পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা হারানোর পর তৃণমূল কংগ্রেস যখন এক গভীর রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই দলের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভা উপ-নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা নিয়ে তৈরি হওয়া এক জল্পনা তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে ভারতের সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী লোকসভার সংসদ সদস্য ইউসুফ পাঠানকে তার আসনটি ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। তবে এই খবরটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন সৌরভ গাঙ্গুলী ও ইউসুফ পাঠান উভয়েই।
পশ্চিমবঙ্গের তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাম্প্রতিক লোকসভা নির্বাচনের ধাক্কা এবং দলে একের পর এক বিদ্রোহের জেরে রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনে ক্ষমতা হারানোর পাশাপাশি তিনি নিজের শক্ত ঘাঁটি ‘ভবানীপুর’ আসনটিও খুইয়েছেন, যার ফলে বর্তমানে তিনি কোনো আইনসভারই সদস্য নন।
এদিকে গত সপ্তাহে একটি বাংলা দৈনিকের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ঘুরে দাঁড়াতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভার পথ বেছে নিতে পারেন। তবে তার লোকসভা উপ-নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য তৃণমূলের একটি আসন শূন্য হওয়া প্রয়োজন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইউসুফ পাঠানকে তার বহরমপুর আসনটি ছেড়ে দিতে রাজি করানোর জন্য সৌরভ গাঙ্গুলীর সাহায্য চেয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু ইউসুফ পাঠান সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন।
এমন এক সময়ে এই চাঞ্চল্যকর দাবিটি সামনে এলো, যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখার কৌশল তৈরি করতে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছেন।
তবে সৌরভ গাঙ্গুলী এই প্রতিবেদনটিকে ‘ভুল এবং অসত্য’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে ভারতের এই সাবেক অধিনায়ক বলেন, ‘প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে যে, আমি নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে ইউসুফ পাঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম এবং তার বার্তা পৌঁছে দিয়েছিলাম যে—ইউসুফ পাঠান যেন তার নির্বাচিত সাংবিধানিক পদ (সংসদ সদস্য) থেকে পদত্যাগ করেন, যাতে মিস বন্দ্যোপাধ্যায় ওই আসন থেকে উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। আরও দাবি করা হয়েছে যে, ইউসুফ পাঠান নাকি আমার আনা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। আমি স্পষ্ট করে জানাতে চাই, এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য।’
তিনি আরও যোগ করেন যে, এই প্রতিবেদনে তার নাম যেভাবে জড়ানো হয়েছে তা ‘সত্যের পুরোপুরি বিপরীত।’
সৌরভ বলেন, ‘মিস মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে কখনোই ইউসুফ পাঠানকে কোনো বার্তা দেওয়ার জন্য অনুরোধ বা নির্দেশ দেননি—তা সে সংসদীয় আসন ছেড়ে দেওয়ার ব্যবস্থাপনাই হোক বা অন্য কিছু। স্বাভাবিকভাবেই, আমি নিজেই কখনো ইউসুফ পাঠানের সঙ্গে এই ধরণের কোনো অনুরোধ বা বার্তা নিয়ে যোগাযোগ করিনি। ফলে এই বিষয়ে ইউসুফ পাঠানের প্রতিক্রিয়া জানানোর যে দাবি প্রতিবেদনে করা হয়েছে, তার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।’
সাবেক এই ক্রিকেটার অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি কখনোই কোনো রাজনৈতিক বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না এবং ভবিষ্যতেও থাকতে চান না।
ইউসুফ পাঠানের কড়া জবাব
আইপিএল-এ একসময় সৌরভ গাঙ্গুলীর সঙ্গে খেলা সাবেক ক্রিকেটার এবং বর্তমান বহরমপুরের সংসদ সদস্য ইউসুফ পাঠানও একটি ভিডিও বার্তায় এই খবরকে পুরোপুরি ভুয়া বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরে একটি খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যেখানে দাবি করা হচ্ছে যে—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি আমাকে বহরমপুর লোকসভা আসন থেকে পদত্যাগ করতে বলেছেন যাতে তিনি সেখান থেকে নির্বাচন লড়তে পারেন। আমি পরিষ্কার জানাতে চাই, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষয়ে আমার সঙ্গে কখনোই কোনো কথা বলেননি। এই দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূলের কোনো নেতাই আমাকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার জন্য বলেননি।’
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে রাজনীতিতে অভিষেক ঘটে ইউসুফ পাঠানের। প্রথম নির্বাচনেই বহরমপুরের মাটিতে কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের হেভিওয়েট নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে পরাজিত করে তিনি ‘জায়ান্ট কিলার’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
সূত্র: এনডিটিভি