বাড়ল বিদ্যুতের দাম। শুধুই কি বিদ্যুতের দর? নাকি এর সঙ্গে বেড়ে যাবে আরও কিছু মূল্য? গবেষণায় দেখা গেছে, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে আনুপাতিক হারে সামগ্রিক ব্যয় বাড়ে প্রায় চার গুণ। সেই হিসাবে গ্রাহকপর্যায়ে গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির ফলে দৈনন্দিন ব্যয় অন্তত ৬০ শতাংশ বাড়বে। যার প্রভাব পড়বে পুরো অর্থনীতিতে। ২৫ বছরে এবারই একবারে সবচেয়ে বেশি বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে।
আজ বুধবার পাইকারি ও খুচরা— উভয়পর্যায়েই মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি), যা চলতি মাস থেকেই কার্যকর হবে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পাইকারিপর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১ টাকা ৩৯ পয়সা এবং খুচরাপর্যায়ে ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। ফলে খুচরাপর্যায়ে বিদ্যুতের গড়মূল্য ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং পাইকারিপর্যায়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রভাব শুধু বিদ্যুৎ বিলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। শিল্পোৎপাদন ব্যয়, সেচ কার্যক্রম, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়েও এর প্রভাব পড়তে পারে। ফলে মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা ভোক্তাদের ওপর নতুন করে আর্থিক চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিইআরসি জানায়, বিদ্যুৎ উৎপাদন, ক্রয় ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, সঞ্চালন, বিতরণ ব্যয় এবং সার্বিক আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন মূল্যহার নির্ধারণ করা হয়েছে। কমিশনের হিসাবে, পাইকারি মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) ঘাটতি পূরণে সরকারকে বছরে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে।
বর্তমানে পাইকারিপর্যায়ে বিদ্যুতের ভারিত গড়মূল্য প্রতি ইউনিট ৭ টাকা। নতুন সিদ্ধান্তে তা ১ টাকা ৩৯ পয়সা বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে খুচরাপর্যায়ে বিদ্যুতের গড়মূল্য ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ১০ টাকা ৬৩ পয়সায়।
একবারে এত বেশি বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি অযৌক্তিক বলে মনে করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিস) গবেষণা পরিচালক ও অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবীর।
আগামীর সময়কে তিনি বলছিলেন, বিদ্যুৎ খাতে যে ভর্তুকির চাপ, তাতে গ্রাহকপর্যায়ে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ বিদ্যুতের দাম বাড়ালে কিছুটা সহনীয় ছিল। কিন্তু এত বেশি মূল্যবৃদ্ধি মানুষের জন্য অসহনীয় হয়ে পড়বে।
‘বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি হলে সবকিছুতেই এর প্রভাব পড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, বিদ্যুতের দাম ১০ শতাংশ বাড়লে সার্বিক ব্যয় বাড়ে প্রায় চার গুণ— অর্থাৎ ৪০ শতাংশ। এতে মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। এমনিতেই করোনা মহামারী এবং অতীতের মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা এখনো সামাল দেওয়া যায়নি। নতুন করে দৈনন্দিন ব্যয় সামাল দেওয়া মানুষের জন্য খুবই কষ্টকর হবে,’ যোগ করেন তিনি।
দাম কতটুকু বাড়ল
নতুন ঘোষিত দর অনুযায়ী আবাসিক, কৃষি, শিল্প, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, সেচ ও বৈদ্যুতিক গাড়ির চার্জিং স্টেশন— সব শ্রেণির গ্রাহককেই আগের তুলনায় বেশি দাম গুনতে হবে।
নতুন ট্যারিফে আবাসিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ব্যবহারভেদে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৬৯ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ২ টাকা ৭৪ পয়সা পর্যন্ত বেড়েছে। শতাংশের হিসাবে বিভিন্ন শ্রেণিতে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত।
নতুন দর অনুযায়ী, আবাসিক প্রান্তিক গ্রাহকদের (০-৫০ ইউনিট) প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ টাকা ৩২ পয়সা, যা আগের চেয়ে ৬৯ পয়সা বা ১৪ দশমিক ৯০ শতাংশ বেশি। ০-৭৫ ইউনিট ব্যবহারকারীদের জন্য ইউনিটপ্রতি দাম ৬ টাকা ১৮ পয়সা, যা ৯২ পয়সা বা ১৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ ছাড়া ৭৬-২০০ ইউনিট ব্যবহারে প্রতি ইউনিটের দাম হবে ৮ টাকা ৫০ পয়সা, যা ১ টাকা ৩ পয়সা বেশি। ২০১-৩০০ ইউনিটের জন্য নতুন দর ৯ টাকা ১০ পয়সা, যা ১ টাকা ৫১ পয়সা বৃদ্ধি পেয়েছে। ৩০১-৪০০ ইউনিটের ক্ষেত্রে ইউনিটপ্রতি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ টাকা ৬২ পয়সা এবং ৪০১-৬০০ ইউনিটের জন্য ১৫ টাকা ১ পয়সা।
