Image description

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থানরত শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে ‘ঈদ-ই ইখওয়ান’ শীর্ষক মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা কলেজ শাখা। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুর ২টায় কলেজ ক্যাফেটেরিয়ায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও অংশ নেন।

আয়োজকরা জানান, ঈদের ছুটিতে অনেক শিক্ষার্থী বিভিন্ন কারণে বাড়ি যেতে পারেন না। তাদের মাঝে পারিবারিক উষ্ণতা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন তৈরির লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, পরিবারের বাইরে থেকেও ক্যাম্পাসে এমন আয়োজন তাদের মাঝে ঈদের অনুভূতি তৈরি করেছে। বিশেষ করে যারা আর্থিক, ব্যক্তিগত কিংবা দূরত্বজনিত কারণে বাড়ি যেতে পারেন না, তাদের জন্য এমন আয়োজন মানসিক স্বস্তি ও পারিবারিক উষ্ণতার অনুভূতি তৈরি করেছে।

 

রাকিবুল নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরেই ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা ও সংকট নিরসনে পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। ঈদকে কেন্দ্র করে এই মধ্যাহ্নভোজ সেই সম্পর্ককে আরও গভীর করেছে। পরিবারের বাইরে থেকেও আজ মনে হয়েছে আমরা একা না। বড় ভাইদের আন্তরিকতা ও আপ্যায়নে ক্যাম্পাসটাই পরিবারের মতো মনে হয়েছে।

 

সংগঠনটির কলেজ শাখার সেক্রেটারি সাইমুন ইসলাম সানি বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা ত্যাগ, সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের অনন্য শিক্ষা দেয়। সেই চেতনাকে ধারণ করে ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা কলেজ শাখার উদ্যোগে শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মানে এই মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে নিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।

 

সভাপতি মোস্তাকিম আহমেদ বলেন, ঢাকা কলেজ শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, এটি আমাদের দ্বিতীয় পরিবার। ঈদের সময় অনেক শিক্ষার্থী নানা কারণে পরিবারের কাছে যেতে পারে না। তাদের একাকীত্ব দূর করে ক্যাম্পাসে যেন ঈদের আনন্দ ও পারিবারিক আবহ তৈরি হয়, সেই ভাবনা থেকেই আমাদের এই আয়োজন।

তিনি আরও বলেন, আমরা বিশ্বাস করি একজন শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ানো শুধু রাজনৈতিক দায়িত্ব নয়, এটি মানবিক দায়িত্বও। শিক্ষার্থীদের সুখ-দুঃখ, সংকট ও অনুভূতির জায়গাগুলোকে গুরুত্ব দিয়েই ছাত্রশিবির কাজ করে যাচ্ছে। আজকের এই আয়োজনের মাধ্যমে আমরা শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাঝে ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যের একটি সুন্দর বন্ধন তৈরি করতে চেয়েছি। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীবান্ধব আয়োজনের মাধ্যমে আমরা সবার পাশে থাকার চেষ্টা অব্যাহত রাখব।