Image description

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ছেলের নতুন বিল্ডিংয়ে ঠাঁই হয়নি ৯৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা ছামেনা খাতুনের। উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। এতে নেটিজেনরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

 
 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলকরা ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের ছামেনা খাতুনের জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী জন্ম ১৯৩১ সালের ২২ নভেম্বর। ২০০৮ সালে স্বামী আবদুল হক মারা যান। তার তিন মেয়ে ও এক ছেলে। একমাত্র ছেলে ফয়েজ আহমেদ ২০০৬ সাল থেকে সৌদি প্রবাসী।

 

তিনি তার মাকে ২০১১ সালে ভরণপোষণ না দিয়ে পার্শ্ববর্তী বাড়ির বাসিন্দা বোন রোকেয়ার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। তারপর থেকে এ বাড়িতেই থাকছেন ছামেনা। রোকেয়া বেগমের স্বামী নেই। দুই ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে তার সংসার। দুই ছেলে দিন মজুরী করে পরিবার নির্বাহ করে।

 

সর্বশেষ চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দেশের আসার পর গ্রামের সর্দারদের অনুরোধে ছামেনা খাতুনকে বাড়িতে নিয়ে আসেন ফয়েজ আহমেদ। তৈরি করেন নতুন বিল্ডিং।

 

৪ মে ফয়েজ আহমেদ আবারো সৌদি চলে যান। এরপর ছামেনা খাতুনকে বের করে দেন ফয়েজ আহমেদের স্ত্রী রুমা বেগম। গভীর রাতে শ্বাশুড়িকে রোকেয়া বেগমের ঘরে পাঠিয়ে দেন তিনি।

 

রোকেয়া বেগম বলেন, বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে ভাই ফয়েজ আহমেদ ও তার স্ত্রী রুমা বেগম শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন চালাতো। ২০১১ সালে তারা মাকে জোরপূর্বক আমার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। সমাজের লোকজনের অনুরোধে মাকে ভাই ফয়েজ আহমেদ ঘরে তুলে নিলেও তিনি সৌদিআরব চলে যাওয়ার পর ভাবি রুমা বেগম রাতের আঁধারে মাকে বিল্ডিং ঘর থেকে বের করে দেয়। বয়স হয়ে যাওয়ায় তিনি নানা জটিল রোগে ভুগছেন।

 

ছামেনা খাতুন বলেন, আমাকে ছেলের নতুন ঘর থেকে অনেক বছর আগে বের করে দিয়েছে। তারা কোনো খোঁজখবর রাখে না।

 

বুধবার আলকরা ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল বশর বলেন, বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। খোঁজখবর নিয়ে গ্রামবাসীকে নিয়ে ছামেনা খাতুনের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবো।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে বৃদ্ধা ছামেনা খাতুনের ভরণপোষণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।