Image description

রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় হওয়া মামলার আসামি সোহেল রানা ডলারের নামটি জবানবন্দিতে বলেননি, চার্জশিটেও নেই, সুতরাং ডলার একটি দেশের মুদ্রার নাম, এটি কোনো ব্যক্তি কি-না সেটা আগে যাচাই করতে হবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু।

বুধবার আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি শেষে এ কথা বলেন তিনি। শুনানি শেষে আগামীকাল বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্কের জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আদালতে শুনানি শেষে বিচারক আসামি সোহেল রানার কাছে কোনো কথা আছে কি না জানতে চান। এ সময় সোহেল রানা আবারও ডলার নামক একজনকে ধরতে বলেন।

আইনজীবী আরো বলেন, আসামি ‘সোহেল রানা আজ আদালতে তার দোষ স্বীকার করে, মাফও চেয়েছেন। আগামীকাল আদালত যুক্তিতর্কের জন্য দিন ধার্য করেছেন।’

অপরদিকে রাষ্ট্র নিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী শুনানি শেষে সাংবাদিকদের বলেন, সোহেল রানা আদালতে যা বলেছেন, তাতে দোষ স্বীকারই করে নিয়েছেন।

আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানিতে আদালতে সোহেল রানার কাছে বিচারক জানতে চান, আপনার কিছু বলার আছে কি না।পরে সোহেল বলেন, ‘জি স্যার, আমি নির্দোষ স্যার। আমার সঙ্গে যে ছিল ডলার, তাকে আপনারা ধরেন। আমি দোষ করিনি তা -না, আমিও দোষ করেছি।’

‘আমারে মাফ করে দিয়েন, আমার একটা ছোট ছাওয়াল আছে, আমার বউটা একদম নির্দোষ।’ পরে স্বপ্না আক্তারের কোনো কথা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কিছু করিনি, আমি নির্দোষ।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু আগামীকাল যুক্তিতর্কের জন্য দিন নির্ধারণ করার আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। পরে ১১টা ২৫ মিনিটে আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি শেষ হয়।

এদিন সকালে সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার এবং স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকার আদালতে আনা হয়। তাদের মহানগর হাজতখানায় রাখা হয়। পরে ১০টা ৪৭ মিনিটে সোহেল রানাকে ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ১০টা ৫৭ মিনিটে হাজতখানা থেকে আদালতে তোলা হয়। সকাল ১১টা ১০ মিনিটে কোর্টে ওঠেন।

পরে আজ আদালতে শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের এ মামলার বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু শুনানি করেন। এ সময় ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে আসামিপক্ষের রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমুল্যাহও উপস্থিত ছিলেন।

গত ১ জুন পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় বাদী আবদুল হান্নান মোল্লাসহ ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে গতকাল ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সমাপ্ত ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল।

এর আগে, গত ২৪ মে আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান। এরপর চার্জশিটটি আমলে গ্রহণ করে বিচারের জন্য ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। একই দিন ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য ১ জুন দিন ধার্য করেন।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশু রামিসা আক্তার (৮) পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে তার ফ্ল্যাটের রুমে নিয়ে যান। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকলে একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে তার জুতা দেখতে পান।

ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা ও অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসা আক্তারের (৮) মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান।

আসামি স্বপ্না আক্তারকে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পেয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, তার স্বামী আসামি মো. সোহেল রানা (৩০) হীন কামনা চরিতার্থ করার জন্য রামিসাকে বাথরুমের ভেতরে আটকে রেখে ধর্ষণ করে গলা কেটে হত্যা করেছে।

এ ঘটনায় ১৯ মে শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা দুইজনকে আসামি করে পল্লবী থানায় মামলা করেন। মামলার পর প্রথমে স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ২০ মে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। একই দিন আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানো হয়।

বিডি প্রতিদিন