Image description

জুলাই বিপ্লবে নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির বিচার শুরু হয়েছে। বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-এ প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন শহীদ আবুল হাসান স্বজনের বড় ভাই আবুল বাশার অনিক।

 

জবানবন্দিতে অনিক বলেন, আবু সাঈদ শহীদ হওয়ার পর ১৭ জুলাই থেকে তিনি ও তার ভাই আবুল হাসান স্বজন নিয়মিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নেন। ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জের জালকুড়ি লিংক রোড এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় শামীম ওসমান, অয়ন ওসমান, আজমেরী ওসমান, তানভীর রহমান টিটু, শাহ নিজাম, সাংবাদিক রাজু, ডিস বাবুসহ ১৫০ থেকে ২০০ অস্ত্রধারী ব্যক্তি আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও গুলি চালায় বলে তিনি দাবি করেন। এ ঘটনায় আদিল ও আবুল হোসেন মিঝি নিহত এবং এনআরবি মামুনসহ অনেকে আহত হন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়।

 

অনিক আরো বলেন, ৫ আগস্ট সকালে তিনি ও তার ভাই বন্দর উপজেলার কুশিয়ারা এলাকা থেকে আন্দোলনে যোগ দিতে নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া মোড়ে যান। মিশনপাড়া মোড় থেকে মিছিল নিয়ে চাষাড়া অভিমুখে যাওয়ার সময় ল্যাবএইড হাসপাতাল গলিতে শামীম ওসমানের নেতৃত্বে অয়ন ওসমান, আজমেরী ওসমান, তানভীর রহমান টিটু, শাহ নিজাম, আব্দুল করিম বাবু (ডিস বাবু), কামরুল হাসান মুন্না, ছাত্রলীগ নেতা শুভ, রিয়াদ, সোহানুর রহমান শুভ্র, মেহেদী, ফরহাদসহ ১০০ থেকে ২০০ জন অস্ত্রধারী তাদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি চালায়।

 

জবানবন্দিতে তিনি দাবি করেন, অয়ন ওসমানের পিস্তল থেকে ছোড়া গুলি তার ভাই আবুল হাসান স্বজনের বাম বুকে বিদ্ধ হয়। পরে আন্দোলনকারীরা তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এরপর স্বজনকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ নেওয়া হয়। পথে কাজলা ফ্লাইওভারের কাছে অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে ছররা গুলি ছোড়া হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

অনিকের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ৫ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টার দিকে স্বজনের অস্ত্রোপচার শুরু হয় এবং প্রায় সাত ঘণ্টা পর তা শেষ হয়। অস্ত্রোপচারের পর জ্ঞান ফিরে এলে স্বজন তাকে প্রথমে জিজ্ঞেস করেন, ‘হাসিনার পতন হয়েছে কি না’। তিনি জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে গেছেন শুনে স্বজন মুচকি হেসে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলেন।

 

জবানবন্দিতে অনিক আরো বলেন, ৬ আগস্ট বিকেল ৫টার দিকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালেই তার ভাই মারা যান। পরে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ৭ আগস্ট বাগে জান্নাত কবরস্থানে দাফন করা হয়। তার সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত হয়নি বলেও জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়।