সবচেয়ে বেশি ব্যবহারকারী শ্রেণি— অর্থাৎ ৬০০ ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে প্রতি ইউনিটের জন্য গুনতে হবে ১৭ টাকা ৩৫ পয়সা, যা আগের তুলনায় ২ টাকা ৭৪ পয়সা বেশি।
কৃষি সেচে ব্যবহৃত বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ টাকা ৪ পয়সা। এ খাতে প্রতি ইউনিটে ৭৯ পয়সা বা ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে।
ক্ষুদ্রশিল্পের ফ্ল্যাট রেটে ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের দাম হয়েছে ১২ টাকা ৭৩ পয়সা, যা ১ টাকা ৯৭ পয়সা বেশি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উপাসনালয় ও হাসপাতালের জন্য ইউনিটপ্রতি নতুন দর ৯ টাকা ৫ পয়সা, যা আগের চেয়ে ১ টাকা ৫০ পয়সা বেশি।
রাস্তার বাতি ও পানির পাম্পে ব্যবহৃত বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ টাকা ৪৬ পয়সা। একইভাবে বৈদ্যুতিক গাড়ির চার্জিং স্টেশনের জন্য নতুন দর ১১ টাকা ৩৬ পয়সা, যা ১ টাকা ৭৪ পয়সা বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাণিজ্যিক ও অফিস শ্রেণির গ্রাহকদের জন্য ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের মূল্য ১৫ টাকা ৩৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ শ্রেণিতে দাম বেড়েছে ২ টাকা ৩৫ পয়সা বা ১৮ দশমিক ৬ শতাংশের বেশি।
শিল্প খাতেও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। ৩৩ কেভি শিল্প গ্রাহকদের জন্য ইউনিটপ্রতি নতুন দর ১২ টাকা ৭৫ পয়সা এবং ১৩২-২৩০ কেভি শিল্প গ্রাহকদের জন্য ১২ টাকা ৬৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই প্রতি ইউনিটে ২ টাকা করে দাম বাড়ানো হয়েছে।
উদ্বিগ্ন, ক্ষুব্ধ ভোক্তারা
বিদ্যুতের নতুন মূল্যহার নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম আগামীর সময়কে বললেন, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিইআরসি তার আইনি দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারেনি। বিদ্যুতের নতুন মূল্যহার নির্ধারণের মধ্য দিয়ে কমিশনের সেই ব্যর্থতা আবারও প্রকাশ পেয়েছে।
শামসুল আলম প্রশ্ন তোলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে গণশুনানি হলেও দাম কমানোর প্রস্তাব নিয়ে কখনো গণশুনানি হয় না কেন। তার দাবি, জনগণের পক্ষ থেকে বারবার ব্যয় কমিয়ে মূল্য কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হলেও সেগুলো গুরুত্ব পায় না। বরং ব্যয় বৃদ্ধির নানা যুক্তি সামনে এনে মূল্যবৃদ্ধির পথ সুগম করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে এই ব্যয়বৃদ্ধিকে তিনি ‘লুণ্ঠনমূলক ব্যয়’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা জীবন আহসান জানান, সবকিছুর দাম বাড়ছে। এখন বিদ্যুতের দামও বাড়ল। এতে নতুন করে আবার জিনিসপত্রের দাম বাড়বে। বিদ্যুতের বাড়তি ব্যয়ের সঙ্গে অন্যান্য ব্যয় সামাল দিয়ে সংস্কার চালানোই মুশকিল হয়ে দাঁড়াবে।
বিকেএমইএ সভাপতি হাতেম আলী আগামীর সময়কে বলছিলেন, আগের দামে বিদ্যুৎ বিল দিতেই অনেক কারখানার মালিক হিমশিম খাচ্ছেন। নতুন করে এই ব্যয় বহন করা অনেকের পক্ষেই অসম্ভব হবে। ব্যয় বৃদ্ধির ফলে কারখানার উৎপাদন ব্যয় বাড়বে। বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টেকা যাবে না। অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে কর্মসংস্থান কমবে।
ক্যাপাসিটি চার্জের ফাঁদে বিদ্যুৎ খাত
দেশের বিদ্যুৎ খাতের জন্য বড় ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ বা কেন্দ্র ভাড়া। বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও কেন্দ্রগুলোকে অলস বসিয়ে রেখে বিগত বছরগুলোয় সরকারকে বিপুল অঙ্কের অর্থ গুনতে হয়েছে, যার চূড়ান্ত মাশুল দিতে হচ্ছে সাধারণ জনগণকে।
