যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কুয়েত ও বাহরাইনে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-১-এ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়াও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় রানওয়ে থেকে সব রুটের বাণিজ্যিক বিমান ওঠানামা সাময়িক স্থগিত রেখেছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (৩ জুন) সকালে কুয়েত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সৌদ আল-আতওয়ান এক্সে বলেছেন, শত্রু ড্রোন বিমানবন্দরের টার্মিনাল-১-কে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে।
কুয়েতের সরকারি সংস্থা কুনা জানিয়েছে, কারিগরি দলগুলো ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শন ও মূল্যায়ন করছে।
এর আগে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছে যে, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করা একটি ট্যাংকারকে অচল করতে যুক্তরাষ্ট্র হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে।
পরে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, তারা অঞ্চলে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলা প্রতিহত করেছে ও ইরানের কেশম দ্বীপের কয়েকটি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
ইরানের সংবাদ সংস্থা মেহের জানাযে, কেশম দ্বীপে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং তদন্ত চলছে।
এর জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
সেন্টকম জানিয়েছে, কুয়েতের দিকে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় বা মাঝপথেই ভেঙে পড়ে, আর বাহরাইনের দিকে ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন ও বাহরাইনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে ভূপাতিত করে।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে ইরানের কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছে। সেন্টকম আরও জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী সতর্ক রয়েছে এবং ইরানের অযাচিত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে প্রস্তুত।
বাহরাইনের সামরিক বাহিনী তাদের আনুষ্ঠানিক এক্স অ্যাকাউন্টে করা পোস্টে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ও বেশ কয়েকটি ড্রোন প্রতিহত করার কথা স্বীকার করেছে। তবে বাহরাইনের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততার কোনো উল্লেখ ছিল না।
সূত্র: আলজাজিরা, রয়টার্স, ওয়াশিংটন পোস্ট