Image description

নোয়াখালীর হাতিয়ায় ছাত্রদল নেতা আব্দুল গাফফারের বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গাফফারের অভিযোগ, হাতিয়ার সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদের ‘৩ কোটি টাকা দাবির’ তথ্য ফাঁসের জেরে চালানো হয়েছে এই হামলা।

আব্দুল গাফফার (২৯) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাতিয়ার বুড়িরচর ইউনিয়নের পশ্চিম বড় দেইল গ্রামের বাড়িতে ঘটে এ ঘটনা। পরে সাগরিয়া বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করে হাতিয়া উপজেলা ছাত্রদল। হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

আব্দুল গাফফারের দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তিনি হান্নান মাসউদের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন। ৫ আগস্টের পর নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরীকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন হান্নান। এজন্য ৩ কোটি টাকা দাবি করেন তিনি। এতে আপত্তি জানান গাফফার।

গত বুধবার বিষয়টি বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁনকে জানান তিনি। পরে রাশেদ খাঁন এ বিষয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিলে হান্নান মাসউদের অনুসারীরা গাফফারকে হুমকি দেন ও গালাগাল করেন।

গাফফারের অভিযোগ, হুমকি ও গালাগালের বিষয়টি হান্নান মাসউদকে জানালে অনুসারীরা তার নিয়ন্ত্রণে নেই বলে জবাব দেন তিনি। এরপর গাফফারের বাড়িতে হামলা হয়। হামলাকারীরা ভবনের একটি জানালা ও ফটক ভাঙচুর করে।

তার বৃদ্ধ মা জান্নাত আরা বেগম (৬০) ও বাবা মোছলেহ উদ্দিন (৬৯) বাড়িতেই থাকেন। ঘটনার পর তারা আতঙ্কে আছেন, যোগ করেন তিনি।

হাতিয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রিয়াজ মাহমুদ অভিযোগ করেন, ‘কয়েক দিন ধরে গাফফারকে প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছিলেন হান্নান মাসউদের অনুসারী এনসিপির নেতারা। যারা হুমকি দিয়েছেন তারাই এই হামলায় জড়িত।’

হাতিয়া উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক সামছুল কিবরিয়া অভিযোগ নাকচ করেছেন। তার মন্তব্য, ‘গাফফার এনসিপির নেতাকর্মীদের দায়ী করলেও ঘটনার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই... আলোচনায় আসার জন্য ঘটনাটি নিজেরাই ঘটিয়ে থাকতে পারে। এমপির মাধ্যমে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে বিএনপির নেতাকর্মীরা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন।’

অভিযোগের বিষয়ে বিরোধী জোটের এমপি আব্দুল হান্নান মাসউদের ভাষ্য, ‘আমার নিজের বাড়িতেই হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা সামাল দিতে আমি ব্যস্ত। অন্যের বাড়িতে হামলা করার প্রশ্নই আসে না।’

রাজনৈতিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে এটি সাজানো নাটক বলেও দাবি করেন তিনি।

হাতিয়া থানার ওসি কবির হোসেন বলেছেন, ‘হামলা হওয়া ভবনের দক্ষিণ পাশ অন্ধকার। সেদিক থেকে কেউ ঢিল ছুঁড়লে জানালার একটি অংশ ভেঙে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।’

তিনি আরও বললেন, ‘এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে নেওয়া হবে আইনগত ব্যবস্থা।’