Image description

লক্ষ্মীপুরে চুরির অপবাদ দিয়ে পঞ্চম শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন এবং জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দিনমজুর তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলায় ওই শিশু শিক্ষার্থীকে সাক্ষী করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ মে রাতে চররুহিতা ইউনিয়নের সায়েরা বেগম নামের এক নারীর বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই রাতেই সদর উপজেলার চররুহিতা ইউনিয়নের জামিয়াতুল আব্রাহ্ হেফজ মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধরে নিয়ে গিয়ে তার বাম হাতের বাহুতে ইনজেকশন পুশ করে নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে তার কাছ থেকে স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ২৪ মে সায়েরা বেগমের বাবা মমিন উল্লাহ বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এরপর থেকেই আসামি পক্ষের লোকজন পুলিশের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

রোববার দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন ভুক্তভোগী শিশুটির মা। তিনি ছেলের ওপর নির্যাতনের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানান। ভুক্তভোগী শিশুটির দাবি, তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয় এবং ইনজেকশন পুশ করার পর তার স্বাভাবিক স্মৃতিশক্তি ঠিক ছিল না। নির্যাতনের কারণে চাপের মুখে তিনি কয়েকজনের নাম বলেন।

তবে অভিযুক্ত সাদ্দামের মা রোকেয়া বেগম ও স্ত্রী রিমু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাকে ষড়যন্ত্র করে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তাদের দাবি, সাদ্দাম একজন দিনমজুর এবং ঘটনার সঠিক তদন্ত হওয়া উচিত।

মামলার বাদী মমিন উল্লাহ বলেন, পরিকল্পিতভাবে তার বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে এবং এসময় তার মেয়েকেও রক্তাক্ত করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।