Image description

হজ পালন করতে গিয়ে ইসলামের পবিত্রতম স্থান সৌদি আরবে এবার ৩১ জন বাংলাদেশি হাজি মৃত্যুবরণ করেছেন। যাদের বেশিরভাগের বয়স ৬০ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে। হজের শ্রমসাধ্য কাজ বয়স্ক বয়সে করতে গিয়ে মক্কা-মদিনাতেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। তবে কিছুটা স্বস্তির বিষয় হলো, আগের বছরগুলোর তুলনায় এবার বাংলাদেশি হাজি মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে মৃত্যুবরণ করা ৩১ জন বাংলাদেশি হাজির বয়সসীমা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এর মধ্যে ৬০ থেকে ৮০ বছর বয়সী ছিলেন ২২ জন। অর্থাৎ মোট মৃত হাজির প্রায় ৭১ শতাংশই ছিলেন বয়স্ক মানুষ। বাকি ৯ জন হাজির বয়স ছিল ৬০ বছরের নিচে। এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট হয় যে বার্ধক্য ও শেষ বয়সের শারীরিক জটিলতাই বাংলাদেশি হাজিদের মৃত্যুর প্রধান কারণ।

বয়স্ক বয়সে হজে যাওয়ার হার বেশি হওয়ায় বাংলাদেশিদের মৃত্যু বেশি হয় বলে মনে করেন হজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) চট্টগ্রামের সাবেক চেয়ারম্যান শাহ আলম। তার ভাষ্য, হজ অত্যন্ত শারীরিক শ্রমসাধ্য একটি ইবাদত। সৌদি আরবের শুষ্ক ও বৈরী আবহাওয়ায় এই পরিশ্রমী কাজ করতে গিয়ে বাংলাদেশি হাজিরা জীবন হারান। তাই শেষ বয়সের জন্য অপেক্ষা না করে তুলনামূলক কম বয়সে এবং শারীরিকভাবে সক্ষম থাকাকালীন হজ সম্পন্ন করার মানসিকতা তৈরি করা জরুরি।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ৩১ জন হাজির মৃত্যুর প্রধান কারণ ছিল বার্ধক্যজনিত শারীরিক দুর্বলতা ও অক্ষমতা। তীব্র গরম ও প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে সৃষ্ট মানসিক ও শারীরিক চাপের ফলে হৃদরোগ, হিটস্ট্রোক এবং পূর্বের দীর্ঘস্থায়ী রোগ যেমন অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, শ্বাসকষ্ট বা অ্যাজমা এবং কিডনি জটিলতা হজের কঠোর পরিশ্রমের সময় তীব্র আকার ধারণ করায় এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

তবে কিছুটা স্বস্তির বিষয় হলো, ২০২৩ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত চার বছরে হজে বাংলাদেশি হাজি মৃত্যুর হার ক্রমান্বয়ে কমেছে। ২০২৩ সালে যেখানে সর্বোচ্চ ১২১ জন হাজি মারা যান, তা ২০২৪ সালে ৬৫ জনে, ২০২৫ সালে ৪৮ জনে এবং ২০২৬ সালে ৩১ জনে নেমে এসেছে। এ বছরই সবচেয়ে কম বাংলাদেশি হাজি মারা গেছেন।

হজ অফিসের স্বাস্থ্য বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, এবার হাজিদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। হেলথ কার্ড ব্যবস্থার তদারকি আগের চেয়ে বেশি ছিল। এতে অসুস্থ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশিরা সৌদি আরবে চিকিৎসা নিতে পেরেছেন। ফলে অনেক মৃত্যুই এড়ানো সম্ভব হয়েছে। আগামীতে এ বিষয়ে আরও মনোযোগ বাড়ানো হবে। তবে শারীরিক সক্ষমতা থাকাকালেই হজ পালন করলে মৃত্যুহার আরও কমানো সম্ভব।

বিসমিল্লাহ ওভারসিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল আনোয়ার বললেন, ‘হজ এজেন্সি এবং হাজিদের সচেতনতা ছাড়া মৃত্যু এড়ানো সম্ভব নয়। আর যারা সৌদি আরবে মারা যান, তাঁদের সেখানেই দাফন করা হয়; লাশ বাংলাদেশে আনা হয় না।’

সৌদি আরবের পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, এ বছর বিশ্বের মোট প্রায় ১৭ লাখ মানুষ পবিত্র হজ পালন করেছেন। এর মধ্যে বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছেন ১৫ লাখ ৪৬ হাজার জন এবং সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ হাজি ছিলেন ১ লাখ ৬০ হাজার জন।

হজে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি দেশের তালিকায় বরাবরের মতোই সর্বোচ্চ ২ লাখ ২১ হাজার হাজি নিয়ে প্রথম অবস্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া। এরপর দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে পাকিস্তান (১ লাখ ৭৯ হাজার) এবং ভারত (১ লাখ ৭৫ হাজার)। তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ থেকে এ বছর ৭৮ হাজার জন হজ পালন করেছেন।