পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) সংসদ সদস্য সাকিব চাধারের বিরুদ্ধে ইলেকট্রনিক অপরাধ প্রতিরোধ আইনে (পেকা) মামলা দায়ের করেছে দেশটির জাতীয় সাইবার অপরাধ তদন্ত সংস্থা (এনসিসিআইএ)। তার বিরুদ্ধে অভিনেত্রী ও মডেল মোমিনা ইকবালকে সাইবার হয়রানি, ব্ল্যাকমেইল ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
সম্প্রতি মোমিনা ইকবাল এনসিসিআইএ-এর কাছে অভিযোগ করলে ওই এমপির বিরুদ্ধে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।
অভিযোগ অনুসারে, চাধার, তার স্ত্রী ও বেশ কয়েকজন সহযোগী মিলে মোমিনাকে সাইবার হয়রানি এবং ব্ল্যাকমেল করেন। পাশাপাশি তাকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের হুমকিও দিয়েছেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিনেত্রী ও তার আত্মীয়দের ওপর বেআইনি নজরদারি চালানো এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
মামলার এফআইআরে বলা হয়েছে, চাধার আগে থেকেই বিবাহিত জানার পর মোমিনা তার বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এই প্রত্যাখ্যানের পর, ওই এমপি তাকে ব্যক্তিগত ভিডিও পাঠান। বিয়েতে রাজি না হলে তার ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেল করা শুরু করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত নথিতে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে চাধার ওই অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনেছিলেন। এর ফলে মোমিনার আগের একটি বিয়ের প্রস্তাব ভেঙে যায়। মোমিনা, তার বর্তমান স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিয়ে বার্তা পাঠানো হয়েছিল। তার বোনকেও একই ধরনের বার্তা পাঠানো হয়েছিল।
নথিতে আরও বলা হয়, চাধারের একটি ফোন নম্বর থেকে হুমকি বার্তা শনাক্ত করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, ওই এমপির পাঠানো ব্ল্যাকমেইল ভিডিও মোমিনার মোবাইল ফোন থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
মোমিনার আইনজীবী বোন কথিত হুমকি সংক্রান্ত একটি ভিডিও এনসিসিআইএ-কে দিয়েছেন। ভিডিওটি ও মোবাইল ফোন ডিজিটাল প্রমাণ হিসেবে হেফাজতে নিয়ে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছেন তদন্তকারীরা।
তদন্ত নথিকে বলা হয়েছে, প্রাদেশিক সাংসদ এনসিসিআইএ-এর কাছে ডিভাইসটি জমা দেওয়ার আগে তার মোবাইল ফোন থেকে ডেটা ও অ্যাপ্লিকেশন মুছে ফেলেছিলেন।
এর আগে, মোমিনা চাধারের বিরুদ্ধে হয়রানি, ব্ল্যাকমেল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে মামলা দায়েরের জন্য লাহোরের চুং থানায় আবেদন করেছিলেন। তার আবেদনে তিনি অভিযোগ করেন যে, বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর ওই আইনপ্রণেতা বারবার তার এবং তার বাগদত্তার (বর্তমান স্বামী) সঙ্গে যোগাযোগ করে হুমকি দিয়েছেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন।
অভিনেত্রী মোমিনা ইকবাল আরও অভিযোগ করেন, চাধার তাকে হুমকি দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন ও মেসেজ পাঠান এবং তার বোনের ফোনেও একই ধরনের হুমকি দেওয়া হয়।
এর আগে, অভিনেত্রী তার আইনজীবীদের সঙ্গে বিষয়টি জানাতে চুং থানার এসএইচও ফাহিম ইমদাদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। বিষয়টি এমন সময় প্রকাশ্যে আসে, যখন অভিনেত্রী মোমিনা ইকবাল বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। জানা গেছে, চলতি সপ্তাহের শুরতে বিয়ের পিড়িতে বসেন এই পাকিস্তানি অভিনেত্রী।
সূত্র: জিও নিউজ