Image description
জনমনে প্রশ্ন : হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড কে। ‘কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়ে ছিল? সবটাই জানি’-কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশে মমতা।

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডকে ইঙ্গিত করে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা ব্যানার্জির দেওয়া বিস্ফোরক বক্তব্যে সর্বত্র তোলপাড়। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত আসামিদের প্রোটেকশন দিতে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ হস্তক্ষেপ ছিল-তার এমন মন্তব্য মুহূর্তেই হইচই পড়ে যায়। এমনকি ‘কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়েছিল? সবটাই জানি...’ এমন বক্তব্য আগুনে ঘি ঢেলে দেওয়ার অবস্থা হয়। মঙ্গলবার কলকাতার ধর্মতলায় সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর আলোচিত এ বক্তব্য এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

এমকি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লিসহ অনেক স্থানে এ আলোচনা নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে। নড়েচড়ে বসেছে ঢাকার প্রশাসন। তদন্তসংশ্লিষ্টরা অনেকটা হতচকিত। যদিও বিএনপি সরকার বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে প্রাধান্য দিয়ে কথা বলছে কূটনৈতিক ভাষায়। তবে জনমনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সবার মধ্যে জানার প্রবল আগ্রহ-তাহলে হাদি হত্যার প্রকৃত মাস্টারমাইন্ড কে বা কারা। ভিন্ন কোনো দেশের সম্পৃক্ততা আছে কি না, সেটি স্পর্শকাতর বিষয় হলেও তদন্ত সংস্থাকে জনগণের সামনে স্পষ্ট করার দাবি রাখে। এমনটিই মনে করেন অনেকে।

কলকাতার ধর্মতলায় মঙ্গলবার এক জনসভায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা ব্যানার্জি দাবি করেন, বাংলাদেশের একটি হত্যা মামলার আসামি ভারতের মেঘালয় দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশের পর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘দেশের স্বার্থে’ এ বিষয়ে মমতার নেতৃত্বাধীন তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে মুখ খুলতে নিষেধ করেন। মমতা বলেন, ‘কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়েছিল? সবটাই জানি।’ মমতা আরও বলেন, “বাংলাদেশ থেকে এক বড় খুনিকে এসটিএফ গ্রেফতার করেছিল জেনে রাখুন, যা নিয়ে বাংলাদেশে অনেক ‘রেভল্যুশন’ হয়েছিল।...মেঘালয় দিয়ে বাংলায় চলে আসে।...আমাদের এসটিএফ তাকে ধরে।...তারপর হোম মিনিস্টার (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) নিজে আমাকে ফোন করে বলেছেন। এতদিন তো কই আমি বলিনি, মুখ খুলিনি। আজ অত্যাচারের শেষ সীমায় গেছেন। আমি এখনো নামটা বলছি না ভদ্রতা করে। বাংলাদেশের লোক উত্তাল হয়ে যাবে, আমি সেটা চাই না, আমি দেশকে ভালোবাসি।”

বুধবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, হাদি হত্যার আসামি যারা ভারতে গ্রেফতার আছে, তাদের দ্রুত ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনা হবে। আর সেটা করা হবে ভারত সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে। মমতা ব্যানার্জির বক্তব্যের বিষয়ে তিনি বলেন, একজন পরাজিত নেতা একটা কথা বলেছেন, দ্যাট ইজ নট আওয়ার ম্যাটার টু ডিসকাস। এখন যদি ভারত সরকার বাংলাদেশকে হাদি হত্যার বিষয়ে কিছু বলে, অবশ্যই আমরা দেখব। অলরেডি এটা নিয়ে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

চাঞ্চল্যকর শরিফ ওসমান হাদি সংক্রান্ত মামলার তদন্ত কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের ডিআইজি ও ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগশন ডিপার্টমেন্টের (সিআইডি) ভারপ্রাপ্ত প্রধান আলি আকবর খান। তিনি বলেন, মামলাটি রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং বিদেশে থাকা আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আমরা ভারত সরকারের কাছে মিউচুল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্সের আওতায় চিঠি দিয়েছি। এখনো তাদের সাড়া পাইনি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রয়োজনে আমরা পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে জিজ্ঞাসাবাদ করব। কারণ, তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন, আমরা এখনো তদন্তে সে পর্যন্ত যেতে পারিনি। তিনি জানান, দেশের বাইরে কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে আইনগত কিছু জটিলতা থাকে। সম্ভব হলে সেই জটিলতাগুলো দূর করে আমরা সেই পথে এগোব।

