Image description

কক্সবাজারের মহেশখালীতে মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে নির্মাণাধীন ‘মাতারবাড়ী পোর্ট এক্সেস রোড’ প্রকল্পে বালু উত্তোলন কেন্দ্র করে ভয়াবহ অনিয়ম, বিধি লঙ্ঘন এবং শতকোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘টোকিও মিল জেভি’, কক্সবাজার জেলা প্রশাসন, সড়ক ও জনপদ বিভাগের (সওজ) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বালুমহাল ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত একাধিক পক্ষ। নিয়মবহির্ভূতভাবে অনুমোদন নেওয়ার পর বালু উত্তোলনেও গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। জেলা প্রশাসন থেকে ১৩ শর্তে বালু তোলার অনুমোদন দেওয়া হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেই শর্ত মানছে না। ফলে একদিকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশের।

সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় বালুর প্রকৃত পরিমাণ, উত্তোলনের বৈধতা, পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং রয়্যালটির হার—প্রতিটি স্তরেই গুরুতর অনিয়ম হয়েছে। এমনকি পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা (ইআইএ) ছাড়াই বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এরই মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত শুরু করেছে। গত ২২ ফেব্রুয়ারি দুদকের সহকারী পরিচালক মো. নাছরুল্লাহ হোসাইন কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কাছে সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন।

মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর সংযোগকারী ২৭ কিলোমিটার এক্সেস রোড নির্মাণ প্রকল্পের দুটি প্যাকেজ (সিডব্লিউ-২ ও সিডব্লিউ-৩) বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় জাপানি প্রতিষ্ঠান টোকিও কনস্ট্রাকশন এবং বাংলাদেশের ম্যাক্স গ্রুপের যৌথ উদ্যোগ (জেভি)। প্রকল্পটির প্রতি কিলোমিটার নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৪৭ কোটি টাকা, যা বাংলাদেশের অন্যান্য সড়ক প্রকল্পের তুলনায় অস্বাভাবিক বেশি। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বালু উত্তোলনের লক্ষ্যে ২০২৫ সালের ১৫ মে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উন্নয়ন প্রকল্পের প্রয়োজনীয় বালুর পরিমাণ, অনুমোদিত ব্যয় এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথিপত্রসহ পূর্ণাঙ্গ আবেদন জমা দিতে বলা হয়। এরপর জেলা প্রশাসনের শর্ত পূরণ না করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটি) কাছে আবেদন করে। সে অনুযায়ী তারা ২০২৫ সালের ১৩ আগস্ট ৫৫ পয়সা হারে বালু উত্তোলনের কার্যাদেশ পায় এবং বালু উত্তোলন শুরু করে। কিন্তু শুরুতেই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে উত্তোলন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। জেলা প্রশাসনের যুক্তি—বিআইডব্লিউটিএ বালুর মালিক নয় এবং এ ধরনের অনুমোদন দেওয়ার এখতিয়ার তাদের নেই। এরপর বিষয়টি ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের তৎকালীন ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদারের নেতৃত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে বিআইডব্লিউটিএর দেওয়া অনুমোদন বাতিল করা হয়। একই সময়ে দুদক বিষয়টির অনুসন্ধান শুরু করে এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র তলব করে। পরে ২০২৫ সালের ২২ ডিসেম্বর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফের জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করে। জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মতামত চেয়ে একটি উপকমিটি গঠন করে। উপকমিটির অনুসন্ধানে গণপূর্ত অধিদপ্তর জানায়, সরকারি হিসাবে বালুর রয়্যালটি হার প্রতি সিএফটি ৬ টাকা ৯৪ পয়সা। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং অন্যান্য সংস্থার মতামত ছিল ১৬ টাকা ৭০ পয়সা। তবে এসব মতামত ও সরকারি নির্ধারিত হার উপেক্ষা করে জেলা প্রশাসক নিজস্ব সিদ্ধান্তে বালুর রয়্যালটি হার প্রতি সিএফটি ২ টাকা ৩৭ পয়সা নির্ধারণ করেন।

এ ছাড়া মন্ত্রণালয় বালু উত্তোলনের আগে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন নেওয়ার নির্দেশ দিলেও প্রকল্প কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পরিবেশগত ছাড়পত্র সংগ্রহ করেনি। পরিবেশ অধিদপ্তর লিখিতভাবে জানিয়েছে, এ বিষয়ে তাদের মতামত নেওয়া হয়নি এবং ছাড়পত্র ছাড়া বালু উত্তোলন আইন লঙ্ঘনের শামিল।

