পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির পেছনে বিএনপির কেনো ভূমিকা ছিল না।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে রাঙামাটি জেলা পরিষদের হল রুমে পার্বত্য চট্টগ্রাম হেডম্যান নেটওয়ার্ক সম্মেলন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সন্তু লারমা বলেন, আশির দশকের শুরুতে বিএনপি সরকার যাত্রা করে। সে সময় পার্বত্য অঞ্চলে প্রায় পাঁচ লাখ বহিরাগতকে আনা হয়েছিল। যাদেরকে সেটেলার বলা হয়। সরকারও তাদেরকে
সেটেলার হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
তিনি বলেন, বিএনপি সরকার সে সময় তাদেরকে সরকারি উদ্যোগে এখানে এনে জুম্ম জনগণের ভিটেমাটির ওপর বসিয়ে দিয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের পেছনেও এই বিএনপি সরকারের কোনো ভূমিকা আমরা দেখিনি।
সন্তু লারমা আরও বলেন, বিএনপি সরকারের আমলে পার্বত্য অঞ্চলের সমস্যা সমাধানে ডায়লগ হয়েছিল। সেটার ফলপ্রসু কোনোকিছু বিএনপি সরকার এগিয়ে আসেনি। জনসংহতি সমিতি জুম্ম জনগণের পক্ষে যে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেছিল, সে পাঁচ দফা দাবি বিএনপি সরকার গ্রহণ করতে পারেনি। এ কারণে পার্বত্য চুক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়ার যে বাস্তবতা সেটা এগিয়ে যেতে পারেনি।
তিনি বলেন, ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর আমরা চুক্তি স্বাক্ষর করেছি। একনাগাড়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার ছিল। দীর্ঘ বছর অতিবাহিত হয়। কিন্তু এই চুক্তি বাস্তবায়নের আমরা কোনো সম্ভাবনা দেখিনি। আমরা প্রতারিত হয়েছি। তখনকার আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন যে সরকার, সে সরকার আমাদের জুম্ম জনগণকে প্রতারিত করেছে।
এ সময় সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট ভবতোষ দেওয়ানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উদ্বোধক ছিলেন চাকমা রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়।
বিশেষ অতিথি ছিলেন রাঙামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার, অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) উপপরিচালক রওশন জাহান মনি, সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্ক সাধারণ সম্পাদক শান্তি বিজয় চাকমা, সিএইচটি হেডম্যান নারী হেডম্যান কার্বারি নেটওয়ার্ক সভাপতি জয়া ত্রিপুরাসহ তিন পার্বত্য জেলার হেডম্যান ও কার্বারি নেতৃবৃন্দ।