আগামীকাল মঙ্গলবার (৯ জুন) চীন-বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) উদ্বোধন হতে যাচ্ছে 'ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন ফর মেরিন রিমোট সেন্সিং', যা 'স্যাটেলাইট ওশান অবজারভেশন অ্যান্ড ডাটা ইনোভেশন সেন্টার' নামেও পরিচিত।
এ কেন্দ্র চালু হওয়ার মাধ্যমে সমুদ্র গবেষণা, উপকূলীয় পরিবেশ পর্যবেক্ষণ, দুর্যোগের আগাম পূর্বাভাস এবং মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনায় আধুনিক স্যাটেলাইটভিত্তিক তথ্য ব্যবহারের সুযোগ বাড়বে। ফলে দেশের সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও গবেষণায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।
সোমবার (৮ জুন) দুপুরে চবি উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উদ্বোধনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রকল্পের কো–অর্ডিনেটর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চীনের সেকেন্ড ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফির (এসআইও) যৌথ উদ্যোগে এ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ২০১৯ সালে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়।
তিনি বলেন, নতুন গ্রাউন্ড স্টেশনটি এক্স ও এল-ব্যান্ড প্রযুক্তির মাধ্যমে চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও জাপানের বিভিন্ন স্যাটেলাইট থেকে সরাসরি তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হবে। এর ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা, ক্লোরোফিলের ঘনত্ব, সাগরের স্রোতের গতিপথ, আবহাওয়াগত পরিবর্তনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দ্রুত ও নির্ভুলভাবে পাওয়া যাবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বিদেশি উৎসের ওপর নির্ভরশীলতার কারণে সমুদ্রসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহে সময়ক্ষেপণ ও নানা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হয়। তবে এই গ্রাউন্ড স্টেশন চালু হলে দেশের গবেষক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সরাসরি স্যাটেলাইট ডাটা গ্রহণ ও বিশ্লেষণের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি রিয়েল-টাইম ডাটা হ্যান্ডলিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), মেশিন লার্নিং এবং বিগ ডাটা অ্যানালিটিক্সে দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রও সম্প্রসারিত হবে। এর মাধ্যমে সমুদ্র গবেষণা, সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং দুর্যোগ পূর্বাভাসে দেশের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
গত বছরের ২৬ মার্চ শুরু হওয়া এই প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭০ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৫০ কোটি টাকার কারিগরি সহায়তা দিয়েছে চীনের সেকেন্ড ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফি। বাকি ২০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
১১টি স্যাটেলাইট থেকে এই গ্রাউন্ড স্টেশন সংযোগ পাবে। এই গ্রাউন্ড স্টেশনটি চালু হওয়ার মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের সময় ২০-৩০ ঘণ্টার পরিবর্তে মাত্র ১৫-২০ মিনিটে নেমে আসবে। এর ফলে সাইক্লোন ট্র্যাকিং, উপকূলীয় বন্যা মডেলিং, আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তন–সংক্রান্ত বিশ্লেষণ দ্রুত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে সম্ভাব্য মাছ ধরার অঞ্চল চিহ্নিত করে টেকসই মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনায় সহায়ক ভূমিকা রাখা যাবে, যা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি-১৪) অর্জনে ভূমিকা রাখবে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।
সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আল-ফোরকান, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক আল-আমিনসহ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।