Image description

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখে বাড়ি ফেরার পথে এক নারী (৪০) ও তার ভাগিনীকে (১৮) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিন জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও চার জনকে আসামি করে দেবীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নানা নাটকীয়তার পরে অবশেষে মঙ্গলবার (২ জুন) ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় অভিযুক্তরা হলেন: দেবীগঞ্জ উপজেলার শালডাঙ্গা ইউনিয়নের অমরখানা এলাকার মো. পারভেজ (২০), মো. রাসেল ইসলাম (২২) ও বিশ্বজিৎ (২১)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ মে রাতে দেবীগঞ্জ উপজেলার অমরখানা এলাকায় একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে মামী ও ভাগিনী নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন। কিন্তু বাড়িতে তালা লাগানো থাকায় তারা অন্যত্র যাওয়ার জন্য একটি ভ্যানের খোঁজ করতে থাকেন। এ সময় এক ব্যক্তি তাদের ভ্যান এনে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর সে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান নিয়ে কয়েকজনকে সঙ্গে করে ফিরে আসে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ভাগিনীকে জোরপূর্বক একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। একই সময়ে তার মামীকে ব্যাটারিচালিত ভ্যানে তুলে করতোয়া নদীর পাড়ে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়। নির্যাতনের শিকার দুই নারী অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তারা সেখানে পুলিশ পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভুক্তভোগী ভাগ্নীর বাবা বলেন, “আমার মেয়ে ও তার মামীর সঙ্গে যে নির্মম ঘটনা ঘটেছে, তার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আমরা এ ঘটনার ন্যায়বিচার চাই।”

পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ও আধুনিক সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মিজানুর রহমান জানান, ধর্ষণের অভিযোগে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া দুই ভুক্তভোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। প্রয়োজনীয় আলামতও সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল ও অন্যান্য তদন্তের ভিত্তিতে বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এ বিষয়ে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফরহাদ হোসেন বলেন, “ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।”

ঘটনাটি প্রকাশের পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, অভিযুক্তরা স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে আপোষ মিমাংসা ও ধামাচাপা দেয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়েছেন।

শীর্ষনিউজ