Image description

বিদ্যুতের নতুন স্ল্যাবভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে কৌতূহল ও আলোচনা বাড়ছে। বিশেষ করে অনেকের প্রশ্ন, নির্ধারিত একটি সীমা অতিক্রম করলেই কি পুরো বিদ্যুৎ বিল বেশি হারে গণনা করা হবে, নাকি কেবল অতিরিক্ত ব্যবহৃত ইউনিটের ক্ষেত্রেই নতুন হার প্রযোজ্য হবে?

বিষয়টি বোঝার জন্য আগে জানতে হবে ‘মাল্টিপল স্ল্যাব’ পদ্ধতি কী। এ ব্যবস্থায় একজন গ্রাহকের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারকে বিভিন্ন ধাপে ভাগ করে বিল নির্ধারণ করা হয়। অর্থাৎ ব্যবহার করা সব ইউনিটের জন্য একই মূল্য প্রযোজ্য হয় না; বরং যে অংশ যে স্ল্যাবের মধ্যে পড়ে, সেই অংশের জন্য নির্ধারিত হার কার্যকর হয়।

ধরা যাক, কোনো গ্রাহক এক মাসে ৩০০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছেন। সেক্ষেত্রে প্রথম ৭৫ ইউনিটের বিল প্রথম স্ল্যাবের হারে, পরবর্তী ১২৫ ইউনিটের বিল দ্বিতীয় স্ল্যাবের হারে এবং বাকি ১০০ ইউনিটের বিল তৃতীয় স্ল্যাবের হারে গণনা করা হবে। ফলে ৩০০ ইউনিটের পুরো ব্যবহারের জন্য একক কোনো হার প্রযোজ্য হবে না।

কোন স্ল্যাবে কত টাকা?

বর্তমানে আবাসিক গ্রাহকদের জন্য নির্ধারিত ইউনিটভিত্তিক হার 

০-৫০ ইউনিট (লাইফলাইন) : ৪ টাকা ৬৩ পয়সা; ০-৭৫ ইউনিট : ৫ টাকা ২৬ পয়সা; ৭৬-২০০ ইউনিট : ৮ টাকা ৫০ পয়সা; ২০১-৩০০ ইউনিট : ৯ টাকা ১০ পয়সা; ৩০১-৪০০ ইউনিট : ৯ টাকা ৬২ পয়সা; ৪০১-৬০০ ইউনিট : ১৫ টাকা ১ পয়সা; ৬০০ ইউনিটের বেশি : ১৭ টাকা ৩৫ পয়সা ।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, ‘কোনো গ্রাহক ৭৫ ইউনিটের সীমা অতিক্রম করলেই তার বিদ্যুৎ বিল মাল্টিপল স্ল্যাব পদ্ধতিতে গণনা করা হবে। অর্থাৎ নির্ধারিত প্রথম ধাপের পর ব্যবহার করা ইউনিটগুলো পরবর্তী স্ল্যাবের আওতায় চলে যাবে এবং সেই অনুযায়ী মূল্য নির্ধারিত হবে।’

তিনি বলেন, ‘নতুন ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ যত বাড়বে, বিলও তত বাড়বে। তবে এটি এমন নয় যে একটি স্ল্যাব অতিক্রম করলেই পুরো ব্যবহারের ওপর উচ্চহার প্রযোজ্য হবে। বরং ধাপে ধাপে নির্ধারিত ইউনিটের জন্য সংশ্লিষ্ট স্ল্যাবের হার অনুযায়ী বিল গণনা করা হবে।’

বিইআরসির ওই কর্মকর্তা জানান, ‘নতুন কাঠামোর প্রভাব ব্যবহারভেদে ভিন্ন হবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, আগে কোনো গ্রাহকের মাসিক বিদ্যুৎ বিল দুই হাজার টাকা হলে নতুন ব্যবস্থায় তা আড়াই হাজার টাকার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। আবার মাসে ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী কোনো গ্রাহকের বিল আগে এক হাজার টাকা হলে তা প্রায় ২০ শতাংশ বেড়ে এক হাজার ২০০ টাকার মতো হতে পারে।’

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই পরিবর্তন?

বিদ্যুতের বিল নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই একটি ভুল ধারণা ছিল যে নির্দিষ্ট সীমা পার হলেই পুরো ব্যবহারের ওপর উচ্চহার কার্যকর হয়। মাল্টিপল স্ল্যাব পদ্ধতিতে সেই বিভ্রান্তি দূর করে প্রতিটি ধাপের ইউনিট আলাদাভাবে গণনা করা হবে।ফলে একজন গ্রাহকের মোট বিল নির্ভর করবে শুধু কত ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছেন তার ওপর নয়, বরং সেই ইউনিটগুলো কোন কোন স্ল্যাবে পড়ছে তার ওপরও।

বিদ্যুৎ খাতে বর্তমানে স্ল্যাবভিত্তিক বিলিং ব্যবস্থা থাকলেও নতুন প্রস্তাবিত কাঠামোয় বিভিন্ন স্তরের ইউনিটের জন্য আলাদা হারে মূল্য নির্ধারণের বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে কার্যকর করার আলোচনা চলছে। এর ফলে কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী ও বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীর মধ্যে ব্যয়ের পার্থক্য আরও দৃশ্যমান হতে পারে।

গ্রাহকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিল কত আসবে তা শুধু মোট ইউনিটের ওপর নয়, সেই ইউনিটগুলো কোন কোন স্ল্যাবে পড়ছে তার ওপরও নির্ভর করবে। তাই বিদ্যুৎ ব্যবহার সামান্য কমানো গেলেও উচ্চ স্ল্যাবে চলে যাওয়া এড়িয়ে বিলের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতে পারে।

নতুন স্ল্যাব পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা বাড়লেও এর মূল বার্তা হলো বিদ্যুৎ ব্যবহার যত বাড়বে, বিলও ধাপে ধাপে তত বাড়বে। আর সেই বৃদ্ধি হবে সংশ্লিষ্ট স্ল্যাবের নির্ধারিত হার অনুযায়ী, পুরো ব্যবহারের ওপর একক হারে নয়।

প্রসঙ্গত, গত ৩ জুন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)  বিদ্যুতের পাইকারি, সঞ্চালন ও খুচরা মূল্যহার ঘোষণা করেছে । পাইকারি পর্যায়ে ১৯.৮৫ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে ১৫ থেকে ১৯.৯৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া সঞ্চালন চার্জ ২৩. ৯৬ শতাংশ বাড়ানো হয়। তবে ঘোষণার একদিন পরই ০-৫০ ইউনিটের লাইফলাইন গ্রাহক এবং ০-৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারী আবাসিক গ্রাহকদের জন্য মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়। ফলে এই দুই শ্রেণির গ্রাহক আগের হার অর্থাৎ ইউনিটপ্রতি ৫.২৬ টাকা বিদ্যুতের বিল পরিশোধ করবেন।

তবে, ৭৫ ইউনিটের বেশি ব্যবহারকারী বা অন্যান্য শ্রেণির গ্রাহকদের (যেমন: বাণিজ্যিক, শিল্প ও উচ্চ ব্যবহারকারী আবাসিক গ্রাহক) জন্য ৩ জুনের বর্ধিত মূল্যহার অপরিবর্তিত রয়েছে এবং জুন মাস থেকে এটি কার্যকর হয়েছে।