এদিকে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বুধবার ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লহ আল জাবের বলেন, মমতা ব্যানার্জির বক্তব্যের মধ্য দিয়ে এটি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, শহীদ ওসমান হাদি খুনের সঙ্গে ভারত এবং দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত।

ইনকিলাব মঞ্চের নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমা দাবি করেন, মমতা ব্যানার্জির বক্তব্যে ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্তে যুক্ত হয়েছে নতুন এক রাজনৈতিক মাত্রা। তার বক্তব্য থেকে এটা এখন স্পষ্ট যে, অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ভারতীয় রাষ্ট্রীয় মদদে বা তাদের সহায়তায় সংঘটিত হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীরা অপরাধ সম্পন্ন করার পর ভারতে পালিয়ে যায়। তাদের সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যেহেতু তারা ভারতের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ নির্দেশনায় এ কাজ সম্পন্ন করেছে, তাই ভারত সরকার তাদের সহজে আমাদের হাতে তুলে দেবে না। তিনি বলেন, হত্যাকারীরা যাতে কোনোভাবেই পার পেয়ে যেতে না পারে, সেজন্য সরকারকে অনতিবিলম্বে বিদ্যমান বন্দিবিনিময় চুক্তি অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে।

প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার মাত্র ২০ ঘণ্টার মাথায় চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে প্রকাশ্য জুমার নামাজ শেষে ফেরার পথে একটি মোটরসাইকেলে আসা দুই আরোহী হাদিকে লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে নিখুঁত নিশানায় মাথায় গুলি করে। পরে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের রামপুরা এলাকার অন্যতম সমন্বয়ক এবং পরবর্তী সময়ে ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনের এক প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর ছিলেন এই তরুণ। ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া এবং অল্প সময়ে তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন মহলবিশেষের জন্য তীব্র অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

দীর্ঘদিন চাপা পড়ে থাকা ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে মমতার বক্তব্যের পর জনমনে তৈরি হয়েছে তীব্র কৌতূহল। সবার মনে প্রধান প্রশ্ন-হাদি হত্যার আসল মাস্টারমাইন্ড বা পরিকল্পনাকারী কে? কারা জড়িত ছিল এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে? তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে করা হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক ও রাজনৈতিক স্পর্শকাতরের কারণে এ নিয়ে পুলিশ এখনই চূড়ান্ত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তারা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডটি কোনো সাধারণ অপরাধ ছিল না। এটি ছিল একটি সুদূরপ্রসারী পূর্বপরিকল্পিত খুন। হত্যাকাণ্ডের কিছুদিন আগে বাংলাদেশে একটি গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই বৈঠকে হাদিসহ আরও তিনজনকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। আন্তর্জাতিক একটি গোয়েন্দা সংস্থার গুপ্তচর এ বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছিলেন, ‘আপনারা সাবধান হয়ে যান।’ ভারতে যখন এই হত্যাকাণ্ডের আসামিরা ধরা পড়ে, তখন তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও বাংলাদেশের তদন্ত টিমের কাছে অনেক তথ্যই গোপন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাধারণ মানুষ এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে অনেক সচেতন। যখন একটি প্রতিবেশী দেশের সদ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সেই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জড়িত থাকার বা ধামাচাপা দেওয়ার ইঙ্গিত দেন, তখন তা ভারতের ‘প্রচ্ছন্ন ছত্রছায়ায়’ এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কি না, সেই সন্দেহকে আরও ঘনীভূত করে। হাদি মূলত ভারতবিরোধী রাজনীতির অন্যতম অগ্রনায়ক ছিলেন। ফলে এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো গভীর রাজনৈতিক যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। মমতা ব্যানার্জির বক্তব্যের পর এখন দুই দেশের জনগণই চাচ্ছে, হাদি হত্যার পেছনের প্রকৃত সত্য এবং এর আসল মাস্টারমাইন্ডের নাম অবিলম্বে জনসমক্ষে আসুক।

