বর্তমান বিএনপি সরকারের অন্যতম বড় অঙ্গীকার ছিল ৫ বছরে ১ কোটি নতুন চাকরি বা কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। এটি তিন মাসে কতদূর এগিয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
সোমবার (৮ জুন) দুপুরে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এ তথ্য জানতে চান তিনি।
পাটওয়ারী লেখেন, কোনো রাজনৈতিক দল বা সরকার জনগণের সামনে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দেয়, তখন সেটি শুধু একটি নির্বাচনী অঙ্গীকার নয়—বরং জনগণের কাছে একটি জবাবদিহিতার বিষয়।
এশিয়া পোস্টের পাঠকদের জন্য নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারীর স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো:
এক কোটি কর্মসংস্থানের অঙ্গীকার: তিন মাসে কতদূর এগিয়েছে বাস্তবতা?
একটি রাষ্ট্রের কাছে জনগণের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশাগুলোর একটি হলো কর্মসংস্থান। বেকারত্ব শুধু একটি অর্থনৈতিক সমস্যা নয়; এটি সামাজিক অস্থিরতা, হতাশা, অপরাধপ্রবণতা এবং জাতীয় উৎপাদনশীলতার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। তাই যখন কোনো রাজনৈতিক দল বা সরকার জনগণের সামনে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দেয়, তখন সেটি শুধু একটি নির্বাচনী অঙ্গীকার নয়—বরং জনগণের কাছে একটি জবাবদিহিতার বিষয়।
বর্তমান বিএনপি সরকারের অন্যতম বড় অঙ্গীকার ছিল ৫ বছরে ১ কোটি নতুন চাকরি বা কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। এই প্রতিশ্রুতিকে যদি গাণিতিকভাবে বিশ্লেষণ করা হয়, তাহলে দেখা যায়—
* ৫ বছর = ৬০ মাস
* ১ কোটি কর্মসংস্থান ÷ ৬০ মাস
* প্রতি মাসে প্রয়োজন প্রায় ১ লক্ষ ৬৬ হাজার ৬৬৬ জনের কর্মসংস্থান
সেই হিসেবে সরকারের মেয়াদের প্রথম তিন মাসে প্রায় ৫ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ার কথা।
এখন প্রশ্ন হলো—এই তিন মাসে কি বাস্তবিক অর্থে সেই পরিমাণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে? সরকার কি এ বিষয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে? সরকারি, বেসরকারি ও প্রবাসী কর্মসংস্থান মিলিয়ে কতজন নতুন কাজ পেয়েছেন? কতজন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে? কতটি শিল্প প্রতিষ্ঠান চালু হয়েছে? কতজন দক্ষ জনশক্তি হিসেবে কর্মবাজারে প্রবেশ করেছে?
এ প্রশ্নগুলো কোনো রাজনৈতিক বিরোধিতার প্রশ্ন নয়; এটি জনগণের করের টাকায় পরিচালিত রাষ্ট্রের কাছে জনগণের ন্যায্য জবাবদিহিতা চাওয়ার প্রশ্ন।
যদি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী অগ্রগতি হয়ে থাকে, তাহলে সরকারকে স্বচ্ছভাবে সেই তথ্য প্রকাশ করতে হবে। আর যদি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অগ্রগতি কম হয়ে থাকে, তাহলে সেই ঘাটতি পূরণের জন্য কী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তাও জনগণকে জানাতে হবে।
একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার যুবসমাজের উপর। আজকের শিক্ষিত ও দক্ষ যুবক যদি কর্মসংস্থানের সুযোগ না পায়, তাহলে দেশের উন্নয়নের স্বপ্ন বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে। তাই প্রতিশ্রুতি দেওয়ার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন এবং নিয়মিত অগ্রগতি জনগণের সামনে তুলে ধরা।
গণতন্ত্রে সরকারের সাফল্য শুধু ঘোষণায় নয়, ফলাফলে পরিমাপ করা হয়। তাই “১ কোটি কর্মসংস্থান” একটি রাজনৈতিক স্লোগান নয়, বরং একটি পরিমাপযোগ্য জাতীয় অঙ্গীকার। জনগণ জানতে চায়—প্রথম তিন মাসে সেই লক্ষ্যের কতটুকু অর্জিত হয়েছে?
রাষ্ট্রের কাছে এ প্রশ্নের স্পষ্ট ও তথ্যভিত্তিক উত্তর প্রত্যাশা করা জনগণের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার।