রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থী মাহফুজুর রহমানের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১০ জুন) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আমজাদের মোড় এলাকার আয়েশা টাওয়ারের একটি কক্ষ থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়।
মাহফুজুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। মতিহার থানার ওসি গোলাম কবির জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে সিলিং ফ্যান থেকে মাহফুজুর রহমানের লাশ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার ঘটনা ধারণা করা হলেও, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান জানান, বেলা আড়াইটার দিকে তারা ঘটনা জানতে পারেন। পুলিশের প্রাথমিক সুরতহালে বলা হয়েছে, মাহফুজুর রহমান আত্মহত্যা করেছেন। তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন বা কোনো সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, ‘মাহফুজুর কলে থাকা অবস্থায় আত্মহত্যার প্রচেষ্টা শুরু করলে, তাঁর প্রেমিকা কাছের বন্ধুবান্ধব ও মেসের কেয়ারটেকারকে জানান। এরপর তারা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় পান।’
ঘটনাস্থলে আসা ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ারুল কবির ভুঁইয়া জানান, কোনোভাবেই তারা এটি ব্যাখ্যা করতে পারছেন না। মেধাবী শিক্ষার্থী এমন সিদ্ধান্ত নেবে– কখনো ধারণা করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, মাহফুজুর রহমানের সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারলাম– তারাও এই বিষয়ে আগে কিছুই জানত না। তাঁর যে প্রেমঘটিত সমস্যা চলছে, সহপাঠীরাও অবগত ছিল না। এই জায়গা থেকে আমার মনে হয়, শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সম্পর্কটা আরও ভালো হওয়া দরকার। তারা সমস্যার কথা আমাদের সঙ্গে শেয়ার করলে এমন অপ্রত্যাশিত ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে।