Image description

আসন্ন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে স্পেনের জাতীয় দলের বাইরেও বিশ্বমঞ্চে থাকছে এক টুকরো স্পেন। ফুটবলারদের বৈশ্বিক নাগরিকত্ব, পারিবারিক ঐতিহ্য এবং আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগের কারণে স্পেনের মাটিতে জন্ম নেওয়া ১০ জন তারকা ফুটবলার এবার খেলবেন অন্য দেশের হয়ে। স্প্যানিশ জার্সি ছেড়ে অন্য দেশের প্রতিনিধি হয়ে ওঠা এই ১০ ফুটবলারের গল্প তুলে ধরা হলো:

মরক্কোর পাঁচ ‘স্প্যানিশ’ সামুরাই

১. আশরাফ হাকিমি: মাদ্রিদে জন্ম নেওয়া এই রাইট-ব্যাক রিয়াল মাদ্রিদের একাডেমিতে বড় হয়েছেন। ২০২২ বিশ্বকাপে নিজের জন্মভূমি স্পেনের বিপক্ষেই টাইব্রেকারে জয়সূচক পেনাল্টি গোল করে মরক্কোর জাতীয় নায়কে পরিণত হন তিনি।

২. ব্রাহিম দিয়াজ: রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ডের জন্ম মালাগায়। দীর্ঘদিন স্পেনের হয়ে খেলার গুঞ্জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত পারিবারিক শিকড়ের টানে মরক্কোকেই বেছে নেন তিনি।

৩. মুনির আল হাদ্দাদি: মাদ্রিদের এই ফুটবলার স্পেনের মূল দলের হয়েও অভিষেক করেছিলেন। পরবর্তীতে ফিফার নিয়মের পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে মরক্কো দলে যোগ দেন।

৪. ওমর আল হিলালি: বার্সেলোনায় জন্ম নেওয়া এই ডিফেন্ডার মরক্কো দলের অন্যতম প্রধান আন্তর্জাতিক ভরসা।

৫. শাদি রিয়াদ: মায়োর্কায় জন্ম নেওয়া এই সেন্টার-ব্যাককে ইউরোপীয় ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগেই নিজেদের ডেরায় ভিড়িয়েছে মরক্কো।

ঘানার আক্রমণভাগের নেতা:

ইনিয়াকি উইলিয়ামস: বিলবাওয়ে জন্ম নেওয়া এই ফরোয়ার্ড স্পেনের বয়সভিত্তিক দলে খেললেও মা-বাবার আফ্রিকান শিকড়ের টানে ঘানা জাতীয় দলে যোগ দেন।

ল্যাটিন আমেরিকার তিন প্রতিনিধি

১.নিকো পাজ: তেনেরিফেতে জন্ম নেওয়া এই মিডফিল্ডার আর্জেন্টিনা দলের হয়ে খেলবেন। তিনি সাবেক আর্জেন্টাইন ফুটবলার পাবলো পাজের ছেলে

২. রদ্রিগো সালাজার: আলবাসেতেতে জন্ম নেওয়া এই মিডফিল্ডার পারিবারিক ঐতিহ্যের কারণে উরুগুয়ের ‘লা সেলেস্তে’ জার্সি গায়ে জড়িয়েছেন।

৩.জেরেমি সারমিয়েন্তো: মাদ্রিদে জন্ম নেওয়া এই উইঙ্গার শৈশবেই ইংল্যান্ডে পাড়ি জমান এবং পরবর্তীতে পারিবারিক সূত্রে ইকুয়েডরকে নিজের দেশ হিসেবে বেছে নেন।

মেক্সিকোর ‘ম্যাজিশিয়ান’

আলভারো ফিদালগো: ওভিয়েদোতে জন্ম নেওয়া এই ফুটবলার মেক্সিকান ক্লাব আমেরিকার হয়ে আলো ছড়িয়ে দেশটির নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন এবং মেক্সিকো জাতীয় দলে জায়গা করে নেন।

আধুনিক ফুটবল যে কেবল ভৌগোলিক সীমানায় আটকে নেই, স্পেনে জন্ম নেওয়া এই ১০ ফুটবলারের ভিন্ন ভিন্ন দেশের হয়ে বিশ্বকাপ অংশ নেওয়ার গল্পটিই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।