার মূল সূত্র এবং একমাত্র অপরাধী মোর্শেদকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নওগাঁ, জয়পুরহাট ও দিনাজপুরে অন্তত ১৭-১৮ জন নারীর ওপর হামলার কথা স্বীকার করেছে। তাদের মধ্যে তিনজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

 

পুলিশ জানায়, মোর্শেদ গভীর রাতে (রাত ১২টা থেকে ভোর ৪টার মধ্যে) একা বা নারীরা থাকেন এমন বাড়ি টার্গেট করত। এরপর দেয়াল টপকে বা জানালা ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে ঘুমন্ত নারীদের কপালে ও মাথায় টিউবওয়েলের হাতল, লোহার শাবল বা বাঁশ দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যেতেন। চুরি বা ডাকাতির উদ্দেশ্য থাকলেও, নারীদের মাথায় গুরুতর আঘাত করাটাই ছিল তার মূল প্যাটার্ন।

 

কয়েকটি ঘটনার বিবরণ দিয়ে পুলিশ জানায়, চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি ধামইরহাট উপজেলার নানাইচ ও জাহানপুর গ্রামে তিনটি বাড়িতে ঢুকে হামলা চালান মোর্শেদ। এর মধ্যে কলেজছাত্রী উম্মে হাবিবাকে টিউবওয়েলের হাতল দিয়ে মাথায় আঘাত করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

 

গত ৭ ফেব্রুয়ারি একই উপজেলার জাহানপুর গ্রামে শাহিন ইসলামের স্ত্রী সুলতানা বেগমসহ চারজনের ওপর বাঁশ ও টিউবওয়েলের হাতল দিয়ে হামলা চালান মোর্শেদ। গত ৭ মে বদলগাছি উপজেলার দুর্গাপুর, ঘোয়ালভিটা ও নয়নশহর এলাকার তিনটি বাড়িতে দেয়াল টপকে ঢুকে শাহানাজ, নাসরিন এবং বাকপ্রতিবন্ধী বৃষ্টি নামের তিন নারীর মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করেন তিনি।

 

গত ৪ জুন পত্নীতলা উপজেলার শিমুলিয়া ও নান্দাশ গ্রামে দুটি বাড়িতে জানালা ভেঙে ঢুকে রোজি আক্তার, আলতা বানু ও আসমা খাতুনকে লোহার শাবল দিয়ে মাথায় আঘাত করে জখম করেন মোর্শেদ।

 

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, মোর্শেদ নওগাঁয় চারটি ঘটনা ছাড়াও দিনাজপুরে পাঁচটি এবং জয়পুরহাটে এক ঘটনা ঘটিয়েছে। দিনাজপুর ও জয়পুরহাটেও তার আঘাতে আরও দুইজন নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। সংশ্লিষ্ট প্রতিটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।