এবারের ঈদযাত্রা অনেকটা স্বস্তিদায়ক হলেও ফিরতি পথের যাত্রা একেবারে সেই স্বস্তিকে ম্লান করে দিয়েছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল থেকে যারা ঢাকা আসছেন তাদের সীমাহীন ভোগন্তি পোহাতে হচ্ছে। শুক্রবার ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাড়কে ২৫ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়ে হাজার হাজার যাত্রীকে সীমাহীন ভোগান্তির মধ্যে ফেলেছে। যার সাথে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী, পুলিশ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর ও পুলিশের দেয়া নিশ্চয়তার কোনো মিল খুঁজে পায়নি ভুক্তভেগি যাত্রীরা। পুলিশ জানায়, এ সপ্তাহে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ উত্তরবঙ্গগামী ও ঢাকাগামী যানবাহনের সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে। যমুনা সেতু ও সংযোগ সড়কে একাধিক যানবাহন বিকল হওয়া, রাতের মধ্যে কয়েকটি ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন নষ্ট হয়ে পড়ায় যান চলাচল ধীর হয়ে যায় এবং দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়।
অন্যদিকে, টোল প্লাজা এলাকায় চাপ বৃদ্ধি,যমুনা সেতুর টোল প্লাজা দিয়ে বিপুল সংখ্যক যানবাহন পারাপারের কারণে বোতলনেক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৪০ হাজারের বেশি যানবাহন সেতু পার হয়েছে।
গতকাল শনিবার রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত যানজট মূলত যমুনা সেতুর টোল প্লাজা থেকে এলেঙ্গা ও পৌলি এলাকা পর্যন্ত ১৪-১৮ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
আমাদের টাঙ্গাইল জেলা সংবাদদাতা জানান, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, যমুনা সেতুর উপর ও সেতুর সংযোগ সড়কে রাতে একাধিক গাড়ি বিকল ও দুর্ঘটনার কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে ১৬ কিলোমিটার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। গত শুক্রবার দিবাগত রাত থেকে যমুনা সেতুর টোল প্লাজা থেকে পৌলি পর্যন্ত যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে মানুষের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের খুব কষ্ট হচ্ছে। তবে বর্তমানে মহাসড়কে যানজট নেই।
পুলিশ ও যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, গত শুক্রবার বিকেল থেকেই যমুনা সেতুর পশ্চিমপাড় সিরাজগঞ্জের মহাসড়কে যানবাহনের প্রচুর চাপ রয়েছে। ফলে সেতুর পশ্চিমপাড় থেকে ঝাঐল ওভারব্রিজ পার হয়ে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে মাঝে মধ্যে ধীরগতিতে চলাচল করছে যানবাহনগুলো। পরবর্তীতে রাত ৯টার দিকে যমুনা সেতুর উপরে ৭ নম্বর পিলারের কাছে ঢাকামুখী লেনে বাসের পেছনে আরেকটি বাস ধাক্কা দেয়। এতে একজন নিহত হয়েছেন। এসময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে সেতু কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনা কবলিত বাস রেকার দিয়ে সরিয়ে নিলেও যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় আরো যানজট ও ধীরগতির সৃষ্টি হয়েছে। এ যানজট ছড়িয়ে পড়ে যমুনা সেতুর পূর্বপাড় টাঙ্গাইলে। এতে করে যমুনা সেতুর টোল প্লাজা থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের টাঙ্গাইলের পৌলি পর্যন্ত যানজটের সৃষ্টি হয়।
এ ব্যাপারে এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শরিফ বলেন, গতকাল শনিবার প্রায় গার্মেন্টসই খোলা। এর ফলে মহাসড়কে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ বাড়তে থাকে। তবে যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশ ও জেলা পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে।
এ ব্যাপারে যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, যমুনা সেতুর উপর প্রায় ১৫ থেকে ১৬ টি গাড়ি বিকল ও সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া সেতুর উপরে গাড়ি আটকা থাকায় লোকজন নেমে যাচ্ছে। যার ফলে সেতুর দুই পাশেই যানজট কিংবা ধীরগতি রয়েছে।
জানা গেছে, ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে বর্তমানে যানজট সবচেয়ে বেশি রয়েছে যমুনা সেতুর পূর্বপাড় টোল প্লাজা থেকে টাঙ্গাইলের পৌলি পর্যন্ত প্রায় ১৭ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে। গত রাত থেকে শুরু হওয়া এই যানজট গতরাতেও পুরোপুরি কাটেনি। এটা স্বাভাবিক পর্যায়ে আসতে আরও সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন হানিফ এন্টারপ্রাইজের চালক হাসান। তিনি বলেন, এত গাড়ি এক সাথে রওনা করলে সড়কে চাপ বাড়বেই। এই চাপ গার্মেন্টসের ছুটি শেষ হওয়ার কারণে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, সরকার গার্মেন্টস ছুটির দিন নির্ধারণ করে দিলেও ছুটি শেষ হওয়ার দিন নির্ধারণ করে না দেয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক পরিবহন মন্ত্রীর উচত ছিল গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের সাথে সমন্বয় করে ছুটি নির্ধারণ করা। তাহলে এমন অবস্থা হতো না।
পুলিশের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এবারের ঈদের ঢাকায় টাউন সার্ভিসে চলাচলরত মিনিবাস ঢাকার বাইরে গেছে যাত্রী নিয়ে। সেই বাসগুলো পথিমধ্যে বিকল হয়ে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের উচত ছিল এই বাসগুলোকে আটকে দেয়া।
অন্যদিকে, পুলিশ জানায় যানজট এড়াতে সিরাজগঞ্জের চৌহালী ও এনায়েতপুর এলাকা থেকে নৌপথে যমুনা নদী পার হয়ে টাঙ্গাইল হয়ে ঢাকায় আসার পথ ব্যবহার করছেন অনেক যাত্রী। সড়কের দীর্ঘ যানজট এড়াতে এটি কিছু ক্ষেত্রে কার্যকর বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হলেও এই পথেও যানবাহনের চাপ বেড়েই চলেছে।