Image description

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কথিত অবৈধ অভিবাসী ইস্যুতে টানা এক সপ্তাহ ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। তথাকথিত বাংলাদেশিদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে (ভারতে পুশব্যাক; বাংলাদেশে পুশইন) সীমান্তে জড়ো করছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

 

এর ফলে পশ্চিমবঙ্গের ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা আটক শিবিরগুলোতে বন্দির চাপ কমতে শুরু করেছে। সর্বশেষ পশ্চিমবঙ্গের হাকিমপুর সীমান্তে নতুন করে আরও ১৭০ জনকে জড়ো করা হয়েছে।

 

শনিবার (৬ জুন) ভোর থেকে সীমান্তে ওই ব্যক্তিদের অবস্থান করতে দেখা যায়।

 

বিএসএফ সূত্রে জানা গেছে, উত্তর চব্বিশ পরগনার বসিরহাট মহকুমার বিথারী হাকিমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের হাকিমপুর চেকপোস্টে ১৭০ জন কথিত বাংলাদেশিকে একত্রিত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তাদের আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মাধ্যমে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিএসএফ।

 

বিএসএফের একটি সূত্রের দাবি, গত এক সপ্তাহে কয়েকশ কথিত অনুপ্রবেশকারীকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। তবে এখনও হাকিমপুর সীমান্তে দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন আরও অনেকে। সীমান্তে অপেক্ষমাণ ব্যক্তিরা নিজেদের বাংলাদেশের নাগরিক বলে দাবি করেছেন। তারা জানান, বিভিন্ন সময়ে দালাল চক্রের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন।

 

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্যমতে, অনুপ্রবেশকারীদের অনেকেই এই রাজ্যে অবস্থান করছেন। আবার কেউ কেউ পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে অন্য রাজ্যে গিয়ে বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হয়েছেন। তারা ভারত সরকারের নানা সুযোগ-সুবিধাও ভোগ করছেন। এমনকি কেউ কেউ জালিয়াতির মাধ্যমে ভারতের নাগরিকত্ব হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

 

এদিকে সীমান্তে জড়ো হওয়া এই ব্যক্তিদের বাংলাদেশে প্রবেশের বিষয়টি বিজিবি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি। তবে ভারতের হোল্ডিং সেন্টারগুলোতে বন্দির চাপ কমতে শুরু করেছে। বর্তমানে হোল্ডিং সেন্টারে থাকা শিশু, নারী ও পুরুষদের স্বাস্থ্যসেবা, খাবার এবং নিরাপত্তার বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখভাল করছে বলে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দাবি।