Image description

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত ১১ মাসে সামগ্রিকভাবে দেশের রপ্তানি আয় কমেছে। রপ্তানি আয় হ্রাসের এই ধারা দেখা গেছে পোশাক খাতেও।

বাংলাদেশে তৈরি পোশাকের একক বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্রে কোনো মতে রপ্তানির ধারা অব্যাহত থাকলেও ইইউসহ অন্য সব বাজারে কমেছে।

 

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুলাই–মে সময়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিরে আয় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫৩১ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের রপ্তানি আয়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ কম।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-মে পর্যন্ত ১১ মাসে পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল ৩ হাজার ৬৫৫ কোটি ডলার।

 

বাংলাদেশের পোশাকের প্রধান রপ্তানি বাজার ইউরোপিয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

আলোচিত ১১ মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের পোশাক খাতের বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য হিসেবে অবস্থান ধরে রাখতে পারেনি। এ সময়ে মোট আরএমজি রপ্তানির ৪৯ দশমিক ১৫ শতাংশ এসেছে এ বাজার থেকে।
ইইউতে রপ্তানি আয় হয়েছে ১ হাজার ৭৩৬ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ কম। আগের বছরের একই সময়ে ইউরোপিয় ইউনিয়নে রপ্তানি হয়েছিল ১ হাজার ৮২৫ কোটি ডলার।

 

দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। আলোচিত ১১ মাসে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৭০২ কোটি ৮৩ লাখ ডলার, যা মোট তৈরি পোশাক রপ্তানির ১৯ দশমিক ৯০ শতাংশ। এ বাজারে আগের বছরের তুলনায় পোশাক রপ্তানি কমেছে শুন্য দশমিক শুন্য ৪ শতাংশ। আগের বছরের একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি হয়েছিল ৭০৩ কোটি ১১ লাখ ডলার।

কানাডার বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। দেশটিতে পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১২৩ কোটি ডলার, যা মোট রপ্তানির ৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ। আগের বছরের তুলনায় এ বাজারে রপ্তানি ২ দশমিক ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আগের বছরে কানাডায় পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল ১২০ কোটি ডলার। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যে পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৪০২ কোটি ডলার, যা মোট রপ্তানির ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এ বাজারে রপ্তানি শুন্য দশমিক ৫০ শতাংশ কমেছে।

প্রধান দুই রপ্তানি বাজার ইউরোপিয় ইউনিয়ন ও যুক্তেরাষ্ট্রের বাজারের অপ্রচলিত (নন-ট্র্যাডিশনাল) বাজার হিসাবে অন্যান্য দেশগুলোতে রপ্তানি হয়। এই দেশগুলোদে পোশাক রপ্তানি আয়ের পরিমান প্রায় ৬০০ কোটি ডলার। এ সব দেশের মধ্য অস্ট্রেলিয়া, জাপান, ভারত, চায়না, মেক্সিকো, রাশিয়া, তুরস্ক প্রায় ১৮টি দেশে পোশাক রপ্তানি হয়। বিকল্প বাজারে হিসাবে এসব দেশকে বিবেচনা করা হয়। এসব বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য নতুন বাজারের প্রণোদনা দেওয়া হয়। কিন্তু রপ্তানি আয় হ্রাসের বৈশ্বিক পরিস্থিতির ছাপ নতুন এসব বাজারেও পড়েছে।

আলোচিত ১১ মাসে অপ্রচলিত বাজারগুলোতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৫৬৮ কোটি ডলার, যা মোট রপ্তানির ১৬ দশমিক ০৯ শতাংশ। তবে এ বাজারে রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ কমেছে। আগের বছরের একই সময়ে রপ্তানি হয়েছিল ৬০৪ কোটি ডলার।

অর্থবছরের ১১ মাসে সামগ্রিক রপ্তানি

সামগ্রিকভাবে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) পোশাকসহ সব ধরনের পণ্য রপ্তানি থেকে মোট ৪ হাজার ৩৮০ কোটি ডলার আয় হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় আড়াই শতাংশ কম। গত বছর একই সময়ে প্রায় ৪৫০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছিল।

সদ্য সমাপ্ত মে মাসে দেশ থেকে ৪৪০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। রপ্তানির এই পরিমাণ আগের মাস অর্থাৎ এপ্রিলের তুলনায় বাড়লেও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কিছুটা কম।

অন্যদিকে গত মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় শীর্ষ পাঁচ খাতের মধ্যে তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং কৃষিপণ্য রপ্তানি কমেছে; রপ্তানি বেড়েছে পাট ও পাটজাত পণ্য এবং হোমটেক্সটাইল পণ্যের।