Image description

ফেনীর আলোচিত কয়েকটি হত্যা মামলার পলাতক আসামিরা একসঙ্গে মালয়েশিয়ায় করেছেন ঈদ উদযাপন।তাদের একসঙ্গে তোলা কিছু ছবিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এ-নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলেছে নানা আলোচনা।  

জানা যায়, ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী ফেনীতে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মহিপালে সংঘটিত ১১ হত্যাকাণ্ডসহ দেড় ডজন মামলার পলাতক আসামি। ওই বছরের ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে যান তিনি।

রাজনৈতিক মহলের কয়েকজনের দাবি, বর্তমানে স্ত্রী নাসরিন হাজারী ও মেয়ে স্নিগ্ধা হাজারীকে নিয়ে মালয়েশিয়ায় বসবাস করছেন তিনি। গত ২৮ মে ঈদুল আজহার দিন ছবি তোলেন পরিবারের সদস্য ও কয়েকজন আত্মীয়ের সঙ্গে। পরে সেই ছবি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। পলাতক হওয়ার পর এটি তার প্রথম প্রকাশিত ছবি বলে জানা গেছে।

এদিকে ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একরামুল হক একরাম হত্যা মামলার ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আবিদুল ইসলামও অবস্থান করছেন মালয়েশিয়ায়। ২০১৪ সালের ২০ মে সন্ত্রাসী হামলায় একরাম নিহত হওয়ার তিন দিন পর রাজধানীর একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় দেন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও। কয়েক বছর কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়ে আত্মগোপনে চলে যান তিনি। পরবর্তীতে তার অনুপস্থিতিতে ২০১৮ সালের ১৩ মার্চ ফেনীর তৎকালীন জেলা ও দায়রা জজ আমিনুল হক আবিদসহ ৩৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। ওই মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামি এখনো পলাতক।

সম্প্রতি ঈদুল আজহার দিন তোলা একটি ছবি নিজেই প্রকাশ করেন আবিদ। কালো শেরওয়ানি পরা ওই ছবিতে তার পাশে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র তাহসিনা বাহার সূচনাকে দেখা যায়। সূচনাও হত্যাসহ ১৩টি মামলার পলাতক আসামি বলে জানা গেছে।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া আবিদ ও সূচনার ছবি। ছবি: সংগৃহীতএ বিষয়ে নিজাম হাজারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তার পৈতৃক নিবাস লমি হাজারী বাড়ির লোকজনও তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারেননি। তবে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তোফায়েল আহমেদ তপু টেলিফোনে দাবি করেন, মহিপালের ঘটনায় নিজাম হাজারী জড়িত নন, বরং পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের শিকার তিনি।

অন্যদিকে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মহিপালে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন টমটমচালক মো. সবুজ। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার অভিযোগ গঠন গত ৫ মে সম্পন্ন হয়েছে। মামলার বাদী ও নিহত সবুজের বড় ভাই মো. ইউসুফ পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করে দাবি জানিয়েছেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির। এ মামলার প্রধান আসামি নিজাম উদ্দিন হাজারী।

পলাতক আসামিদের বিষয়ে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম বলেন, ‘হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে রয়েছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। তাদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।’