বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ বাংলাদেশ। কিন্তু এই বিশাল শিল্পের একটি নেতিবাচক দিক হলো পরিবেশ দূষণ। এই দূষণ কমিয়ে পোশাক শিল্পকে কীভাবে পরিবেশবান্ধব করা যায়, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) ডাইস অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং বায়োমেডিকেল রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (বিআরএফ) নির্বাহী পরিচালক ড. মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দিন শায়ক।
তাঁর এই নিরলস গবেষণারই এক অনন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মিললো এবার। গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এশিয়ার সেরা ১০০ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান পেয়েছেন তিনি।
বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় এশিয়ার শ্রেষ্ঠ গবেষকদের সম্মান জানাতে সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিজ্ঞান বিষয়ক সাময়িকী 'এশিয়ান সায়েন্টিস্ট' প্রতিবছরের মতো এবারও এই তালিকা প্রকাশ করেছে। চলতি বছর ‘দ্য এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ১০০’ শিরোনামে প্রকাশিত এই তালিকায় প্রকৌশল বিভাগে স্থান পেয়েছেন ড. আব্বাস উদ্দিন।
মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশবান্ধব ফ্যাশন উদ্ভাবন প্রতিযোগিতা 'গ্লোবাল চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড ২০২৫'-এ বিশ্বের সেরা ১০ উদ্ভাবকের একজন নির্বাচিত হয়েছিলেন ড. আব্বাস উদ্দিন। গতবছরের ২০ মে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের ওল্ড বেল-এ আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তার যুগান্তকারী আইডিয়া 'ডিকার্বনাইজেশন ল্যাব' এর জন্য তাঁকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। তাঁর উদ্ভাবনী প্রকল্প "ডিকার্বনাইজেশন ল্যাব ফর টেক্সটাইল প্রসেস ইনোভেশন" এর মাধ্যমে টেক্সটাইল কারখানায় এমন একটি ডাইং ও ট্রিটমেন্ট প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করা যাবে, যা পোশাক শিল্পে কার্বন নিঃসরণ উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনবে। ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির কারণে পরিবেশে যে বিরূপ প্রভাব পড়ছে, সেটি মোকাবিলায় এই উদ্ভাবন একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সেই অর্জনের সূত্র ধরেই এবার এশিয়ার সেরা বিজ্ঞানীদের কাতারে তাঁর নাম উঠে এসেছে।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ড. আব্বাস বলেন, এটিকে আমি গবেষণা, শিল্প–সহযোগিতা এবং বাস্তব সমস্যার সমাধানভিত্তিক কাজের প্রতি একটি উৎসাহ হিসেবে দেখছি। বিশেষ করে, এটি যদি তরুণ শিক্ষার্থী ও গবেষকদের আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে, যে বাংলাদেশ থেকেও বৈশ্বিক পর্যায়ে অবদান রাখা সম্ভব তাহলে সেটিই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
২০২৬ সালের এই তালিকায় ড. আব্বাসের পাশাপাশি দেশের আরও কৃতী গবেষক স্থান পেয়েছেন। তাঁরা হলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মারজানা আক্তার এবং আইসিডিডিআর, বি-এর প্রখ্যাত জনস্বাস্থ্য বিজ্ঞানী ড. তাহমিদ আহমেদ।
এশিয়ান সায়েন্টিস্টের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এই তালিকায় স্বীকৃতি পেতে হলে সম্মাননাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে তার গবেষণার জন্য পূর্ববর্তী বছরে একটি জাতীয় বা আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেতে হবে। বিকল্পভাবে, তাকে একটি উল্লেখযোগ্য বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার করতে হবে অথবা শিক্ষা বা শিল্পক্ষেত্রে নেতৃত্ব প্রদান করতে হবে।
টেক্সটাইল খাতে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি উন্নয়নে ড. আব্বাসের এই অর্জন বাংলাদেশের জন্যও একটি গর্বের বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেশের টেক্সটাইল গবেষণাকে আরও এগিয়ে নিতে অনুপ্রেরণা জোগাবে।