মোদি সরকারকে ‘সাত দিনের আলটিমেটাম’ দিয়েছে ভারতের জেন-জি সমর্থিত ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। এর মধ্যেই পদত্যাগে বাধ্য করাতে হবে দেশটির কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে। অন্যথায় ভারত জুড়ে বিক্ষোভ হবে। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ শেষে এ ঘোষণা দিলেন সিজেপি মুখপাত্র। পূর্বঘোষিত সময় অনুযায়ী শনিবার প্রত্যাশিত সেই ককরোচ ঢেউয়েই ভাসল দিল্লি। হাজারো জেন-জির পদভারে এদিন জনসমুদ্র হয়ে উঠেছিল দিল্লির যন্তর-মন্তর। সেখান থেকে হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপির রাজনৈতিক চরিত্র নিয়ে মোদি সরকারকে তুলাধুনা করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দীপকে। তিনি বলেছেন, ‘আর কতদিন হিন্দু-মুসলমানের রাজনীতি চলবে? কবে শোনা হবে দেশের যুবকদের প্রকৃত সমস্যার কথা?’ শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করলে ‘ভারতজুড়ে বড় আন্দোলন’র হুমকিও দিয়েছেন তিনি।
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এদিন দিল্লির যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে ককরোচ জনতা পার্টি। শুরু হয় সকাল ১০টায়। শেষ বিকাল ৫টায়। প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, সারা দিন শান্তিপূর্ণভাবেই চলে ভারতের সমাজ-সরকার সংস্কারে ঝাঁপিয়ে পড়া দেশটির শিক্ষিত-বেকার তরুণদের বিক্ষোভ। দুপুরে বক্তব্য দেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। সেখানে দেশের যুব সমাজ আর ভয় পায় না এবং ভবিষ্যতেও ভয় পাবে না। সরকারের কাছে বারবার দাবি জানানো হলেও সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে আন্দোলনের কণ্ঠস্বর দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন অভিজিৎ। তিনি আরও বলেছেনে, ‘এক মাস ধরে আমরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছি। কিন্তু সমস্যার সমাধান করার বদলে আমাদের পোস্ট সরানো, অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা এবং কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হয়েছে। পোস্ট মুছে দিতে পারেন; কিন্তু আমাদের এই জায়গা থেকে মুছে দিতে পারবেন না।’
অভিজিৎ দীপকে- রয়টার্সবিক্ষোভের মূল দাবি বিভিন্ন জাতীয় স্তরের পরীক্ষা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অভিযোগ ওঠা অনিয়মের তদন্ত এবং তার দায় নির্ধারণ। অভিজিৎ দীপকের দাবি, নিট, সিইউইটি, সিবিএসই পরীক্ষা, এসএসসি ও জিডি নিয়োগ পরীক্ষাসহ একাধিক ক্ষেত্রে বিতর্কের কারণে এক কোটিরও বেশি ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সে কারণেই পদত্যাগ দাবি করা হচ্ছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের।
শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দিল্লি পৌঁছান অভিজিৎ দীপকে। বিমানবন্দর থেকেই তিনি সমর্থকদের শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। পরে যন্তর-মন্তরে জড়ো হওয়া সমর্থকদের উদ্দেশে ভালোবাসা, শান্তি ও অহিংসার পথে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দেন।
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেজন্য দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোয় মোতায়েন করা হয় পুলিশ এবং আধাসামরিক বাহিনীর বিশাল টিম।
প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বাড়ির সামনে নিরাপত্তা বাড়িয়ে দেওয়া হয় বহুগুণে।
বামপন্থী ছাত্র সংগঠন আইসা এবং এসএফআইয়ের কর্মীরাও এই বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন। লাদাখ থেকে পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাসংস্কারক সোনম ওয়াংচুকও ছুটে আসেন এই আন্দোলনে। অভিনেতা প্রকাশ রাজসহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এই আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
সিজেপির এই প্রতিবাদের বিরোধিতা করে যন্তর-মন্তরে ঢোকার চেষ্টা করেন অন্য একটি গোষ্ঠী। ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিয়ে এবং পুলিশের সমর্থনে স্লোগান তুলে তারা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের অভিযোগ আনে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আগেই দিল্লি পুলিশ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয় এবং বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করে।
গত ১৫ মে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্যের পরদিনই এই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র জন্ম। ভুয়া আইনি ডিগ্রিধারী কিছু বেকার যুবককে তিনি উপহাস করে ‘তেলাপোকা’র সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। সেই ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যকেই হাতিয়ার করে তৈরি হয় এই অনলাইন আন্দোলন, যা এদিন এক বড়সড় রাজনৈতিক প্রতিবাদের রূপ নেয় দিল্লির রাজপথে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, এনডিটিভি