ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির নতুন চেয়ারম্যান খুরশিদ আলমকে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে আবারও ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছেন হাজার হাজার গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডার।
সোমবার (১ জুন) সকালে রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস ও জলকামান ব্যবহারের ঘটনার পরও তারা সেখানে অবস্থান অব্যাহত রাখেন।
ইসলামী ব্যাংক ভুক্তভোগী গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিল এবং সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সরকারের হস্তক্ষেপে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ও এমডিকে সরিয়ে দিয়ে এস আলম গ্রুপ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আবারও ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মানববন্ধন কর্মসূচি শুরু হলে পুলিশ জলকামান, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে এবং লাঠিচার্জ চালায়। এতে বহু গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডার আহত হন। পরে আন্দোলনকারীরা পুনরায় সংগঠিত হয়ে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় ব্যাংকের সামনে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীরা মুখোমুখি অবস্থানে ছিল।
ইসলামী ব্যাংক ভুক্তভোগী গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক নুর নবী মানিক অভিযোগ করেন, গত ২৪ মে চেয়ারম্যান ও এমডিকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংক খুরশিদ আলমকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়। তিনি দাবি করেন, এই নিয়োগের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকে আবারও এস আলাম গ্রুপের প্রভাব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডাররা শুরু থেকেই এই নিয়োগের বিরোধিতা করে আসছেন। তাদের দাবি, খুরশিদ আলমের নিয়োগ বাতিল করতে হবে এবং ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ প্রকৃত উদ্যোক্তা ও মালিকদের হাতে ফিরিয়ে দিতে হবে।
নুর নবী মানিক আরও বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে ইসলামী ব্যাংকে পুনরায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে। এর প্রতিবাদে গত ২৪ মে দেশের বিভিন্ন শাখার সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। কিন্তু সরকারের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি দাবি করেন, ইসলামী ব্যাংক বর্তমানে তারল্য সংকটে রয়েছে। অনেক গ্রাহক চেকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করতে পারছেন না এবং বিভিন্ন এটিএম বুথেও নগদ অর্থের সংকট দেখা দিয়েছে। এ অবস্থার জন্য তিনি ব্যাংকটির বর্তমান ব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেন।
আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দিয়েছেন, নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলবে। একই সঙ্গে তারা ইসলামী ব্যাংক থেকে এস আলম গ্রুপের প্রভাবমুক্ত করার দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন।