সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে এবং ভালোভাবে জীবনযাপনের আশায় গত ৭ মে রাশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার মো. আমিনুল ইসলাম (৩০), পবিত্র চন্দ্র (৩৫) ও নজরুল ইসলাম (৪০)। রাশিয়ায় পৌঁছানোর পরপরই শেষবারের মতো পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করার সুযোগ পান তারা। এরপর তাদের মোবাইল ফোন নিয়ে জোরপূর্বক সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলে ঈদের রাতে কৌশলে পরিবারকে জানান মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি আরও জানান, দ্রুত তাদের উদ্ধার না করা হলে যুদ্ধের ফ্রন্টলাইনে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
জানা যায়, রাজধানীর নিকুঞ্জ-২ এলাকায় অবস্থিত জাবাল-ই-নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড (রিক্রুটিং লাইসেন্স নং: ২৫০৫) এজেন্সির মাধ্যমে কনস্ট্রাকশন ভিসায় রাশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার দক্ষিণ পাথালিয়া গ্রামের মৃত কছর উদ্দিনের ছেলে মো. আমিনুল ইসলাম। তার পরিবারে রয়েছেন বৃদ্ধা মা, স্ত্রী ও তিনটি ছোট সন্তান।
একই দিনে মজিদপুর গ্রামের পরেশ চন্দ্র সূত্রধরের একমাত্র ছেলে পবিত্র চন্দ্র তার বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী ও দুই সন্তানকে রেখে যান। এছাড়া বীর নলহরা গ্রামের মৃত ইসমাইলের ছেলে নজরুল ইসলাম তার বৃদ্ধা মা, স্ত্রী ও চার সন্তানকে রেখে যান।
তারা সবাই নিজেদের শেষ সম্বল বিক্রি করে, সুদে টাকা নিয়ে এবং ঋণ করে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা এজেন্সিকে প্রদান করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, জুলিয়া নামের এক নারীর মাধ্যমে ওই দিন ৩০ জনকে রাশিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানে একটি হলরুমে রাশিয়ান আর্মির পক্ষ থেকে তাদের ব্রিফ করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া গেছে। ওই ভিডিওতে সেই নারীকে ব্রিফিংয়ে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।
সরেজমিনে তিনটি পরিবারের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ঈদের দিনেও প্রতিটি বাড়িতে কান্নার রোল পড়েছে। সব পরিবারের একই প্রশ্ন, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির কোনো ক্ষতি হলে তাদের সংসার কীভাবে চলবে, সন্তানদের দেখাশোনা করবে কে?
পরিবারগুলোর দাবি, সরকার দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে তাদের উদ্ধার করুক এবং প্রতিশ্রুত সঠিক কর্মস্থলে পাঠানোর ব্যবস্থা করুক। এ ঘটনার পর থেকে এজেন্সিটির অফিস বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে এজেন্সির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান তাদের আর্মিতে দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে প্রতিবেদককে বলেন, আগামী মঙ্গলবারের মধ্যেই তাদের আর্মি থেকে ফিরিয়ে আনা হবে। এরপর তারা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। তিনি পরিবারগুলোকে উদ্বিগ্ন না হওয়ার অনুরোধ জানান।
এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ওয়েলফেয়ার সেন্টারের দায়িত্বরত কর্মকর্তা সাকিব মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ৩০ জনকে উদ্ধারের বিষয়ে কাজ চলছে।