মেহেরপুরে ঈদের নামাজ শেষে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে পূর্ব বিরোধের জেরে সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সদর উপজেলার কালিগাংনী গ্রামে সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের নামাজ শেষে কালিগাংনী গ্রামের নাসিরুদ্দিন বাড়ি থেকে বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় মনোয়ার হোসেনের ছেলে মিঠুর সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি ও পরে হামলার ঘটনা ঘটে। কয়েক দিন আগে একই গ্রামে ইয়ার বকসের ছেলে নিফাজ আলীর ওপর হামলার ঘটনার জেরে এলাকায় উত্তেজনা চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় দুই পক্ষ মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসানের সমর্থক সোহান আলী (৩৪), ইমাদুল (৪০), জিমাদুল ইসলাম (৪৩) ও সাইফুল ইসলাম। অপর পক্ষের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ অরুনের সমর্থক একলাচ (৪২), মজিদুল ইসলাম (৩৫), তার স্ত্রী খাদিজা খাতুন (৩০), শ্যালক ফাহিম (৩০), মনিরুল ইসলাম (৬২) এবং মিঠু (৩৩)।
আহতদের উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল ও কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান ঘটনাটির বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, ছোট একটি গ্রামের মধ্যে দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও রাজনৈতিক বিরোধের কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। অতীতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিরোধ নিরসনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও সমাধান হয়নি। আহতরা আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি।
মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবীর জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।