Image description

জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেছেন, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি নির্বাচন হলে অনেক সুবিধা হতো। 

সোমবার (৮ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

 

আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আমাদের এখানে কেবল এক জায়গায় পিআর (সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) আছে। তা হলো জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসন।

এটাকে যদি ডাইরেক্ট করা যেত তাহলে অনেক সুবিধা হতো। আশার কথা হলো পার্লামেন্টে নেই, তবে অন্য সবখানেই কিন্তু আছে।
ইউপিতে আছে, পৌরসভায় আছে, সিটি করপোরেশনে আছে। সব থেকে রুট লেবেলে ইউপিতে সরাসরি নারী আসনে নির্বাচন হচ্ছে।
উপজেলাতেও ডাইরেক্ট ইলেকশন হচ্ছে। উপজেলায় নারীদের ওয়ান থার্ড সিট থাকার কথাও বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে উপজেলার অধীনে স্থানীয় সরকারগুলোর নারী সদস্যরা নির্বাচিত করবেন। সিটি করপোরেশনেরও ওয়ান থার্ড সরাসরি ভোট হয়, এমন সিট আছে। শুধু পার্লামেন্টে নেই।

 

তিনি আরও বলেন, যেটা ছিল না, ২০০৮ সালে সেটা আইনে আনা হয়েছে। অন্ততপক্ষে আইনটাতো করা হয়েছে যে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য দলের সব পর্যায়ে কমিটিতে আনতে হবে। এতে নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্ন করা যাচ্ছে। আমরাও চেষ্টা করছি। কেন্দ্র থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত কমিটিতে ওয়ান থার্ড সদস্য দেওয়ার কথা আমরা নিবন্ধন আবেদনের সময় দিতে বলছি। এখন আইনটা বাস্তবায়ন ৩০ সালের মধ্যে করতে বলা হয়েছে। তাহলে ৩০ সালের পরে গিয়ে বলতে পারবেন। কিন্তু কোনো কনসিকোয়েন্স নেই। কনসিয়োকেন্স ছাড়া যদি আইন থাকে সেটা মেন্ডেটরি হয় না। আমরা কথা দিতে পারি-আমরা পরীক্ষা করবো।

আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় স্বতন্ত্র নারী প্রার্থীদেরও এক শতাংশ ভোটারের সমর্থন দেখাতে হয়। সেখানে দ্বৈচয়নের ভিত্তি ১০ জনেরটা চেক করে রিটার্নিং কর্মকর্তারা বলছেন একজনেরটাও ঠিক নেই। আমরা কিন্তু তাও নারীদের ক্ষেত্রে ছাড় দিয়েছি (আপিলের সময়), যে করুক না নির্বাচন। জনগণ যদি ভোট দেয় আমাদের আটকানোর কী আছে। 

‘জেন্ডার সংবেদনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক সংস্কারের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সম্পর্কিত অবস্থান’ বিভাগীয় সংলাপটি আয়োজন করে অ্যাকশন এইড ও ওয়েব ফাউন্ডেশন। অ্যাকশন এইড-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবিরসহ এতে অন্যদের মধ্যে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান, নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব মো. আব্দুল হালিম খান, উপ-সচিব মো. শাহ আলম, জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিকসহ অন্য কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন সংগঠন ও দলের নারী নেত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।

ইসির উপ-সচিব মো. শাহ আলম বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী প্রার্থী ছিল ৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এটা খুবই কম। নারী প্রার্থী ন্যূনতম কত সংখ্যক দিতে হবে, এটার আইনি কাঠামো থাকা দরকার।

রুহুল আমিন মল্লিক বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি ভোট করলে নারী নেতৃত্ব বাড়বে। এখন এই আইন তৈরি করবে সংসদ, সেখানে যে রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিনিধিত্ব করছে, তাদের এ বিষয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির নেত্রী মনিরা শারমিন বলেন, খুব হতাশার মধ্যে আছি। দলগুলোর পুরুষ মোড়লরাই ঠিক করে দেন নারী প্রার্থী, কারা সংসদে আসবে। এখানে দলগুলোকে নারী প্রার্থী বেশি দেওয়ার জন্য বাধ্য করতে হবে। নির্বাচন কমিশনকেও এজন্য আইন মানছে কিনা দলগুলো তা মনিটরিং করতে হবে।

বক্তারা এ সময় বলেন, দলের প্রতিটি পর্যায়ে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য পূরণের জন্য আইনে ২০৩০ সাল পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। সেটা যেন ২০৪০ সালে গিয়ে না দাঁড়ায়। এ ছাড়া কেন দলগুলো অধিক সংখ্যক প্রার্থী দিচ্ছে না সেজন্য ইসিকে চাপ প্রয়োগ করতে হবে।

উল্লেখ্য, এয়োদশ জাতীয় সংসদে ৫০টি নারী আসনের মধ্যে বিএনপি জোট ৩৬টি, জামায়াত জোট ১২টি ও স্বতন্ত্র জোট একটি আসন বরাদ্দ পেয়েছিল সংসদের সাধারণ আসন সংখ্যার পরিপ্রেক্ষিতে। কিন্তু এই নির্বাচনে কোনো দল বা জোট একাধিক প্রার্থী দেয়নি। ফলে সংরক্ষিত নারী আসনে ৫০ জন নারীই (দল কর্তৃক সিলেকটিভ) বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।