প্রথম দফায় ৫৫ পয়সায় বালুর মূল্য নির্ধারণ: নথি অনুযায়ী, মাতারবাড়ী পোর্ট এক্সেস রোড প্রকল্পে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘টোকিও মিল জেভি’ প্রায় ৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫৯ হাজার ১৮২ ঘনফুট বালু উত্তোলনের আবেদন করে। প্রথম দফায় বিআইডব্লিউটিএর মাধ্যমে প্রতি ঘনফুট বালুর মূল্য ভ্যাট ও আয়করসহ মাত্র ৫৫ পয়সা নির্ধারণ করে কার্যাদেশ নেওয়া হয়। কিন্তু ভূমি মন্ত্রণালয়ের জাতীয় বালুমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি গত বছরের ৩০ নভেম্বর সে সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেয়। এরপর ২২ ডিসেম্বর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি নতুন করে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কাছে একই পরিমাণ বালু উত্তোলনের আবেদন করে। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, মহেশখালীর হামিদারদিয়া মৌজা, ঠাকুরতলা মৌজা এবং নুচিয়ারছড়া এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করা হবে।

জেলা বালুমহাল কমিটির সভা ও উপকমিটি গঠন: ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আবেদনের পর একই বছরের ২৮ ডিসেম্বর কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মন্নানের সভাপতিত্বে জেলা বালুমহাল কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, বালু উত্তোলনের ক্ষেত্রে পরিবেশগত প্রভাব পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে। তবে সভায় বালুর রয়্যালটি নির্ধারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (রাজস্ব) আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যের একটি উপকমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে গণপূর্ত বিভাগ, সওজ, পাউবো, প্রকল্প কর্তৃপক্ষ ও সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) সদস্য করা হয়।

বিভিন্ন দপ্তরের রেট শিডিউলে বড় পার্থক্য: উপকমিটির কার্যক্রমে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর তাদের রেট শিডিউল জমা দেয়। গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ চৌধুরী চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি পাঠানো চিঠিতে জানান, ২০২৩ সালের শিডিউল অনুযায়ী প্রতি ১ হাজার ঘনফুট বালুর রয়্যালটি ৬ হাজার ৯৪০ টাকা, অর্থাৎ প্রতি ঘনফুট ৬ টাকা ৯৪ পয়সা। অন্যদিকে পাউবো এবং সওজ—উভয় দপ্তরের জমা দেওয়া শিডিউলে প্রতি ঘনফুট বালুর মূল্য ১৬ টাকা ৭০ পয়সা দেখানো হয়। অর্থাৎ, সরকারি বিভিন্ন সংস্থার নথিতে বালুর হার ৬ টাকা ৯৪ পয়সা থেকে ১৬ টাকা ৭০ পয়সার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছিল।

প্রকল্প পরিচালকের অস্পষ্ট ব্যাখ্যা: প্রকল্প পরিচালক আকবর হোসেন পাটোয়ারী উপকমিটিকে পাঠানো চিঠিতে প্রকল্পে বালুর জন্য সুনির্দিষ্ট অর্থ বরাদ্দের বিষয়ে পরিষ্কার তথ্য দেননি। তিনি শুধু বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। এরপর গত ১৫ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসক নিজেই প্রকল্প পরিচালকের কাছে চিঠি পাঠিয়ে বিল অব কোয়ান্টিটিস (বিওকিউ) অনুযায়ী বালুর রেট, মূল্য ও রয়্যালটি স্পষ্টভাবে জানাতে বলেন। চিঠিতে জেলা প্রশাসক উল্লেখ করেন, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০২৫ অনুযায়ী সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে বালু উত্তোলনের অনুমতি দিতে হলে প্রকল্পে নির্ধারিত অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা দিতে হবে। কিন্তু প্রকল্প কর্তৃপক্ষ সে বিষয়ে পরিষ্কার তথ্য দিচ্ছে না।

ইআইএ ছাড়াই অনুমতি: পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা গত ১৮ জানুয়ারি জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে জানান, এ ধরনের বালু উত্তোলনের জন্য ইআইএ বাধ্যতামূলক এবং রূপরেখা বা কার্যপরিধি (টিওআর) প্রয়োজন। পরে ৩ মার্চ জেলা বালুমহাল কমিটির সভায়ও পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি আবার ইআইএ সম্পন্ন করার প্রস্তাব দেন। কিন্তু সভার সিদ্ধান্তে উল্লেখ করা হয়, বিধিমালায় এ বিষয়ে ‘সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা’ না থাকায় বিষয়টি ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। পরবর্তী সময়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জমির উদ্দিন গত ২০ এপ্রিল মহাপরিচালককে চিঠি দিয়ে অভিযোগ করেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের আপত্তি উপেক্ষা করে ইআইএ ছাড়াই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

