শেরপুরের ঝিনাইগাতীর গারো পাহাড় এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন ও পাচারে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই বন কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে প্রথমে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার (০৩ জুন) রাত ১০টার দিকে উপজেলার নকশী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার খবর পেয়ে রাত ১২টার দিকে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন শেরপুর জেলা হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নেন এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
হামলার শিকার দুই কর্মকর্তারা হলেন— রাংটিয়া রেঞ্জের গজনী বিট কর্মকর্তা সালেহীন নেওয়াজ খান এবং ফরেস্ট গার্ড জিয়াউল ইসলাম।
অভিযুক্ত হামলাকারীরা হলো— ঝিনাইগাতী উপজেলার থানা রোড এলাকার কছিমুদ্দিন মেম্বারের ছেলে ফরহাদ হোসেন (৪৫), তার ছেলে রুমান (২৫) ও একই এলাকার জহুরুল ইসলামের ছেলে সোহাগ মিয়া (২৮) এবং আরও কয়েকজন।
বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (০৩ জুন) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে গারো পাহাড়ের ঝিনাইগাতী জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে একটি মাহিন্দ্র গাড়িতে করে পাচার করা হচ্ছিল। খবর পেয়ে ওই বিট কর্মকর্তা, ফরেস্ট গার্ডসহ বন বিভাগের সদস্যরা সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় তারা বালুভর্তি মাহিন্দ্র গাড়ি জব্দ করেন এবং কয়েকজন কারবারিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। এরপর থেকেই তারা ফুসে ওঠে।
রাংটিয়া রেঞ্জের ডেপুটি রেঞ্জার আব্দুল করিম জানান, সকালে বালু আটক করে পুলিশে দেওয়ার পর থেকেই এই চক্রটি ওৎপেতে ছিল আমাদের লোকজনের উপর হামলা করার জন্য। আমরা বিষয়টি আঁচ করতে পারিনি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। তাদের নির্দেশনা মোতাবেক পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নিব।
শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার শুভ্রাংশু ব্যানার্জি বলেন, বন বিভাগের দুজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের মাথায় আঘাত রয়েছে। তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল আছে।
শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা বলেন, ঝিনাইগাতীতে বন বিভাগের দুজন আহত হয়েছেন বিষয়টি আমরা জেনেছি। তারা বর্তমানে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শেরপুর জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, অপরাধীরা আমাদের গারো পাহাড়ের প্রাণ প্রকৃতি নষ্ট করছে। আবার আমাদের কর্মকর্তাদের ওপর হামলাও করছে। এটা মেনে নেওয়া হবে না। এ ঘটনায় মামলার কার্যক্রম চলমান। দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।