প্রস্তাবিত বাজেটে বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্য সর্বজনীন পেনশন ফান্ডের আওতায় অবসরের সময়ে মোট অর্থের ৩০ শতাংশ গ্র্যাচুইটি বা আনুতোষিক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ২০২৬–২৭ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটে এ কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এটি বিএনপি সরকারের এই মেয়াদের প্রথম বাজেট।
সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ২০২৬–২৭ অর্থবছরে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। বিগত ২০২৫–২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শুরু করা এই পেনশন স্কিমের চারটি স্কিমে ৩০ মে পর্যন্ত মোট ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৯৩০ জন নিবন্ধন করেছেন। এই তহবিলে মোট জমার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৬০ কোটি টাকা। এ পর্যন্ত মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ২৮৬ কোটি টাকা।
গত ৩ জুন এক পর্যালোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বেসরকারি খাতে কর্মরত প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ নিবন্ধিত শ্রমিক-কর্মীর বড় অংশই অবসর-পরবর্তী কোনো আর্থিক নিরাপত্তার আওতায় নেই। সরকারি চাকরিজীবীরা সরকারি পেনশনের আওতায় থাকলেও বেসরকারি খাতে এ ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেই।
মো. সুরাতুজ্জামান বলেন, এই শূন্যতা পূরণে ২০২৩ সালে চালু হওয়া সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার অধীনে বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ‘প্রগতি স্কিম’ একটি কার্যকর ও টেকসই সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
একই সঙ্গে স্কিমকে আরও আকর্ষণীয় করতে শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম চালু, নমিনিদের জন্য আজীবন পেনশন সুবিধা বিবেচনা এবং প্রগতি স্কিমে আউটসোর্সিং কর্মীদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টি সভায় উপস্থাপন করা হয়।