সাবেক আইজপি আশরাফুল হুদার কাছে জানতে চাইলে তিনি মমতা ব্যানার্জির বক্তব্যের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তবে তিনি এ বিষয়ে যুগান্তরকে বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে ভারতে গ্রেফতার হাদি হত্যার আসামিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা উচিত। তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের অপরাধী হস্তান্তর চুত্তি স্বাক্ষরিত রয়েছে। ফলে আইনি বা প্রক্রিয়াগত কোনো জটিলতা থাকার কথা নয়। একটি বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র হিসাবে ভারত সরকার সেখানে গ্রেফতার আসামিদের বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করবে-এটাই প্রত্যাশা। তদন্তের স্বার্থে এবং দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখতে এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএ ইতোমধ্যে ভারতে গ্রেফতার মূল শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর শেখকে দিল্লি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তাদের সাহায্যকারী ফিলিপ সাংমাকেও পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অপরদিকে মমতা ব্যানার্জির বক্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই ২ জুন রাতে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে সহকারী হাইকমিশনে দ্বিতীয় সচিব পদে কর্মরত (চুক্তিভিত্তিক) হাদির বড় ভাই শরীফ ওমর বিন হাদি ফেসবুকে দুটি বিস্ফোরক পোস্ট দেন। একটি পোস্টে তিনি বলেন, ‘শহীদ ওসমান হাদির খুনের সঙ্গে ইন্টেরিম (অন্তর্বর্তী) সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা এবং বিএনপি সরকারের কয়েকজন এমপি-মন্ত্রী সরাসরি জড়িত।’ অপর পোস্টে বলেন, ‘শহীদ ওসমান হাদি হত্যার প্রেক্ষাপট তৈরিতে আমিরে জামায়াতের একজন ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) জড়িত। হাদিকে ঢাকা-৮ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য ব্যাপক প্রেশার দিয়েছে আমাদের।’ একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়েও কেন তিনি এই ঝুঁকি নিলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তবে এর পেছনে হাদির পরিবারের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং মামলার চার্জশিট ও অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন বারবার (১২ বার) পেছানোর হতাশা কাজ করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তদন্ত যা বলছে : সিআইডি সূত্র জানায়, তদন্তে ২১৮ কোটি টাকার একটি স্বাক্ষরিত চেকের হদিস পাওয়া গেছে। ওই চেক হত্যাকাণ্ডের পেছনে অর্থায়নের দিকে ইঙ্গিত করে। চট্টগ্রামের অস্ত্র বিক্রেতা মাজেদুল এবং সাভারের হেলালকে রিমান্ডে নিয়ে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তলটি সীমান্ত পার হয়ে আসার পর পাঁচবার হাতবদল হয়ে মূল শুটার ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ফয়সাল করিম মাসুদের হাতে পৌঁছায়। সূত্রমতে, এই সুনির্দিষ্ট হত্যাকাণ্ডের মিশন সফল করতেই সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সালকে বিশেষ তদবিরে কারাগার থেকে জামিনে বের করা হয়েছিল। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পক্ষ থেকে ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুলসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়। তবে মামলার বাদী (ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব) এই তদন্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালতে নারাজি আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত চার্জশিটটি গ্রহণ না করে মামলাটির নিখুঁত ও অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।

বর্তমানে মামলাটি সিআইডি তদন্ত করছে। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ভারতে তিনজন এবং বাংলাদেশে ১১ জন গ্রেফতার হয়েছেন। বাংলাদেশে গ্রেফতার ১১ জনের মধ্যে নয়জনই আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। সবশেষ ১২ জানুয়ারি মাদারীপুরের রুবেলকে কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেফতারের পর ২২ জানুয়ারি জবানবন্দি দেন। তার জবানবন্দিতে আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানকের পিএস বিপ্লব এবং আদাবর থানা ছাত্রলীগের সেক্রেটারি কামরুজ্জামান রুবেলের নাম উঠে আসে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র সরবরাহকারী মাজেদুল তার জবানবন্দিতে জানান, ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার কাছে তিনি অস্ত্রটি বিক্রি করেছিলেন।