বাংলাদেশ সীমান্তে শূন্যরেখা (জিরো লাইন) বরাবর কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্তবর্তী একটি গ্রামের বাসিন্দারা। তাদের আশঙ্কা, কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা হলে গ্রামটি কার্যত ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। কারণ তাদের গ্রাম বাংলাদেশি জনবসতি থেকে মাত্র কয়েক মিটার দূরে অবস্থিত।
রোববার (৭ জুন) রাজ্যের পূর্ব খাসি পার্বত্য জেলার লিংখং গ্রামের বাসিন্দার এই বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা চলমান কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণকাজ অবিলম্বের বন্ধের দাবিতে পিনুরসলা মহকুমা কর্মকর্তার (এসডিও) কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।
সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্ট জানিয়েছে, লিংখং গ্রামটি কার্যত শূন্যরেখার ওপর অবস্থিত। গ্রামটি বাংলাদেশি জনবসতি থেমে মাত্র কয়েক মিটার দূরে। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে অন্তত ১৫০ গজ দূরে বেড়া নির্মাণ করতে হয়।
স্থানীয়রা জানান, কোভিড-১৯ মহামারির সময় গ্রামবাসীরা একটি বাঁশের বেড়া তৈরি করেছিলেন, যার ফলে গ্রামটি কার্যত বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। এরপর থেকে পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হয়নি।
গ্রামের প্রধান রামু বলেন, আমরা সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার বিরুদ্ধে নই। তবে আমরা চাই বেড়াটি শূন্যরেখা বরাবর নির্মাণ করা হোক, যাতে আমাদের গ্রাম ভারতের ভেতরে এবং বেড়ার সুরক্ষিত এলাকার মধ্যেই থাকে।
উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা হলে লিংখং গ্রামটি নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাইরে চলে যাবে। এতে যাতায়াত, নিরাপত্তা এবং গ্রামের ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দা রিমা খোংসদির বলেন, যদি বর্তমান নকশা অনুযায়ী কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা হয়, তাহলে আমাদের গ্রামটি বেড়ার বাইরে থেকে যাবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বিগ্ন। আমরা চাই রাজ্য সরকার আমাদের উদ্বেগের বিষয়টি শুনুক এবং ভারত সরকারের কাছে তুলে ধরুক।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষার অংশ হিসেবে সীমান্তে বেড়া নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে মেঘালয়ের ৪৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। স্থানীয় সমস্যা ও দুর্গম ভূখণ্ডের কারণে এর ৮০ কিলোমিটারেরও কম অংশে এখনও বেড়া নির্মাণ করা হয়নি।
সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর (বিএসএফ) এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ও সহায়তার জন্য লিংখং গ্রামে ইতোমধ্যে একটি চৌকি স্থাপন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘গ্রামে বিএসএফ মোতায়েন রয়েছে এবং বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যেসব এলাকায় জনবসতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, সেসব স্থানে শূন্যরেখা বরাবর এক সারির বেড়া নির্মাণের বিষয়টি ভারত বাংলাদেশের কাছে উত্থাপন করেছে।
তিনি বলেন, ‘জিরো লাইনে এক সারির বেড়া নির্মাণের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বাংলাদেশের নতুন সরকার এখনও এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।’