কীভাবে ৬.৯৪ টাকা থেকে নেমে এলো ২.৩৭ টাকা: তদন্তসংশ্লিষ্ট নথিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে বালুর রয়্যালটি নির্ধারণ নিয়ে। ৩ মার্চের সভায় উপকমিটি বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের রেট শিডিউল উপস্থাপন করে। সেখানে—সওজের রেট ১৬ টাকা ৭০ পয়সা; পাউবোর ১৬ টাকা ৭০ পয়সা, গণপূর্ত বিভাগের ১৬ টাকা ৮০ পয়সা এবং গণপূর্ত বিভাগের ‘রয়্যালটি অব স্যান্ড’ ৬ টাকা ৯৪ পয়সা। সভার আলোচনায় ৬ টাকা ৯৪ পয়সা থেকে ড্রেজিং খরচ বাদ দিয়ে ২ টাকা ৩৭ পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাব আসে বলে উল্লেখ রয়েছে। তবে নথি অনুযায়ী, এ হিসাবের পক্ষে উপকমিটির কোনো সদস্যের সুস্পষ্ট লিখিত মতামত পাওয়া যায়নি। পরে ৩১ মার্চ জেলা বালুমহাল কমিটির সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতি ঘনফুট বালুর রয়্যালটি ২ টাকা ৩৭ পয়সা নির্ধারণ করা হয় এবং সেই হারে টোকিও মিল জেভিকে ৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫৯ হাজার ১৮২ ঘনফুট বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়।

অথচ এর আগে গণপূর্ত অধিদপ্তরের গবেষণা ও উন্নয়ন ইউনিট ২৫ মার্চ জেলা প্রশাসককে জানায়, ‘রয়্যালটি অব স্যান্ড’ মূলত উত্তোলিত বালুর জন্য প্রযোজ্য এবং এটি স্টক ম্যাটেরিয়ালের রয়্যালটি হিসেবে বিবেচিত হবে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের শর্তও মানা হয়নি: ভূমি মন্ত্রণালয় ১৫ মার্চ জেলা প্রশাসককে পাঠানো চিঠিতে বেশ কয়েকটি শর্ত দেয়। এর মধ্যে ছিল—প্রকল্পের নির্ধারিত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে; আইন ও বিধি অনুসারে বালুর মূল্য নির্ধারণ করতে হবে; ইআইএ সম্পন্ন করতে হবে এবং বালু উত্তোলন সার্বক্ষণিক তদারকি করতে হবে। কিন্তু এসব শর্ত পূরণ না করেই জেলা প্রশাসন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দেয়। নথি অনুযায়ী, ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আগে ৪ মার্চ অনুমতিপত্র ইস্যু করা হয়।

২১৩ কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি: সরকারি নির্ধারিত ৬ টাকা ৯৪ পয়সা হারে রয়্যালটি আদায় করা হলে ৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫৯ হাজার ১৮২ ঘনফুট বালুর বিপরীতে সরকার পেত প্রায় ৪৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা। কিন্তু ২ টাকা ৩৭ পয়সা হারে আদায় করায় রাজস্বের পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫ কোটি ৩ লাখ টাকা।

সেই হিসাবে শুধু এ অংশেই সরকারের সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২৯ কোটি টাকা। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রকল্পের প্রকৃত প্রয়োজন প্রায় ৩৩ কোটি ঘনফুট বালু। সেই হিসাবে ৬ টাকা ৯৪ পয়সা হারে সরকারের পাওনা দাঁড়াত প্রায় ২২৯ কোটি টাকা। অথচ আদায় হবে মাত্র ১৫ কোটি টাকার কিছু বেশি। এতে সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ ২১৩ কোটির বেশি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের (এমআইএল) জেনারেল ম্যানেজার আহাম্মদ সুফীর সঙ্গে। তবে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করে হেড অফিসের মিডিয়া কর্মকর্তা ইব্রাহিম খলিল পলাশ নামে একজনের সঙ্গে কথা বলতে বলে তার নম্বর দেন। পরে ওই কর্মকর্তাকে ফোন দেওয়া হলে তিনি অভিযোগ শুনে বিষয়টি লিখিত আকারে জানাতে বলেন। পরে মঙ্গলবার বিকেলে তাকে সুনির্দিষ্ট পাঁচটি প্রশ্ন পাঠানো হয়। তবে গতকাল বুধবার অফিস সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান কালবেলাকে বলেন, ‘যা করা হয়েছে আইন ও বিধি অনুযায়ী করা হয়েছে। তবে তারা বালু উত্তোলনে কোনো শর্তভঙ্গ করে থাকলে, আমরা সেটি দেখে উত্তোলন বন্ধ করব।’