বিইআরসির সাম্প্রতিক তথ্যমতে, ২০১১-১২ অর্থবছরে যেখানে বিদ্যুৎ খাতের ক্যাপাসিটি চার্জ ছিল মাত্র ৫ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা আকাশচুম্বী হয়ে দাঁড়ায় ৪৫ হাজার ৪৫১ কোটি টাকায়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই অলস ব্যয়ের পরিমাণ আরও বেড়ে ৫২ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা স্পর্শ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর ফলে ২০১১ সালে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে যেখানে ক্যাপাসিটি চার্জ ছিল ২ টাকা ৩৫ পয়সা, ২০২৬ সালে তা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে হয়েছে ৫ টাকা ৪৬ পয়সা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাস্তবসম্মত চাহিদার চেয়ে অতিরিক্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদনই এই সংকটের মূল কারণ। দেশে বর্তমানে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা যেখানে ১৮ হাজার মেগাওয়াট, সেখানে উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি করা হয়েছে ২৯ হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি। এই ১১ হাজার মেগাওয়াটের বিশাল উদ্বৃত্ত সক্ষমতার কারণে অলস বসে থাকা কেন্দ্রগুলোর পেছনেই খরচ হচ্ছে সিংহভাগ অর্থ। আর এই বিশাল লোকসানের ঘাটতি মেটাতে দফায় দফায় দাম বাড়িয়ে জনগণের ওপর চাপানো হচ্ছে চড়া মাশুল।
২৫ বছরের বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি
বিইআরসির যাত্রা শুরু হয় ২০০৩ সালে। আর ২০০৯ সাল থেকে এই কমিশন বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি করে আসছে। এর আগে বিদ্যুৎ বিভাগ দাম নির্ধারণ করত। অবশ্য আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে বিইআরসির ক্ষমতা খর্ব করে নির্বাহী আদেশে দফায় দফায় বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে। ওইসময় একই বছরে তিন দফায় ২০ শতাংশেরও বেশি মূল্যবৃদ্ধির রেকর্ড রয়েছে। যদিও বিইআরসি আইন অনুযায়ী এক বছরে একাধিকবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।
বিদ্যুৎ বিভাগ ও বিইআরসির তথ্যমতে, ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত চারবার বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। এ সময় গ্রাহকপর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বেড়েছে গড়ে ১৬ শতাংশ। আর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহণের পর ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত ১৪ বার বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করেছে। এ সময় গড়ে দাম বেড়েছে ১৮৮ শতাংশ।
গ্রাহকপর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ২০২৩ সালে সবচেয়ে বেশি বাড়িয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। ওই বছরের জানুয়ারিতে ৫ শতাংশ হারে দুই দফা এবং ফেব্রুয়ারিতে এক দফা বিদ্যুতের দাম বাড়ায় সরকার। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আরেক দফা ৫ শতাংশ বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়। এর সঙ্গে বাড়ানো হয় ডিমান্ড চার্জ।
চলমান প্যাকেজের আওতায় ঋণ দেওয়ার সময় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারকে বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকি থেকে পর্যায়ক্রমে বেরিয়ে আসার শর্ত দিয়েছিল আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।
এ লক্ষ্যে প্রতি বছর বিদ্যুতের দাম চারবার বাড়ানোর কথা জানিয়েছিলেন সাবেক বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিদ্যুতের কোনো দাম বাড়েনি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে অন্তত দুই বছর গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি না করার ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা এবং বিগত সরকারের আমলে নির্মিত অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাত্রাতিরিক্ত ক্যাপাসিটি চার্জ, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নসহ নানা কারণে সেই অবস্থা থেকে সরে আসে।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার আগের ৯ বছর ক্ষমতায় ছিল বিএনপি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এর মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় ছিল ২০০৭ থেকে ২০০৯ সালের আগ পর্যন্ত। এ সময় এক দফা বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়। ১০০ ইউনিট ব্যবহারকারী বিদ্যুতের দাম আড়াই টাকা ছিল। এ দাম অপরিবর্তিত ছিল। ৩০১-৪০০ ইউনিট ব্যবহারকারীর বিদ্যুৎ বিল বাড়ানো হয় ৫ শতাংশ। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হয় ৩ টাকা ১৫ পয়সা।
তত্ত্বাবধায়কের আগে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিল বিএনপি সরকার। এ সময় বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয় তিন দফা। প্রতি ১০০ ইউনিট ব্যবহারকারীর বিদ্যুতের দাম ২ টাকা ১৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে আড়াই টাকা করা হয়। আর ৩০১-৪০০ ইউনিট ব্যবহারকারীর বিদ্যুতের দাম না বাড়িয়ে কমানো হয়। এ শ্রেণির ব্যবহারকারীর বিদ্যুতের দাম ইউনিটপ্রতি ৩ টাকা ৩০ পয়সা থেকে কমিয়ে ৩ টাকা করা হয়।