Image description

বিদ্যুৎ বিল নির্ধারণ করা হয় মূলত এই ইউনিটের ওপর ভিত্তি করে। বিদ্যুৎ বিলের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত শব্দগুলোর একটি হলো এটি।

 

সহজভাবে বলতে গেলে, এক ইউনিট বিদ্যুৎ মানে ঘণ্টায় এক কিলোওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার।

 

অর্থাৎ আপনার বাসায় যদি এক হাজার ওয়াট ক্ষমতার কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্র এক ঘণ্টা চলে, তাহলে সেটি এক ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ করবে। একইভাবে ১০০ ওয়াটের একটি বাল্ব ১০ ঘণ্টা জ্বললে কিংবা ৫০ ওয়াটের একটি ফ্যান ২০ ঘণ্টা চললেও সমপরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হবে।

 

বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো এই ইউনিটের হিসাবের ভিত্তিতে গ্রাহকের বিল নির্ধারণ করে থাকে।

 

কীভাবে জানবেন কত ইউনিট ব্যবহার করছেন

আপনি কত ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন, তা জানতে হলে প্রথমে মিটারের রিডিং বুঝতে হবে। বিদ্যুৎ মিটারের ডিসপ্লেতে মোট ব্যবহৃত বিদ্যুতের পরিমাণ কিলোওয়াট-ঘণ্টা হিসেবে দেখানো হয়। নতুন মিটার বসানো হলে শুরুতে রিডিং সাধারণত শূন্য থাকার কথা।

 

কিন্তু ওই মিটার যেহেতু সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে পরীক্ষা করতে হয়, তখন তাতে ১৫ থেকে ২০ ইউনিট উঠে যেতে পারে। আবার অনেক সময় মিটার এক জায়গা থেকে এনে অন্য জায়গায় লাগাতে হয়। তখন হয়তো কারও বাড়ির মিটারের রিডিং শুরুই হয় ১০ হাজার থেকে। কিন্তু এতে সমস্যা নেই।

 

যত বিদ্যুৎ ব্যবহার হবে, মিটারের সংখ্যা তত বাড়তে থাকবে। আর মাস শেষে বর্তমান রিডিং থেকে আগের রিডিং বাদ দিয়ে মোট বিদ্যুৎ ব্যবহার বা ইউনিট নির্ধারণ করা হয়।

 

ধরুন গত মাসে মিটারের রিডিং ১২ হাজার ২০০ ইউনিট থাকে এবং বর্তমানে তা ১২ হাজার ৫০০ ইউনিট দেখায়, তাহলে ওই সময়ে ব্যবহৃত বিদ্যুতের পরিমাণ ৩০০ ইউনিট।

 

মূলত গাড়ির ওডোমিটার যেমন গাড়িটি তৈরি হওয়ার পর থেকে কত কিলোমিটার চলেছে তার হিসাব রাখে, বিদ্যুৎ মিটারও তেমনি মোট কত ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে, তার হিসাব রাখে।

 

তবে ঠিক কত টাকা বিল আসবে, শুধু মিটার দেখে তা সব সময় নির্ভুলভাবে বলা যায় না। কারণ ইউনিটের খরচ ছাড়াও বিলে মিটার ভাড়া, ভ্যাট বা অন্যান্য নির্ধারিত চার্জ যুক্ত থাকতে পারে।

 

এদিকে সরকার আবাসিকে বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটারের অতিরিক্ত মাসিক চার্জ ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

 

এ মাসে আপনার বিদ্যুৎ বিল কত আসবে

এত দিন আপনার মাসিক বিদ্যুৎ বিল গড়ে প্রায় দুই হাজার টাকা আসত। কিন্তু বিদ্যুতের নতুন মূল্যহার অনুযায়ী, আপনার বর্তমান বিল কতটা বাড়বে, তা জানতে হলে প্রথমে দেখতে হবে আপনার মাসিক বিদ্যুৎ ব্যবহার কত ইউনিট।

 

কারণ সবার বিল সমান হারে বাড়বে না। যে গ্রাহক যত বেশি ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, তার ওপর মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবও তত বেশি হতে পারে।

 

এটি জানতে মিটারের বর্তমান রিডিং থেকে আগের মাসের রিডিং বাদ দিতে হবে।

 

যেমন আপনি এ মাসে ৩০০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছেন। তাহলে আপনার বিলের একটি অংশ ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিটের স্ল্যাবে, আরেকটি অংশ ২০১ থেকে ৩০০ ইউনিটের স্ল্যাবে হিসাব করা হবে। অর্থাৎ আপনার বিল একাধিক স্ল্যাবের হারে গণনা করা হবে।

 

আরও সহজভাবে বললে, প্রথম ৭৫ ইউনিটের বিল প্রথম স্ল্যাবের হারে, পরবর্তী ১২৫ ইউনিটের বিল দ্বিতীয় স্ল্যাবের হারে এবং শেষ ১০০ ইউনিটের বিল তৃতীয় স্ল্যাবের হারে গণনা করা হবে। অর্থাৎ পুরো ৩০০ ইউনিটের জন্য একই মূল্য প্রযোজ্য হবে না।

 

বিইআরসির এক কর্মকর্তা জানান, যখনই ৭৫ ইউনিট ক্রস করবে, তখন-ই মাল্টিপল স্ল্যাবে বিল গণনা করা হবে।

 

তিনি আরও জানান, আগে কারও বিল যদি দুই হাজার টাকা হলে নতুন নিয়মে সেই বিল হয়তো আড়াই হাজার টাকার মতো আসবে। অর্থাৎ, বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ উপরে যত যাবে, দামও তত বাড়বে। কিন্তু এটা ঐকিক নিয়মের মতো বাড়বে। যে ধাপে যত শতাংশ বাড়ানো হয়েছে, সেই অনুযায়ী বাড়বে।

 

তার মতে, আবার কেউ ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে তার বিল হয়তো আগে এক হাজার টাকা আসত। কিন্তু এখন প্রায় ২০ শতাংশ বেড়ে তা হয়তো এক হাজার ২০০ টাকা হতে পারে।

 

সূত্র : বিবিসি বাংলা