জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, জনগণের সঙ্গে সংসদের সেতুবন্ধন হিসেবে সাংবাদিকেরা কাজ করেন। সাংবাদিক ও সংসদ মিলেমিশে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ পার্লামেন্ট জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়শনের (বিপিজেএ) কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।
বিপিজেএ’র সভাপতি হারুন জামিল ও সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী খান লিথো প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক নাজমুল ইসলাম (তানিম আহমেদ), নির্বাহী কমিটির সদস্য মশিউর রহমান, মনিরুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান পঞ্চায়েত প্রমুখ। সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাগণও এসময় উপস্থিত ছিলেন।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান সংসদের কাছে জনগণের প্রত্যাশা ব্যাপক। বিগত ২০ বছর দেশের অনেক ক্ষতি হয়েছে গেছে। প্রশাসন নষ্ট হয়ে গেছে। দেশ একটি জংলি রাষ্ট্রের পরিণত হয়েছে। সর্বত্রই মানের অবনতি ঘটেছে। এ সংসদ অনেক ত্যাগ- তিতিক্ষা ও রক্তের উপর দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমান জাতীয় সংসদের কাছে মানুষের অনেক আশা। সে প্রত্যাশা পূরণ না হলে জনগণ হতাশ হবে। জনগণের সঙ্গে সংসদের সম্পর্ক থাকতে হবে। দেশের জন্য গণবান্ধব রাজনীতি প্রয়োজন। সাংবাদিকেরা সে প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন
স্পিকার।
তিনি বলেন, বাকশাল আমলে সাংবাদিকতার যে ক্ষতি হয়েছে, তা আর পূরণ হয়নি। ওই ভীতি থেকে বিগত ২০ বছরেও সাংবাদিকেরা বের হতে পারেন নি। দেশে এখন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আছে। সংবাদপত্রগুলো যা ইচ্ছা লিখছে। পঁচাত্তরের আতঙ্কের পর মিডিয়া আজও মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ১৯৭১ সালে অনেক স্বপ্ন নিয়ে এ দেশের জনগণ দেশটাকে স্বাধীন করেছে। কিন্তু আমাদের সেই স্বপ্নগুলো ক্রমান্বয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের বিগত সময়ে গুম, আয়নাঘর প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। অর্থনীতির লুটপাট হয়েছিল। আমরা কোন দিন এটা কল্পনাও করেনি। কিন্তু এ দেশের জনগণের শক্তি আছে, ছাত্র-তরুণ, তাদের পিতা-মাতা, সাধারণ মানুষ যেদিন রাস্তায় নেমেছিল, সেদিনই আওয়ামী লীগ পালাতে বাধ্য হয়েছে। এ সংসদ প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলে জনগণ হতাশ হবে।
তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে, সবার উপরে দেশ। দেশের স্বার্থকে এগিয়ে রাখতে হবে। আশার কথা হচ্ছে— বিরোধী দল ততটা ভায়োলেন্ট নয়। তাদের কাজ সরকারের ভুল-ত্রুটির সমালোচনা করা। তারা তা করছে। সরকারি দলের কাজ সংসদকে কার্যকর করে এগিয়ে নেওয়া। সরকারি ও বিরোধী দল মিলেমিশে সংসদকে এগিয়ে নিতে হবে।
স্পিকার বলেন, সাংবাদিকদের উচিত সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলা। দেশের সাংবাদিকতার যথেষ্ঠ স্বাধীনতা এখন রয়েছে। সংসদকে কার্যকর করার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের গঠনমূলক সমালোচনা প্রত্যাশা করেন তিনি। স্পিকার সংসদের কাজে সাংবাদিকদের সমস্যাসমূহ সমাধানের আশ্বাস দেন।
বিপিজেএ নেতৃবৃন্দ সংসদ রিপোর্টিংয়ের ক্ষেত্রে বেশ কিছু সমস্যা তুলে ধরেন। স্পিকার সেগুলো সমাধানের আশ্বাস দেন।আস